বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী দূতাবাস ও কূটনীতিকদের প্রসঙ্গে


সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তারাসহ একাধিক দেশের কূটনীতিকদের অপতৎপরতা তারা নানান ছুতানাতা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ দেশের স্বাধীন ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে চু-চেরা এমনকি মুসলমানদের ধর্মীয় নানাবিধ বিষয় নিয়ে নানা প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সেমিনার, বৈঠক করে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে- আদৌ কি বাংলাদেশের এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা, কূটনৈতিক পরামর্শ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদেরকে হস্তক্ষেপ করতে দেয়ার কোনো প্রয়োজন রয়েছে?

যদি তাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সম্পর্ক আদৌ প্রয়োজন হয়, তাহলে সর্বপ্রথম দেখতে হবে- এতে বাংলাদেশের জনগণের কি লাভ ও এর দ্বারা জনসাধারণ কি কি বিষয়ে উপকৃত হবে। এবং কোনোক্রমেই যেন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম নিয়ে মুসলমানদের নিয়ে সামান্য ক্ষতি করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।
উল্লেখ্য যে, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার দরুন সারাদেশে পেট্রোলবোমায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানীর বিষয়ে তাদের মায়াকান্না বেড়ে যায়। তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়- তারা বুঝি অনেক ইসলাম ও মুসলমান দরদি; মুসলমানের ব্যথায় ব্যথিত। এবং তারা বলে থাকে যে- মুসলমানরা সন্ত্রাসী; বাংলাদেশের মুসলমানের সাথে তালেবান, আইএস ও আল-কায়েদার কানেকশন আছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
পক্ষান্তরে বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলমানকে নির্যাতন করা হচ্ছে, কষ্ট দেয়া হচ্ছে। মুসলমানদেরকে অকাতরে শহীদ করা হচ্ছে। বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানো হচ্ছে। এমনকি মুসলমানের ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কটূক্তি করা হচ্ছে। মুসলমানদেরকে জোর করে কাফির বানানো হচ্ছে। নামায পড়তে দেয়া হচ্ছে না। রোযা রাখতে বাধা দেয়া হচ্ছে। হিজাব বা পর্দা করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। জোর করে হারাম জন্তুর গোস্ত খাওয়ানো হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! এমনকি সাম্প্রতিককালে “নাচতে বাধ্য হলেন ইমামরা” শিরোনামে একটা সংবাদ এসেছে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ৮ পৃষ্ঠায়। তাতে উল্লেখ আছে যে- ‘চীনে ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর খড়গ হস্তের খবর প্রায় শোনা যায়। চীনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জিনজিয়াং প্রদেশের ইমামদের নাচতে বাধ্য করেছে কর্তৃপক্ষ।’ নাউযুবিল্লাহ! একই সাথে ইমামদের শপথ করানো হয়- ‘তারা কখনো বাচ্চাদের সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শিক্ষা দিবে না এবং বলবে প্রার্থনা আত্মার ক্ষতি করে।’ এবং ইমামদেরকে সেøাগান দিতে বাধ্য করা হয়- ‘মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে নয়, আমাদের খাবার আসে সিকেপিথেকে।’ নাউযুবিল্লাহ! ‘বাচ্চাদেরকে পবিত্র মসজিদে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে এবং প্রার্থনা আত্মার জন্য ক্ষতিকর এটা বোঝানোর পাশাপাশি নাচের প্রতি উৎসাহিত করতে হবে।’ -ওয়ার্ল্ড বুলেটিন।
এখন আমার বলার বিষয় হচ্ছে যে- চীনসহ কাফিরদের সমস্ত দেশে মুসলমানগণ উনাদের প্রতি চরম যুলুম নির্যাতন করা হচ্ছে; তখন কাফিরদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না? তখন কাফিররা সন্ত্রাসী হয় না? তাদের মায়াকান্না তখন কোথায় যায়? এবং ঐ সমস্ত দূতাবাসের মুসলমান প্রতিনিধি যারা থাকে তারাও এ বিষয়ে সামান্যতম প্রতিবাদ করে না। বাংলাদেশসহ সমস্ত মুসলিম সরকার এ বিষয়ে একেবারে নির্বিকার অথর্ব যেন বোবা শয়তান। অথচ কাফিরদের মন্দির নিজেরাই ভেঙ্গে ক্ষতিপূরণ আদায় করছে মুসলমানদের থেকে। বিপরীতে মুসলমানরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। এখানে উল্লেখ্য যে- বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন কাফিরদের বিষয়ে তাদের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাদের ভালোমন্দ ধর্ম-কর্মের খোঁজ-খবর নেয়; কিন্তু বাংলাদেশ সরকারপ্রধান বিদেশে গিয়ে মুসলমানদের ধর্ম-কর্মের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া তো দূরের কথা; বরং কাফিররাষ্ট্রের সাথে আঁতাত করে মুসলমানদেরকে নির্যাতনে সহায়তা করছে। নাউযুবিল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে