বাঙালি রক্তে সিক্ত বালাকোটের ময়দান, ভুলে গিয়েছে এদেশের মুসলমান; ফলে তাদের সঙ্গী হয়েছে লাঞ্ছনা, গঞ্জনা ও অপমান।


হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার জিহাদই ছিল ভারতবর্ষে যালিম ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম জিহাদ। সেই জিহাদ উনার একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন শাহ ছূফী হযরত নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ছিলেন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রধান খলীফা। বালাকোটের ময়দানে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শাহাদাত গ্রহণের পর তিনি নিজ গ্রাম চট্টগ্রামের মীরসরাইতে অবস্থিত মিঠানলায় ফিরে আসেন, উনার লক্বব মুবারক হয় ‘গাজীয়ে বালাকোট’। নিজ দেশে ফিরে আসার পর মহান শায়েখ উনার পদাঙ্ক মুবারক অনুসরণ করে পুরোটা জিন্দেগী মুবারক তিনি বাঙালি মুসলমানগণ উনাদেরকে ব্রিটিশবিরোধী জিহাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে গিয়েছেন, যার ফলে উনার শাদী মুবারকও করা হয়ে উঠেনি।
এছাড়াও ছিলেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার হযরত আবদুল হাকিম বাঙালি রহমতুল্লাহি আলাইহি, নোয়াখালির হাজী হযরত ইমামুদ্দীন বাঙালি রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনারা সকলেই ছিলেন জিহাদের ময়দানে একে অপরের সহযোদ্ধা। সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অধীনে সর্বভারতীয় মুসলিম মুজাহিদগণ উনাদের সাথে অবস্থানকালীন সময়ে বাঙালি (বাঙালি নয়, ফারসী بنگالی শব্দ থেকে আগত) শব্দটি উনাদের নাম মুবারক উনাদের অংশ হয়ে গিয়েছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। হযরত নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রামের মানুষেরাই আজকাল গণহারে রেযাখানী ফিরক্বাতে দাখিল হচ্ছে। যেই ফিরক্বার ভিত্তিই হলো হযরত নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারই শায়েখ, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরোধিতা করা। নাউযুবিল্লাহ!
এও কি সম্ভব?!
এটি সম্ভব হয়েছে, যেহেতু উনাদের ঈমানদীপ্ত ইতিহাসের কিছুই চট্টগ্রাম কিংবা এদেশের মুসলমান সম্প্রদায় মনে রাখেনি। হযরত নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে তারা ভুলে গিয়েছে, বালাকোটের বীর বাঙালি সূর্যদের অস্তিত্বের কোনো খবর বাঙালি মুসলমান আজ রাখে না। উনাদের ইতিহাস ভুলে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের কান্ডা রী হিসেবে চট্টগ্রামের অথর্ব মুসলমানরা এখন উপস্থাপন করছে সূর্যসেন আর প্রীতিলতাকে, তাদের নাম এদেশে বিশ্ববিদ্যালয় হলের নাম হিসেবে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। অথচ ‘অনুশীলন’ আর ‘যুগান্তর’ এর মতো তৎকালীন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর সাথে জড়িত ছিল সূর্যসেন আর প্রীতিলতারা, যেই সংগঠনগুলোর পত্রিকাতে প্রকাশ্যে বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়কে হুমকি দিয়ে লেখা হতো, “ছিন্নবিচ্ছিন্ন মস্তক ছাড়া মা কালী শান্ত হবে না।” (সূত্র: ইবনে রায়হান রচিত বঙ্গভঙ্গের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ৬-৭)
এদেশের মিডিয়া এবং রাষ্ট্রযন্ত্র বাঙালি মুসলমানদেরকে তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে যেহেতু বাঙালি মুসলমানরা তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব উনাদেরকে চিনতে অক্ষম হয়ে পড়েছে, সেহেতু আজ তাদের সবকিছু থেকেও আদতে কিছুই নেই। নিজেদের পূর্বসূরীদের ইতিহাস ভুলে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট শূন্যস্থানকে পূরণ করতে এখন সূর্যসেনের মতো হিন্দু সন্ত্রাসীকে শ্রদ্ধা করতে হচ্ছে বাঙালি মুসলমানদেরকে, যেই সূর্যসেনের ‘অনুশীলন’ আর ‘যুগান্তরের’ আদর্শেই গড়ে উঠেছে আজকের ভারতের নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি ও আরএসএসের মতো উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+