বাংলাদেশের তাবৎ বিধর্মীরা সারা বছরে সর্বোচ্চ আধাবেলা ছুটি প্রাপ্য


বাংলাদেশ শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমান অধুষ্যিত দেশ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রদ্বীন হচ্ছে ইসলাম। কিন্তু বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মকে প্রাধান্য দেয়ার বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে উপেক্ষিত। সরকারী ছুটির বেলাতেও একটি চিত্র দেখা যায়। বাংলাদেশ সরকার প্রণীত সরকারী ছুটি তালিকায় ইসলাম ধর্মসহ অন্যান্য ধর্মের জন্য ধর্মীয় ছুটি মোট ৪৩ দিন। এর মধ্যে ৯৭ ভাগ মুসলমানদের জন্য মাত্র ১৬ দিন ছুটি বরাদ্দ আছে যা মোট ছুটির মাত্র ৩৭ ভাগ। অথচ ২ ভাগ যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য হিন্দুদের জন্য ১১ দিন ছুটি বরাদ্দ আছে যা মোট ছুটির ২৬ ভাগ! আর ১ ভাগ বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও উপজাতির জন্য ১৬ দিন ছুটি বরাদ্দ আছে যা মোট ছুটির ৩৭ ভাগ! মুসলমানদের জন্য বরাদ্দকৃত এত অল্প ছুটি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না কারণ গনতান্ত্রিক রীতিতে সংখ্যাধিক্যদেরকে প্রাধান্য দেয়ার বিধান রয়েছে।

 

তাই ৯৭ ভাগ মুসলমানদের ১৬ দিনের ধর্মীয় ছুটির অনুপাতে ২ ভাগ যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য হিন্দুরা মাত্র ০.৩৩ দিন এবং বৌদ্ধ,খৃষ্টান ও উপজাতি মিলে মাত্র ০.১৭ দিন ছুটি পেতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের তাবৎ বিধর্মীদেরকে সারা বছরে সর্বোচ্চ আধাবেলা ঐচ্ছিক ছুটি দেয়া যেতে পারে। অন্যদিকে মুসলমানদের ইসলামিক পর্বগুলোতে পর্যাপ্ত ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে। বছরে ৫২ সপ্তাহের ৫২ দিন শনিবারের সরকারি ছুটি বাতিল করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম বিলাদত শরীফ-এর বার ইছনাইনিল আযীমি অর্থাৎ সোমবার শরীফ সরকারী ছুটি ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া মুসলমানদের জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে কমপক্ষে ৩০ দিন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কমপক্ষে ৭ দিন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কমপক্ষে ১০ দিন এবং অন্যান্য ইসলামিক পর্বগুলোতে কমপক্ষে ৩ দিন বাধ্যতামুলক সরকারি ছুটি দিতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. গবেষণাধর্মী পোস্ট দেয়ার জন্য অনেক শুকরিয়া।

    ১০০ ভাগ সহমত।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে