সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশের তেল, তুলছে ভারত!


বাংলাদেশের মাটি প্রাকৃতিক সম্পদের এক অপূর্ব সম্ভার। দেশের এ সম্পদকে কাজে লাগানো গেলে কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের পথ যেমন সুগম হবে তেমনি দেশ পাবে বাড়তি অর্থ। অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ২০ কোটি মানুষের এ দেশ। তবে সব সরকারই এসব বিষয়ে উদাসীন থাকে। দেশের খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার না করে স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেই ব্যস্ত দেশের সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য। এমন ঘটনা ঘটেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেলের খনির বেলায়। সরকারি অর্থ ব্যয় করে প্রকল্প গ্রহণ করে জ্বালানি তেল অনুসন্ধান কাজ শেষে তেল উত্তোলন শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হবার পর রহস্যজনক কারণে তা কৌশলে তুলে দেয়া হয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশের হাতে। আমাদের দেশের মূল খনিমুখ চিরতরে বন্ধ করে দেবার পর ভারত সরকার তার সীমানায় একই খনির একটি অংশ থেকে প্রতিদিন পাইপ লাইনের মধ্যমে হাজার হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যারেল তেলের বিপরীতে তারা আয় করছে প্রচুর অর্থ। আর সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের মূল খনিমুখে গড়ে উঠছে বসতবাড়ি। বাড়ছে চাষাবাদ, বাড়ছে ফসল উৎপাদন। প্রয়োজন না থাকলেও গড়ে উঠছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তার নিচে জ্বালানি তেলের খনিকে চিরতরে চাপা দেয়ার পাঁয়তারা করছে সরকার। জ্বালানি তেল উত্তোলনের দাবি থাকলেও তা আলোর মুখ দেখছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেলের খনির অবস্থান উত্তরাঞ্চলের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান নামক স্থানে। ১শ ৮৯ দশমিক ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঐ উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী শালবাহান নামক স্থানে। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে সন্ধান মেলে জ্বালানি কেরোসিন তেলের খনির। সে সময় পেট্রোলিয়াম ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে অনুসন্ধান চালানো হয় দেশের উত্তরের নীলফামারী, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলায়। পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৫ হাজার পয়েন্ট গভীরে এ খনির অবস্থান নিশ্চিত করার পর শুরু হয় স্বপ্ন দেখা। সে স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে ফরাসী কোম্পানি অনুসন্ধান চালায়। টানা দু’বছর ধরে অনুসন্ধান শেষে বিশেষজ্ঞ দল নিশ্চিত হয় তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৯০০ মিটার গভীরে রয়েছে উত্তোলনযোগ্য জ্বালানি তেল। যার মধ্যবিন্দু শালবাহান এলাকার কূপ খননের জন্য শেল পেট্রোলিয়াম কোম্পানি বাংলাদেশ বিদেশী কোম্পানি ফরাসল-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে খনির কূপ খনন কাজ শুরু করে। ১৯৮৮-৮৯ সালের জাতীয় বাজেটে ৩৫ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়। ১৯৮৮ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে খনির তেল উত্তোলনের কাজ উদ্বোধন করেন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই রহস্যজনক কারণে একটি হেলিকপ্টার এসে খনি এলাকায় তিনবার ঘুরে চলে যায়। তারপর শুরু হয় রহস্যময়তা। যার সূত্র ধরে টানা তিনদিন মূল খনির মুখে পাথর, সিমেন্ট ও সীসা ফেলে ঢালাই করে দেয়া হয়। এরপর পাততাড়ি গুঁটিয়ে চলে যায় সবাই।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে