বাংলাদেশের যে সমস্ত জেলাগুলো কাফির-মুশরিকদের নামে রাখা হয়েছে


প্রত্যেকটি জিনিসের একটি তাছির বা প্রভাব আছে, হোক সেটা ভাল কিংবা মন্দ। তেমনি বাংলাদেশের মত মুসলমানের এই দেশে অনেক স্থান বিশেষ করে জেলার নাম অমুসলিমদের নামে নামকরণ করা হয়েছে; যা মোটেও উচিত নয়। অস্পৃশ্যদের দেশ ভারত যদি “মাদানীপুর”কে পরিবর্তন করে “মেদিনীপুর” আর “আহমদাবাদ”কে পরিবর্তন করে “এহমাদাবাদ” রাখতে পারে কিংবা জঙ্গি ইসরাইল যদি “দারুস সালাম”কে “জেরুজালেম” বা “বায়তুল্লাহাম”কে “বেথেলহাম” রাখতে পারে। তেমনিভাবে কোন সামরিক শাসকের নামে বিমানবন্দরের নাম যদি পরিবর্তন করে আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নামে নামকরণ করা যায়, তবে ৯৭% মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে কোন স্থানের নাম অমুসলিমদের নামে হতে পারে না। তাই সরকারের প্রতি নিচে উল্লিখিত জেলাগুলোর নাম আশু পরিবর্তন করার অনুরোধ রইল:
নারায়ণগঞ্জ: ১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বিকন লাল পান্ডে (বেণুর ঠাকুর বা লক্ষ্মীনারায়ণ ঠাকুর নামেও পরিচিত) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট থেকে এ অঞ্চলের মালিকানা গ্রহণ করে। সে নারায়ণের সেবার ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি উইলের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। তাই পরবর্তীকালে নারায়ণের নামানুসারে এ স্থানের নাম হয় “নারায়ণগঞ্জ”। এটি যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ রাজারবাগ দরবার শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পূর্ব-পুরুষগণ উনাদের অবস্থানস্থল। তিনি উনার পবিত্র ক্বওল মুবারকে এ জেলার নাম “নূরানীগঞ্জ” রাখার জন্য বলেন।
গোপালগঞ্জ: “গোপালগঞ্জ” নামটি অস্পৃশ্য হিন্দুদের নাম “গোপাল” থেকে উদ্ভূত হয়েছে। তাই ৯৭% মুসলমানের এই দেশে কোন হিন্দুর নামে জেলার নাম হতে পারে না। “গোপালগঞ্জ” নাম পরিবর্তন করে “গোলাপগঞ্জ” রাখা যেতে পারে।
ঠাকুরগাঁও: “ঠাকুরগাঁও” এর আদি নাম ছিল “নিশ্চিন্তপুর”। কয়েকজন বিত্তশালী মানুষের খেয়ালী ইচ্ছাকে পূরণ করতে সাধারণের প্রিয় জনপদ নিশ্চিন্তপুরকে পাল্টে করা হয় ঠাকুরগাঁও। ঠাকুরগাঁওয়ের নাম যে নিশ্চিন্তপুর ছিল তার তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এতদিন আমাদের হাতের কাছে ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি একটি মানচিত্র আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে ঠাকুরগাঁওয়ের আদি নাম ছিল ‘নিশ্চিন্তপুর’। সতেরশ শতাব্দীতে কোচ বিহারের মানচিত্রে সংলগ্ন এলাকার যে অবস্থান দেখানো হয়েছে তাতে ঠাকুরগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর নামে দুটি আলাদা জায়গা চিহ্নিত রয়েছে। টাঙ্গন নদীর পূর্ব প্রান্তে দেখানো হয়েছে নিশ্চিন্তপুর এবং এরই কিছুটা উত্তর-পশ্চিমে টাঙ্গন নদীর পশ্চিম প্রান্তে দেখানো হয়েছে ঠাকুরগাঁও। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে টাঙ্গন নদীর পূর্ব প্রান্তের নিশ্চিন্তপুর থেকেই পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও নাম দিয়ে সদরের নামকরণ করা হয়। তাই “ঠাকুরগাঁও” এই হিন্দুয়ানী নাম বাদ দিয়ে আদি নাম “নিশ্চিন্তপুর” রাখা উচিত
নরসিংদী: কথিত আছে প্রাচীনকালে এ অঞ্চলটি “নরসিংহ” নামক হিন্দু রাজার শাসনাধীন ছিল। আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে রাজা নরসিংহ প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে “নরসিংহপুর” নামে একটি ছোট নগর স্থাপন করেছিল। কালের বিবর্তনে “নরসিংহ” নামের সাথে ‘দী’ যুক্ত হয়ে “নরসিংহদী” হয়েছে। “নরসিংহদী” শব্দের পরিবর্তিত রূপ হল “নরসিংদী”। মুক্তিযুদ্ধের বীর শ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের নামে “মতীগঞ্জ” রাখা যেতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ১৮৭৫ সালে “নাসিরনগর” মহকুমার নাম পরিবর্তন করে “ব্রাহ্মণবাড়িয়া” মহকুমা করা হয়। পরবর্তীতে তা জেলায় উন্নীত হয়। তাই হিন্দুদের জাত “ব্রাহ্মণ” থেকে উদ্ভূত নাম বাদ দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারক “নাসির” থেকে উদ্ভূত নাম “নাসিরনগর” রাখা উচিত
লক্ষ্মীপুর: “লক্ষ্মীপুর” নামটিও অস্পৃশ্য হিন্দুদের দেবী ‘লক্ষ্মী’র নাম থেকে উৎপত্তি হয়েছে। তাই এই নাম পরিবর্তন করে “নূরপুর” রাখা যেতে পারে ।
কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা। জলদস্যু, ছিনতাইকারী, যবন, ম্লেচ্ছ ব্রিটিশ নৌ-ক্যাপ্টেন “হিরাম কক্স” এর নামানুসারে এ জেলার নামকরণ করা হয়েছে। সে এখানে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করে। যা ‘ককস সাহেবের বাজার’ এবং পরবর্তীতে “কক্সবাজার” নামে পরিচিত পায়। তাই “কক্সবাজার” নাম পরিবর্তন করে খোদা বখশ বাজার রাখা যেতে পারে।
ময়মনসিংহ: জেলার নাম ময়মনসিংহ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তার পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ’র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই “নসরতশাহী” বা “নাসিরাবাদ” নামের সৃষ্টি। জেলা পত্তনকালে ময়মনসিংহ অঞ্চলের সমৃদ্ধ জমিদারগণ সরকারের কাছে জেলার নাম ময়মনসিংহ রাখার আবেদন করলে সরকার তা গ্রহণ করে নেন। তাই ময়মনসিংহের নাম পরিবর্তন করে পূর্বনাম “নসরতশাহী” বা “নাসিরাবাদ” রাখা হোক
কিশোরগঞ্জ: ১৭৮৭ সালের ১লা মে ভারতীয় উপমহাদেশের এক সময়কার বৃহত্তম জেলা ময়মনসিংহ প্রতিষ্ঠিত হয়। আজকের কিশোরগঞ্জ জেলা তখনকার ময়মনসিংহের অর্ন্তগত বিজ্ঞজনের ধারণা ও জনশ্রুতি থেকে অনুমান করা হয় যে এ জেলার জমিদার “ব্রজকিশোর” মতান্তরে “নন্দকিশোর প্রামাণিকের” ‘কিশোর’ এবং তার প্রতিষ্ঠিত হাট বা গঞ্জের ‘গঞ্জ’ যোগ করে কিশোরগঞ্জ’ নামকরণ করা হয়েছে। তাই এই হিন্দুয়ানী নাম পরিবর্তন করা প্রয়োজন। মোঘল আমলে বাংলাদেশের এক সময়কার বিশ্বখ্যাত উৎকৃষ্ট মসলিন তৈরির জন্য এ জেলার বাজিতপুর উপজেলা বিখ্যাত ছিল। তাই এ জেলার নাম “মসলিনপুর” রাখা যেতে পারে

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

২টি মন্তব্য

  1. আচ্ছা ভাইয়া! মানুষের নামও কি এরকম হতে পারে?? এ বিষয়ে একটু লিখবেন?? Mail

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে