বাউলদের সর্ম্পকে লোমহর্ষক তথ্য


বাউল প্রসঙ্গে নতুন করে সামনে চলে এসেছে। পাংশা উপজেলার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষক কিছু বাউলকে তওবা পড়ান এবং তাদের লম্বা গোঁফ ও চুল কেটে দেন।
একটি জাতীয় দৈনিকে একজন কলাম লেখক ইতিহাস থেকে বাউলদের তওবা পড়ার কয়েকটি উদাহরণ দিয়েছেন যা ঘটেছিল ১৯৩২ সালে, ১৯৪২ এবং ১৯৮৪ সালে। প্রায় একশত বছরের এ রকম কয়েকটি ঘটনাকে ব্যতিক্রম হিসাবে গণ্য করা যায়, তবে এ কথা বিবেচনা যোগ্য যে বাউলেরা যেহেতু মুসলিম নামধারী সেহেতু তাদেরকে মুসলিম সমাজ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করবেই, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি অস্বীকার করা যাবে না, সমাজ অস্বাভাবিক কাজ গ্রহণ করেনা।
লেখক বাউলদের অনেক প্রশংসা করেছেন, তার ভাষ্য মতে “তাদের দ্বারা বাংলাদেশে এক মানবতাবাদী এক জাগরণ ঘটে” “তাদের হাত ধরেই কৃষক সমাজের মধ্যে ঘটেছিল দেশজ রেঁনেসা” “বাউলরাই হচ্ছে আমাদের আদর্শ নারী পূরুষ”্। এ সবই হচ্ছে অতিরঞ্জিত কথা। লালন নিজে সংগীতের ক্ষেত্রে অনেক অনেক বড়। কিন্তু সাধারণ বাউলরা তা নয়। তারা অস্বাভাবিক জীবন যাপন করে, তারা অপরিচ্ছন্ন তাকে, অবাধ যৌনাচারে বিশ্বাস করে, তাদের পূরুষরা হায়েজের রক্তপান বৈধ মনে করে। তাদের নারীরা পূরুষের বীর্যপান বৈধ মনে করে।
বাউলরা কখনই কোন আদর্শ নয়, তারা সাধারণ মানুষ, তারা সভ্যতার কিছুই জানে না। তারা সত্যিকার অর্থে কোন ধার্মিক লোকও না। কিন্তু একথা অবশ্যই বলতে হবে যে, এসব নিরীহ লোকদের উপর কোনো অত্যাচার বৈধ হতে পারেনা, যা করতে হবে মুসলিম সমাজকে তা বৈধ ভাবে করতে হবে।
একজন ব্লগার বলেছেন, আমার বাড়ির পাশে এক বাউল ছিল। সে তার নিজের প্রসাব পান করত। আর ওনার পাশ দিয়ে দুর্গন্ধের কারনে হেটে যাওয়া যেত না।চরম বিকৃত, অজ্ঞ, নেশাগ্রস্ত, অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা মনের অধিকারি তথা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী আদর্শশূন্য সুশীলদের আদর্শ এসব তথাকথিত বাউলদের জ্ঞানের আলো দ্বারা অন্ধকার পথ থেকে উদ্ধার করতে হবে।

বাউলরা যে জীবনাচারে অভ্যস্ত তা যদি আদর্শ হয় তাহলে মানুষকে আর কোন কিছু করতে হবেনা। শুধু গাঁজা খাও, নেশা করো, নষ্টামি করো এসবই হবে জীবন। যারা বাউল জীবনের পক্ষে বলে তারা তাদের ছেলে-মেয়েকে সেই বাউলের আস্তানায় পাঠাক। তারপর বাউল জীবনকে আদর্শ মানে কিনা বুঝা যাবে…
বাউলদের যারা উচ্ছিষ্ট গোঁফ দাড়ি কেটে দিয়েছেন সে সকল স্থানীয়দের সাক্ষাৎকার আমরা টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখেছি। তাদের কথায়ও বোঝা গিয়েছে; এটা একটি স্বাভাবিক সামাজিক প্রতিরোধ। এখানে কোন মতাদর্শ বা রাজনৈতিক চিন্তা কাজ করেনি। স্থানীয় সমাজের মাতুব্বর, বয়জেষ্ঠগণ, মসজিদের ইমাম, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি সবাই একত্রিত হয়ে বিনা প্ররোচনায় এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। পরবর্তীতে আমাদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক মনোভাব এই ঘটনা থেকে যে যার মত ফায়দা লুটতে উঠে পড়ে লেগেছে।
আমরা সম্প্রতি আওয়ামী নেতাকর্মী কর্তৃক বাউলদের চুলদাড়ি কেটে নেয়ার ঘটনা শুনেছি। অনেকে বিষয়টি নিয়ে বাঙালি সংস্কৃতি গেল গেল বলে রব তুলেছেন। কিন্তু আমরা কি জানি বাউলতত্ত্ব কী? বা এতে কী বলা রয়েছে? আমরা কিন্তু জানি না। আনুশেহ, সুমীর মতো কিছু অধুনা গায়িকা বাউলতত্ত্বের প্রচারপ্রসারে উঠেপড়ে লেগেছে। প্রসেনজিৎ এসে কয়েকদিন আগে লালন নিয়ে সিনেমা করে গেল। মূলতঃ ইন্ডিয়াপন্থী কিছু বুদ্ধিজীবীর লালনপ্রেম যে উথলে উঠেছে তা আমাদের ভাবনার বিষয়। তারচেয়ে বড় কথা আমরা জানি না লালন আসলে কে?
লালন ছিলেন বাউল সম্প্রদায়ের গুরু। আমরা কি জানি কারা এই বাউল সম্প্রদায়? কি তাদের ধর্মবিশ্বাস ও জীবনাচরণ? ৯৭ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সাথে লালন ফকির বা বাউল সম্প্রদায়ের আচার-আচরণ, বিশ্বাস ও মূ্ল্যবোধ আসলে কতটুকু সম্পর্কিত? সর্বোপরি যারা বাউল সংস্কৃতিকে বাঙ্গালীর সংস্কৃতি বলে ১২ কোটি মুসলিমের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছে তাদের এসব কর্মকান্ডের উদ্দেশ্যই বা কি?
বাউল সম্প্রদায় সম্পর্কে যারা পড়াশোনা করেছেন তাদের কাছে প্রয়াত লেখক আহমদ শরীফের “বাউল তত্ত্ব” এবং লালন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডক্টর আনোয়ারুল করিমের “বাংলাদেশের বাউল- সমাজ, সাহিত্য ও সংগীত” নামের বই দুটো খুবই পরিচিত। বাউল শব্দটির উৎস ও এই সম্প্রদায়ের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে ডক্টর আনোয়ারুল করিম তার বাংলাদেশের বাউল বইতে যা লিখেছেন তার সারাংশ হল, প্রাচীন প্যালেস্টাইন এর রাসসামরায় বা’আল নামের একজন প্রজনন দেবতার উপাসনা করা হতো। তৌরাত, ইঞ্জিল(বাইবেল), কোরান মজিদসহ সকল ধর্মগ্রন্থেই এই দেবতাকে তীব্র নিন্দা করা হয়েছে এবং তার উপাসনা থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মূলত বা’আল প্রজনন-দেবতা হওয়ায় মৈথুন বা যৌনাচার এই ধর্মের অঙ্গীভূত হয়ে পড়ে। এই বা’আল ধর্ম এক্সময় এ উপমদেশীয় অঞ্চলেও ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে এ অঞ্চলে ইসলামের সুফীবাদী মতবাদের প্রচার-প্রসার ঘটার পর সম্ভবত ইসলাম ও পৌত্তলিকতা উভয় মতবাদের সংমিশ্রণে একটি নতুন লোকধর্মের উদ্ভব ঘটেছিল যার উপরিভাগে ছিল মুসলিম সূফীবাদের প্রাধান্য, অভ্যন্তরে ছিল তন্ত্র ও যোগনির্ভর দেহজ সাধনা। তাই তার ধারণা মতে কালক্রমে এই বা’আল লোকধর্মই পরবর্তীতে বাউল লোকধর্মে পরিণত হয়েছে এবং লোকনিরুক্তি অনুসারে বাউল শব্দটি বা’আল>বাওল>বাউল এভাবে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। (বা.বা পৃষ্ঠা ১৩৩-১৪৫) ডা. আহমদ শরীফ তার “বাউলতত্ত্ব” বইটিতে বাউল ধর্মমত সম্পর্কে বলেন, “ব্রাহ্মণ্য, শৈব ও বৌদ্ধ সহজিয়া মতের সমবায়ে গড়ে উঠেছে একটি মিশ্রমত যার নাম নাথপন্থ। …দেহতাত্ত্বিক সাধনাই এদের লক্ষ্য। (নাথপ্নথ এবং সহজিয়া) এ দুটো সম্প্রদায়ের লোক একসময় ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়, কিন্তু পুরনো বিশ্বাস-সংস্কার বর্জন করা সম্ভব হয়নি বলেই ইসলাম ও বৈষ্ণব ধর্মের আওতায় থেকেও এরা পুরনো প্রথায় ধর্ম সাধনা করে চলে, তার ফলেই হিন্দু-মুসলমানের মিলিত বাউল মতের উদ্ভব। তাই হিন্দু গুরুর মুসলিম সাগরেদ বা মুসলিম গুরুর হিন্দু সাগরেদ গ্রহণে কোন বাধা নেই। তারা ব্রাহ্মণ্য ধর্ম ও শরিয়তী ইসলামের বেড়া ভেঙে নিজের মনের মত করে পথ তৈরি করে নিয়েছে। এজন্য তারা বলে,
“কালী কৃষ্ণ গড খোদা/কোন নামে নাহি বাধা
মন কালী কৃষ্ণ গড খোদা বলো রে।” (বাউলতত্ত্ব পৃঃ ৫৩-৫৪)।
সাধারণ জনারণ্যে বাউলরা নাড়ার ফকির নামে পরিচিত। ‘নাড়া’ শব্দটির অর্থ হল শাখাহীন অর্থাৎ এদের কোন সন্তান হয়না। তারা নিজেদের হিন্দু মুসলমান কোনকিছু বলেই পরিচয় দেয়না। লালন শাহ ছিলেন বাউলদের গুরু। লালনকে বাউলরা দেবতা জ্ঞানে পূজা করে। তাই তার ‘ওরসে’ তাদের আগমন এবং ভক্তি অর্পণ বাউলদের ধর্মের অঙ্গ। (বা.বা পৃঃ ১৪) লালন শাহের অনুসারীদের একটি অংশ ১৯৮৬ সালের মার্চ মাসে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একজন মুসলমান অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বাউল। আমাদের ধর্ম আলাদা। আমরা না-মুসলমান, না-হিন্দু। আমাদের নবী সাঁইজি লালন শাহ। তাঁর গান আমাদের ধর্মীয় শ্লোক। সাঁইজির মাজার আমাদের তীর্থভূমি।।…আমাদের গুরুই আমাদের রাসুল। …ডক্টর সাহেব [অর্থাৎ উক্ত মুসলিম অধ্যাপক] আমাদের তীর্থভূমিতে ঢুকে আমাদের ধর্মীয় কাজে বাধা দেন। কোরান তেলাওয়াত করেন, ইসলামের কথা বলেন… এ সবই আমাদের তীর্থভূমিতে আপত্তিকর। আমরা আলাদা একটি জাতি, আমাদের কালেমাও আলাদা –লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লালন রাসুলুল্লাহ।“ (দ্রঃ সুধীর চক্রবর্তী, ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২য় সংস্করণ, আগস্ট ১৯৯৮ পৃঃ ৪-৯৫)
বাউল সাধনায় গুরুশ্রেষ্ঠকে ‘সাঁই’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাধনসঙ্গিনীকেও গুরু নামে অভিহিত করা হয়। মূলতঃ সাধনসঙ্গিনীর সক্রিয় সাহায্য ব্যতীত সাধনায় সিদ্ধী লাভ করা যায় না। তাই তাকে ‘চেতন গুরু’ বলা হয়। বাউলরা বিশ্বাস করে গুরুর কোন মৃত্যু নেই। তিনি কেবল দেহরক্ষা করতে পারেন। তিনি চিরঞ্জীবী। বাউলরা মন্দিরে কিংবা মসজিদে যায়না। জুম্মার নামায, ঈদ এবং রোযাও পালন করেনা। তারা তাদের সঙ্গিনীকে জায়নামাজ নামে অভিহিত করে। বাউলরা মৃতদেহকে পোড়ায়না। এদের জানাজাও হয়না। হিন্দু মুসলমান নামের সব বাউলদের মধ্যেই এই রীতি। এরা সামাজিক বিবাহ বন্ধনকেও অস্বীকার করে। নারী-পুরুষের একত্রে অবাধ মেলামেশা এবং বসবাসকে দর্শন হিসেবে অনুসরণ করে। (বা.বা পৃঃ ১৫-১৭)
বাউল সাধনা মূলত একটি আধ্যাত্বসাধনা, তবে যৌনাচার এই সাধনার অপরিহার্য অঙ্গ। ড. আহমদ শরীফের ভাষায় কামাচার বা মিথুনাত্বক যোগসাধনাই বাউল পদ্ধতি। বাউল সাধনায় পরকীয়া প্রেম এবং গাঁজা সেবন প্রচলিত। বাউলরা বিশ্বাস করে যে, কুমারী মেয়ের রজঃপান করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক তৈরী হয়। তাই বাউলদের মধ্যে রজঃপান একটি সাধারণ ঘটনা। এছাড়া, তারা রোগমুক্তির জন্য স্বীয় মূত্র ও স্তনদুগ্ধ পান করে। সর্বরোগ থেকে মুক্তির জন্য তারা মল, মুত্র, রজঃ ও বীর্য মিশ্রণে প্রেমভাজা নামক একপ্রকার পদার্থ তৈরি করে তা ভক্ষণ করে। একজন বাউলের একাধিক সেবাদাসী থাকে। এদের অধিকাংশই কমবয়সী মেয়ে। (বা.বা পৃ ৩৫০, ৩৮২)
এদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বাউল সম্প্রদায় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায়, অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমও ধর্মবিবর্জিত বিকৃত যৌনাচারী মুসলিম নামধারী বাউলদেরকে সূফী-সাধকের মর্যাদায় বসিয়েছে। মূলতঃ বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত ভেকধারী এসব বাউলরা তাদের বিকৃত ও কুৎসিত জীবনাচারণকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার জন্য বিভিন্ন গানে মোকাম, মঞ্জিল, আল্লাহ, রাসূল, আনল হক, আদম-হাওয়া, মুহাম্মদ-খাদিজাসহ বিভিন্ন আরবী পরিভাষা, আরবী হরফ ও বাংলা শব্দ প্রতীকরূপে ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যবহার করেছে। এদেশে বহুল প্রচলিত একটি লালন সঙ্গীত হলো,
“বাড়ির পাশে আরশি নগর/সেথা এক পড়শী বসত করে,
আমি একদিনও না দেখিলাম তারে”
এই গানটিকে আমাদের সমাজে খুবই উচ্চমার্গের আধ্যাতিক গান মনে করা হলেও, এটি মূলত একটি নিছক যৌনাচারমূলক গান, যাতে আরশিনগর, পড়শী শব্দগুলো প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তাদের বিকৃত জীবনাচারকে গোপন রাখার উদ্দেশ্যে। (বা.বা পৃঃ ৩৬৮-৩৬৯)
বাউল সাধকরা বস্তুতঃ নিরাকার আল্লাহকে সাকারত্ব প্রদান করে তাদের অনুসারীদের পৌত্তলিকতার পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এরা সাধারণ মানুষের সারল্য, অশিক্ষা ও অজ্ঞতার কারণে তাদের বিভ্রান্ত করেছে এবং এইসব বিকৃত সাধনাসম্বলিত লোকধর্ম আসলে আমাদের সমাজ জীবনকে ধ্বংশের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সমাজ জীবনে বাউল লোকধর্মের এই ভয়ঙ্কর প্রভাব লক্ষ্য করে বাংলা ১৩৩৩ সালে হাজী মৌলোভী রেয়াজউদ্দীন আহমদ “বাউল ধ্বংশ ফতওয়া” নামে বাউলবিরধী একটি বই লেখেন। যেখানে তিনি এই বাউল সম্প্রদায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ইসলাম, ইসলামী আকিদাহ্ যা এদেশের আপামর মুসলিমের অন্তর্নিহিত বিশ্বাসের সাথে বাউল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসের দূরতম সম্পর্ক নেই এবং তা পুরোপুরি শাংঘর্ষিক। শুধু তাই নয়, বিশ্বাসে পৌত্তলিক, আচার-আচরণে ভয়ঙ্কর কুসংস্কারাচ্ছন্ন, বিকৃত জীবানাচারণ ও অবাধ যৌনাচারে অভ্যস্ত বাউল সম্প্রদায় কোনভাবেই এদেশের মানুষের কৃষ্টি-কালচার বা আত্বপরিচিতির বন্ধনমূল হতে পারেনা। কবীর চৌধুরী, হামিদা হোসেন, আয়েশা খানম এবং তাদের অনুসারীরা বস্তুতঃ প্রগতিশীলতা, আধুনিকতা ও দেশীয় কৃষ্টি-কালচারের নামে, ফুল-পাখি-গান-কবিতা-সৌন্দর্য ইত্যাদির উছিলায় এদেশের মানুষকে অশ্লীল, বিকৃত ও নৈতিক মূল্যবোধ বিবর্জিত এক ভয়ঙ্কর অন্ধকারাচ্ছন্ন জগতের দিকে নিয়ে যেতে চায়। যে নিকষ কালো আঁধারের মূলে রয়েছে বস্তুবাদ, ভোগবাদ ও চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারিতা এবং শেষপ্রান্তে অপেক্ষা করছে নিশ্চিত ধ্বংস। স্বনামধন্য লেখক হুমাইয়ূন আহমেদ, সাঁইজির মূর্তি ভাঙায় যার অন্তরে হাহাকার উঠেছে, তার বিতর্কিত ব্যক্তিজীবনই আমাদের বলে দেয় এই হাহাকারের উৎস কোথায়। এছাড়া, রোবায়েত ফেরদৌসের মত ব্যক্তি, যারা কিনা এদেশের তরুন-তরুনীদের বিয়ের আগেই শারীরিক সম্পর্ক তৈরীর ফ্রি লাইসেন্স দিতে চায় তাদের তো বল্গাহীন উদ্দাম বাউলিয়া জীবনাচারণই কাম্য।
তবে, একই সাথে এটাও ঠিক যে, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা পরধর্ম মতে সহনশীল। যদিও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের তাঁবেদার বুদ্ধিজীবী সুশীল সমাজের একটি অংশ মাঝে মাঝেই এদেশের মানুষের বিরুদ্ধে কল্পিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভি্যোগ এনে থাকেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো, ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল ভারতের মতো এদেশের মানুষ কখনোই সংখ্যালঘুদের উপর বর্বরভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে না, অন্য ধর্ম বা মতে বিশ্বাসী মানুষদের জীনন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে না, কিংবা তাদের ঘরবাড়ী, উপাসনালয়ও জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয়না। তাই, যদি হামিদা হোসেন এবং কবীর চৌধুরীর অনুসারীরা বাউল ধর্মকে তাদের নিজস্ব ধর্ম বা সংস্কৃতি বলে মানতে চায় কিংবা শ্রীকৃষ্ণের অবতারে বিশ্বাসী লালন ফকিরকে তাদের দেবতা বলে ঘোষণা তবে, তবে নিঃসন্দেহে তাদের কেউ বাধা দেবে না। তারা যদি নিজেদের অর্থ-সম্পদ খরচ করে তাদের অধিকৃত জায়গায় আকাসছোঁইয়া লালনমূর্তি বানাতে চায়, তাতেও হয়তো কেউ কোন আপত্তি করবে না। কিন্তু জাতীয় বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, হাজী ক্যাম্পের সামনে জনগণের অর্থ ব্যয় করে লালনমূর্তি তৈরী বা বিমানবন্দরের সামনের চত্বরকে ‘লালন চত্বর’ ঘোষণার দাবী একেবারেই অযৌক্তিক। কারণ, তাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন বিশ্বাস বা বিকৃত মূল্যবোধকে জাতীয় কৃষ্টি-কালচার হিসেবে সমস্ত জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার কোন অধিকার তাদের নেই।
সুতরাং আমরা বুঝলাম কেন এই লালন মচ্ছব। এ তো আমাদের ইসলাম নয়! এ হল কৃষ্ণের ১৬ হাজার গোপী নিয়ে কামক্রীড়ার বাস্তব উদাহরণ, যা আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী। এদের হাত ধরেই নববর্ষে মুসলমান ছেলেদের পরনে ধুতি উঠেছে, মেয়েদের কপালে এসেছে সিঁদুর। আমরা যদি আজ ঘুমিয়ে থাকি, কাল কে আমাদের বাচাবে লালনধর্মের কুৎসিত অন্ধকার জগৎ হতে?

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

২৩টি মন্তব্য

  1. এএইচ খানএএইচ খান says:

    Important post. Onek kichu janlam. Post ti shobar pora uchit.

  2. সরলমতসরলমত says:

    লালনরা যে কি অশ্লীলতা আর নোংরামী লালন করে তা বুঝলাম।
    ধন্যবাদ যিনি পোস্টাইছেন উনাকে।

  3. দিগ্বিজয়ীদিগ্বিজয়ী says:

    বাউলদের সাইজ করা দরকার

  4. নূরুল হুদা (শান্ত)নূরুল হুদা says:

    আসলে বাউল ঝাউলদেরকে মাথা ন্যাড়া করে সাইজ করা দরকার।

  5. কুমিল্লাবাসীkomillabashi says:

    বাউল ফাউল দের বেদাতীয় চুল দারী নক কেটে সুন্নতি তর্য তরিকা করা জরুরী

  6. কুমিল্লাবাসীkomillabashi says:

    বাউল গাউল রা যদি গুমরাহী ছারতে নায় পারে তা হলে যেন আউলীয়া কেরামের এই দেশ ।৯৭% মুসলমানদের দেশ তাগকরে কাফের ও মুসরেকদের দেশেয় চলে যায়।

  7. কুমিল্লাবাসীkomillabashi says:

    বাউল গাউল রা যদি গুমরাহী ছারতে নায় পারে তা হলে যেন আউলীয়া কেরামের এই দেশ ।৯৭% মুসলমানদের দেশ ত্যাগকরে কাফের ও মুশরেকদের দেশে চলে যায়।

  8. সরলমতসরলমত says:

    আউল-ফাউল বাউল গং কে ধরে ধরে সাইজ করা হোক।
    এতো মনে হয় ইতিহাসের সবচেয়ে নোংরা জাতি।

  9. সত্যকথনসত্যকথন says:

    আরও জানুন

    লালন=গবেষকগণ বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করিয়াছেন তাহারাও সকল সময় বাউলদের কাছ হইতে তাহাদের গুপ্ত সাধনার কথা সহজে জানিতে পারেন নাই। উহার জন্য বছরের পর বছর বাউলদের সহিত নিবিড়ভাবে তাহাদগিকে মেলামেশা করিতে হইয়াছে।

    মল-মূত্র-রজ: পানের বিবরণ জানিবার জন্য দয়া করিয়া বাউল-গবেষক শক্তিনাথ ঝা-রচিত ”ফকির লালন সাঁই দেশ কাল এবং শিল্প” (প্রকাশ কাল ১৯৯৫) কিতাবখানা পড়িয়া দেখিবেন। শক্তিনাথ বাবু বাউলগণের প্রশংসাই করিয়াছেন। তিনি বিরোধীপক্ষের মানুষ নহেন।

    আরও রহিয়াছে লালনের প্রতিটি গীতে নানারকম অর্থ রহিয়াছে। তাহার পরেও তিনি ছিলেন দেহবাদী সাধক। তাহার মূলসাধনা ছিলো ‘যোনী-সাধনা’। লালনের গীতের মানবিক তাঃপর্য রহিয়াছে পাশাপাশি দেহবাদী–রজঃ-সাধনার কথাও বিভিন্নভাবে রহিয়াছে।

    আপনারা যে এইসব জানিতে পারেন নাই তাহা আপনার অজ্ঞতার সীমানার কথা আমাদিগকে জানাইয়া দিতেছে।

    লালন-পন্থীগণ নারীদেহের পঞ্চস্থানে প্রণাম জানায়। নারীর পায়ে, নারীর যোনীতে, নারীর নাভীতে, নারীর বুকে, নারীর কপালে। শুধু তাহাই নহে নারীর ঋতুকালের ৩ দিনে মোট ৩*৫=১৫ বার এই প্রণাম বা সেজদা (তাহাদগের ভাষায়) দেবার কথা রহিয়াছে। (নাউজুবিল্লাহ)

    এইসব তথ্য আপনি শক্তিনাথ ঝা বাবুর ”ফকির লালন সাঁই”কিতাবে পাইবেন। সুধীর বাবুর ”ব্রাত্য লোকায়ত লালন” (প্রথম প্রকাশ ১৯৯২) কিতাবেও পাইবেন।

    আপনার প্রতি বিনীত নিবেদন বিস্তর জানিয়া-শুনিয়া তাহার পরে অন্যের সমালোচনার উত্তর প্রদান করিবেন। মূর্খের মতন চেচাইলেই যুক্তি প্রদান করা যায় না।

    আমি বাউলগণের প্রতি অসম্মানের প্রতিবাদ জানাইতেছি। কিন্তু সেই সাথে উহাও বলিবো যে তাহাদের সাধনার ভিতরে অযাচার রহিয়াছে যাহা একটি সভ্য সমাজে কোনোমতেই মানিয়া লওয়া যায় না।

    বাউল সম্পর্কিত একাধিক ওয়েবে পাইবেন

    http://roots-bangladesh.org/?DetailsId=58

    একজন বাউল যে প্রক্রিয়ায় দীক্ষা নেয় তা সম্পর্কে বলা হইয়াছে

    The Guru then offers ‘prem-bhaja’consisting of a flour mixed with four fluids of the human body (urine, male semen, and menstrual blood of women or phlegm and feces ).This prem-bhaja is sometimes made into the shape of small marbles while at other times it is formed into small round cakes. Sometimes female juice called ‘ rasa’ as it oozes out is also mixed with human milk in the making of ‘prem-bhaja’.

    The Guru also shows them different method of sexo-yoga sadhana leading to birth control because after they are initiated they would not be allowed to have children .

    অর্থাৎ যারা সব বাউল প্রেমভাজা খায় কিনা তাহা লইয়া সন্দেহে আছেন তাহাদের বলছি, প্রেমভাজা সব বাউলকেই ভক্ষণ করিতে হয়। সব বাউলকেই চরিত্রহীন হইতে হয়। তা না হইলে বাউল হওয়া যায় না। বাউল হিসেবেই দীক্ষা গ্রহণ করা যায় না যদি প্রেমভাজা না খায়।

  10. কুমিল্লাবাসীkomillabashi says:

    সত্যকথন ভাই আপনাকে ।অনেক অনেক ধনব্যাদ আরো তথয় দেয়ার জন

  11. সত্যকথনসত্যকথন says:

    সামহোর(somewhore) ব্লগে নাস্তিকের ছদ্মবেশে এক হিন্দু বাউলসম্পর্কিত পোস্টে এই কমেন্ট করেছে

    শুধু প্যচাল বলেছেন: মুহম্মদ মুসাদ্দিক হুসাইন সাজু:

    ভাই মোহাম্মদ নাউজুবিল্লাহ, ভাল আছেন? আপনাদের নাউজুবিল্লাহ নিয়ে আপনে আপনার ঘরে থাকলেই পারেন। এইসব যখন চুরি চামারি করেই জানছেন, তখন কেন সেই জিনিস সবার সামনে প্রকাশ করছেন? তারা তাদের এই বিষয় নিয়েত সবার সামনে আসছে না, তাইনা? তারাত বলছেনা তোমরা এইটা কর। এইটা তাদের গোপন বিষয় তোমরা নাউজুবিল্লাহ কোম্পানীগুলো ভাড়ের দল এইসব প্রকাশ করেছ। তোমাদের কি বলেছিল এই কাজ কর?

    পৃথিবীতে কত পদের মানুষ আছে, সবার পিছে লাগেন আপনারা, সমস্যাটা কি? আপনারা দাড়ি টুপি ওয়ালা লেবাস ধারি মুসলিম গরু খাওয়া লোকগুলোর কাজ হল কে কি করল তার পিছে লাইগে থাকা।

    আপনে বলেন আপনারা যখন আল্লাহ বিল্লাহর নাম নিয়ে ঘুষ খান, চুরি করেন, সুদ খান। দাড়ি রেখে পর নারীর দিকে তাকায় তাকায় দিন রাত কাটান, প্রেম বললে ওয়াস্তাগ ফিরুল্লাহ পড়েন, সাথে ৪বিয়ের সময় এক পা আগায় রাখনে তখন কি হয়?

