বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে


মহান আল্লাহ পাক তিনি মহা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে মহাপবিত্র ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদী অতঃপর মুশরিকদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)
তারই প্রতিফলন ঘটেছে বাস্তবে বার বার বহুভাবে। যেমন, বর্তমানে বাংলাদেশে ইহুদী মালিকানাধীন বহুজাতিক নব্য নীলকর কোম্পানিগুলি গোল্ডেন রাইস এবং বিটিবেগুন এর মতো জেনেটিক্যালী মডিফাইড ফুড আমদানী করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শতকরা ৬৯ ভাগ চাষযোগ্য অনাবাদী জমি রয়ে গিয়েছে। এই জমিগুলি যদি সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে আবাদ করা হয় তবে এমনিতেই প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি ফলন উপহার নিয়ে আসতে পারে। তাহলে কেন নব্য নীলকরেরা বাংলাদেশে নীলচাষের আধুনিক রূপ জি এম ও ফুডের প্রচলন ঘটাতে চাইছে?
(২২তম পর্ব)
জিএম-ফুড বা জিনগত বিকৃত খাদ্যদ্রব্য সমূহের মধ্যে এক ভয়ংকর খাদ্যদ্রব্য হলো গোল্ডেন রাইস। যা প্রচলিত হলে ধ্বংস হয়ে যাবে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কৃষি ব্যবস্থা। কাজেই গোল্ডেন রাইসের বাজারজাতকরণের প্রচেষ্টা বন্ধ করুন।
গোল্ডেন রাইস কী?
বাংলাদেশে বহুজাতিক এগ্রো কর্পোরেশনের বীজ রাজনীতির নতুন সংযোজন জেনেটিক্যালী মডিফাইড (জিএম) ধান গোল্ডেন রাইস। গোল্ডেন রাইস প্রকল্পের সাথে জড়িত মূলত আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউ (ওজজও), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, ব্রি (ইজজও) এবং মার্কিন সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। ভুট্টা অথবা ড্যাফোডিল ফুল থেকে নেয়া ‘ফাইটোন সিনথেজ’ জিন এবং মাটির এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া থেকে নেয়া ‘ক্যারোটিন ডিস্যাচুরেজ’ জিন ধানের জিনোমে প্রবেশ করিয়ে এই গোল্ডেন রাইস প্রস্তুত করা হয়। এই দুইটি জিন ধানের এন্ডোস্পার্মে বিটা ক্যারোটিন (ভিটামিন এ এর পূর্বের অবস্থা) তৈরিতে কাজ করে। বাংলাদেশে গোল্ডেন রাইস প্রবর্তনের জন্য বহুজাতিক কোম্পানি সিনজেনটা এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট এর মাঝে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ভিত্তিতেই ব্রি বাংলাদেশের ব্রি-২৯ জাতের ধান সিনজেনটা কোম্পানিকে দিয়েছে জেনেটিক্যালি মডিফাই করার জন্য। সিনজেনটা ব্রি-২৯ জাতে উক্ত দুটি জিন ট্রান্সফার করে গোল্ডেন রাইস নামে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রি গত বছর এপ্রিল মাসে দেশে গোল্ডেন রাইস গবেষণার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পায় এবং এ বছর জানুয়ারি মাসে নির্দিষ্ট পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে গোল্ডেন রাইস চাষ করার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় ছাড়পত্র দেয়। এই ফিল্ড টেস্টিং সম্পন্ন করেই বাজারজাতকরণে যাবে কোম্পানি। এত বড় একটি চক্রান্ত চলছে অথচ দেশের বিশিষ্ট কলা বিজ্ঞানী ও ড্রোন বিজ্ঞানীরা একেবারেই নীরব।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে