বাঙ্গালীর করুন এক ইতিহাস যা সৃষ্টির সহায়ক ছিলো জাতির কিছু গাদ্দার


 

ফতেহ আলী টিপু যখন যখমী হলেন তখন উনার কিছু বিশ্বস্ত সেনাপতি পরামর্শ দিচ্ছিলেন স্থান ত্যাগ করার জন্য কিন্তু উনি প্রজাদের রেখে চলে যেতে রাজি হলেন না, উনার দেহের খুন ঝড়ছিলো সেরিংগাপটেম এর মাটিতে এবং সিনার যখম নিয়ে তিনি অনুভব করছিলেন অপরিসীম তৃপ্তি।
২য় বার গুলি লাগার পর শেরে মহীশূরের দেহ দুর্বলতার ভেঙ্গে পড়তে লাগলো, তারপরও তিনি লড়াই করাতে লাগলেন।যখমের দরুন সুলতানের হিম্মত নিঃশেষ হয়ে এলে দেহরক্ষী দলের অফিসার বললেন, ‘আলীজাহ! এখন আর নিজকে দুশমনের হাতে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই’।
সুলতান চূড়ান্ত সংকল্পের আওয়াযে জবাব দিলেন, ‘ আমার কাছে সিংহের যিন্দেগীর এক লমহা শৃগালের হাজার বছরের যিন্দেগীর চাইতে শ্রেয়’।
কিছুক্ষণ পর সুলতান উনার অফিসারদের নিয়ে পুনরায় ঘোড়ায় উপর সাওয়ার হলেন ।মহীশূরের সিপাহীদের দরযায় দিকে আসতে দেখে ইংরেজরা গুলিবর্ষণ শুরু করলো।একটি গুলি সুলতানের ঘোড়ার পেটে লাগলে ঘোড়াটি পড়ে তখনি মরে গেলো। সুলতান তাতে কাপেঁ উঠলেন কিন্তু সামলে নেবার আগেই উনার সিনার আর এক গুলি লাগলো এবং তিনি অর্ধমৃত অবস্থায় পড়ে গেলেন। কাছে দাড়ানো এক ইংরেজ সুলতানের কোমড় থেকে একটি রত্নখচিত তলোয়ার খাপ কেড়ে নেবার চেষ্টা করলো , কিন্তু শেরে মহীশূরের দেহে তখনো যিন্দেগীর শেষ ক’টি শ্বাস অবশিষ্ট রয়েছে এবং এ অবমাননা তিনি বরদাশত করতে পারলেন না। সুলতান উঠে হঠাৎ তলোয়ার উচু করে পূর্ণ শক্তিতে তার উপর আঘাত করলেন। ইংরেজ তার বন্দুক এগিয়ে ধরলো। সুলতানের তলোয়ার বন্দুকে লেগে ভেঙ্গে গেলো। তখন আর এক ইংরেজ তার বন্দুকের নল উনার কর্ণমূলে রেখে গুলী করে দিলো।যে সূর্যের রোশনীতে মহীশূরবাসী দেখেছিলো আযাদীর সুন্দর সুন্দর মনযিল, সে সূর্য অস্তাচলে ডুবে গেলো চিরদিনের জন্য।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে