বাঙ্গালি জাতির শ্রেষ্ঠ গাদ্দার মীর জাফর


নবাব সিরাজদ্দৌলা নিয়ে পড়া শেষ না হতেই দেখলাম , উনার নামে মিথ্যাচার ।মানুষ কিভাবে পারে ছয়কে নয় বলে প্রচার করতে(?)।
আমাদের জনা থাকা উচিত, নবাব সিরাজদ্দৌলার শাসনকাল ছিল অল্প সময়।তার পলাশীপ্রান্তে পরাজয়ের পরই ইংরেজরা ভারতবর্ষে প্রায় দু’শ বছর শাসন করেছিল।ছোটকালে সোস্যাল সাইন্সে সবই পড়েছি , নবাব সিরাজদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ উনার অযোগ্যতা নয়, বরং তিনি যাদের বিশ্বাস করতেন যেমন- উমিচাঁদ, সেনাপতি রায়দুলর্ভ , প্রধান সেনাপতি মীরজাফর আর বাংলার শ্রেষ্ঠ ধনী জগৎশেঠ , দেওয়ান রামচাদঁ, মুন্সী নবকৃষ্ণ এদের বিশ্বাসঘাতকতা।
বলা হয় মীর জাফরের কবরে নাকি লিখা আছে,‘জুতা পড়ে কবরের উপরে উঠুন’।আমরা জানি কবর বা সমাধিক্ষেত্রে গেলে, মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে জুতো খুলে রাখতে হয়। কিন্তু মীর জাফর জাতির এমনই গাদ্দার যার কিনা কবরে গিয়েও শান্তি নেই অর্থ্যাৎ এখনো রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিং-এর মূল্য চুকিয়ে যেতে হচ্ছে। অামার জানা মতে , কোন বাবা- মা তার বাচ্চার নাম আজও অব্দী মীর জাফর রাখার মত সাহস করেন নি।কিন্তু সিরাজ নামটি সচরাচর অনেক শোনা যায়।এটা হচ্ছে সিরাজদ্দৌলা ও মীরজাফরের সাধারণ পরিচয় যা আমরা সবাই জানি।

কিন্তু যা দেখে চোখ আটকিয়ে গেলো তা নিচে হুবহু দেওয়া হলো এবং বিচারে দায়ভারও আপনাদের বিবেকের উপর ছেড়ে দেওয়া হলো,

বাংলার ঘরে ঘরে শিশুপাঠ্য ইতিহাসে সিরাজকে যেভাবে এক মহান চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়, সেটা নিরানব্বই শতাংশই ভুল। সিরিয়াস ইতিহাসে যে সিরাজকে পাওয়া যায়, তা থেকে মনে হয় যে মীরজাফর বা ক্লাইভ নিমিত্তমাত্র। পলাশীর যুদ্ধ না হলেও সিরাজ কোন না কোন দিন কোনও মেয়ের বাবা, ভাই বা বাগদত্তের হাতে নিহত হতোই। সিরাজের চারিত্রিক বৈশিষ্টই ছিল লাম্পট্য, মদের নেশায় ডুবে থাকা, লোককে বিশ্বাস করতে না পারা, কোনও কারন ছাড়াই যেকোনও কাউকে অপমান করা ইত্যাদি। এছাড়াও সিরাজের আরেকটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট ছিলো এক পাশবিক নিষ্ঠুরতা, যার বহিঃপ্রকাশের উদাহরণ অনেকের লেখাতেই পাওয়া যায়। সিরাজ নিজেকে অন্যদের চেয়ে উঁচুস্তরের মানুষ বলে মনে করতো আর তার কাছে বাকি সবাই ছিলো নিম্নস্তরের প্রাণী। সিরাজের এই অভদ্র আচরণ থেকে কেউই রেহাই পেতো না। আলিবর্দীর সময়ের বিশিষ্ট লোকদের সিরাজ সবার সামনেই অপমান করতো ।সবার সাথে এরকম দুর্ব্যবহার করার পরেও আলিবর্দীর সামনে সিরাজ একদম ভাজা মাছটা উলটে খেতে পারে না, নিজের এরকম একটা ভাবমূর্তি বজায় রেখেছিলো।

পোস্ট দীর্ঘ হওয়ার নিমিত্তে মীর জাফরের গুণগান প্রকাশ করা থেকে বিরত রইলাম।উল্লেখ্য যে , লোকটি বলেছে তার লেখার মূল উৎস হচ্ছে কিছু ইংরেজ ও ভারতীয় লেখকের বই। যাদ্বারা তার লেখার গ্রহনযোগ্যতা বুঝে নিতে কষ্ট হবে না ।

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে