বাংলা নামের উৎপত্তি !


হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার আমলে মহাপ্লাবন, কুরআন শরীফসহ সকল ধর্মগ্রন্থে স্বীকৃত। মহাপ্লাবনের পর হযরত নূহ আলাইহিস সালাম , উনার স্ত্রী, সন্তানসহ ৮০ জন নর-নারী আল্লাহপাক উনার হুকুমে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বংশ বৃদ্ধিতে নিয়োজিত থাকেন।
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার পরবর্তী বংশধরগণই নতুনভাবে পৃথিবী সাজিয়েছেন। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার এক পুত্র হাম এশিয়া অঞ্চলে বংশ বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। হামের পুত্র ‘হিন্দের’ নামানুসারে হিন্দুস্থান, সিন্দের নামানুসারে ‘সিন্ধুস্থান’ বা ‘সিন্ধু’ এবং হিন্দের পুত্র ‘বঙ্গ’-এর নামানুসারে বঙ্গদেশ। বঙ্গদেশের বা বঙ্গের সন্তানরা বাঙ্গালি বা বাংলাদেশী হিসেবে সারা পৃথিবীতে পরিচিত।
তাহলে বলতে আর বাধা নেই , হযরত নূহ আলাইহি সালাম উনার পৌত্র বা নাতির নামানুসারে বঙ্গ বা বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য বেঙ্গল ও বাংলা শব্দগুলো এসেছে ফারসী ‘বাঙ্গালহ্’ থেকে। ‘বাংলা’ শব্দটির প্রথম ব্যবহার পাওয়া যায় ফারসী ভাষী মোঘল বাদশাহদের শাসন আমলে ‘আইনী আকবরী’ গ্রন্থে।
আরো উল্লেখ্য, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের আর্য বলে দাবি করে থাকে। অথচ আর্যদের মূল বাসস্থান কিন্তু ভারত উপমহাদেশ নয়, এরা এসেছে পারস্য থেকে। সে হিসেবে আর্য বা বর্তমান হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা হচ্ছে বিদেশী, বাঙালী তো নয়ই। তাই ‘বাঙালী সংস্কৃতি মানেই হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংস্কৃতি’ ইতিহাস কোন সূত্রই এ বক্তব্য কখন সমর্থন করে না।

[রিয়াজ-উস-সালাতীন’]

মানুষকে দাবি করতে দেখলাম, বাংলা নববর্ষকে যদি হিন্দু সংস্কৃতি বলে বাদ দিতে হয়, তবে সকল বাংলা সংস্কৃতিকেই বাদ দিতে হবে, কারণ বাংলা সংস্কৃতি মানেই হিন্দু সংস্কৃতি।
আমার মনে হয় যারা এ ধরনের বাংলা কথা বলে, তারা নিরেট অজ্ঞ। কারণ বাংলা সংস্কৃতি তো অনেক পরের কথা, এই ‘বাংলা’ শব্দটির মালিকই হিন্দু নয়, বরং মুসলমানরা।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+