    আপনে কি জানেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এইসব জায়গার ধর্ম বর্নের মানুষের ভিতরেও এই ধরনের অনেক কিছুই আছে? এইত গেল আপনার দেশের, আপনে ইন্ডিয়া তাকান, কত বর্নের মানুষ। কত ধর্মের মানুষ। কত তাদের রীতি, নীতি। সব জায়গায় আপনারা নাউজুবিল্লাহ বলে বেড়ান।

    আর আপনার আল্লাহরে দেখলাম না, নাউজুবিল্লাহ কইতে। হ্যতেন সবাইরে ভালবাসল। সবইত তারই খেলা, তাইনা? তাইলে আপনে চিল্লান কেলা? নাউজুবিল্লাহ কন কেলা? আগে নিজে ঠিক হন। তারপর বাকিদের দিকে দেইখেন।

    আফ্রিকার মানুশের ধর্ম কি জানেন?

    আসুন আপনে যদি বলেন আমাদের দেশ বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান। আরে খুজে দেখলে পাবেন সবই ঐ হিন্দু থেকেই আসে। আপনার গোড়া ঐ বাউল থেকেই দেখা যাবে। আপনে অন্য আর দেশের ধর্মকে নিজের করছেন। পরধর্ম নিজের গায়ে পড়েছেন। সৌদির কালচার, ধর্ম আপনার করেছেন। আগে আপনাদের রুট এই দেশেরই ছিল।

    খুব ভাল করেছেন বাউলের এইসব বের করে। মিয়া ওরা গাজা সিগারেট খায়, তোমাদের কি ডেকে বলে আস আমাদের সাথে খাও? তারা খায় তোমরা কেন সেইকাহ্নে যেয়ে খুচাও? তারা নারী রস খায় তোমারে কি দাওয়াত দিয়ে খেতে বলেছিল? জেনে কি আটি বানছেন?

    আপনাদের হিসাবে নজরুল কাফের হয়। সুফীবাদ কাফের হয়। দুনিয়ার সব হয় নাউজুবিল্লাহ, শুধু দাড়ি টুপি ওয়ালা বানর গুলো মানুষ। ঠিকি ছিল, ইয়াজিদ শয়তানটা তারা দরবারে বানরের গায়ে পাঞ্জাবী, টুপি পড়িয়ে গলায় দড়ি দিয়ে রাখত।

    নাউজুবিল্লাহ থেকে ফিরে আসুন। আল্লাহর চোখ দিয়ে দেখেন, সব ভাল লাগবে। তিনি কাউকে কিছু বলেনা। আপনারাও আর মানুষের পিছে লাইগেন না। যদি বলেন এইসব পাপ। তাহলে বলব তাহলে এর শাস্তি বা যাবতীয় যা আছে সব আল্লাহর উপরই ছেড়ে দিন। আপনারা কেন করতে যান?

    যাইহোক ভাল থাকবেন
    ধন্যবাদ

    http://www.somewhereinblog.net/blog/komkom/29369638

  12. সত্যকথনসত্যকথন says:

    আর কমেন্ট নাই? পরথম আলুতে এটা সর্বাধিক পঠিত পোস্ট হওয়ায় মডুরা মুছে দিয়েছে। Star Star Star Star

  13. shahnur says:

    তথ্য টির জন্য ধন্যবাদ

  14. ভাই….বাকিরা কেমন জানিনা তবে লালন সম্পর্কে কথা বলতে একটু হুশিয়ার। কেউ বলতে পারবে না ওনি জীবনে এসব ফালতু কাজ করেছেণ। ওনি একজন আল্লাহর ওলী ছিলেন। বিশ্বাস না হইলে ওনার মাজারে গিয়ে ওনার সাথে কথা বলে দেখেন গিয়া। এখন বলবেন ওনার সাথে কেমনে কথা বলব? আরে ভাই আগে চোখ অর্জন করেন তারপর দেখতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে