বাতিল ফিরকাহ (শেষ পর্ব)


খারেজী ফিরকার আক্বীদাঃ
খারেজী সম্প্রদায়কে খারেজী বলার কারণ হলো তারা (খারেজীরা) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু,উনাকে খলীফা বলে স্বীকার করেনা। কেননা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা  আনহু্ম যখন হযরত আবূ মূসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও আমর ইবনুল আ’স রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উনাদের সালিশ মেনে নিয়েছিলেন, তখন তারা বলেছিল ” আমরা আল্লাহ্ পাক ব্যতীত অন্য করো নির্দেশ মান্য করতে প্রস্তূত নই।” এ কথা বলে তারা উক্ত মজলিশ থেকে খারিজ বা বের হয়ে যায়, এ কারণেই তাদেরকে খারেজী বলা হয়। তাদের কুফরী আক্বীদাগুলোর মধ্যে প্রধানগুলো হলঃ

(১) হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গণ কাফের ও কবিরা গুনাহে গুনাগার
(২) যারা সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম গনের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে তারা তাদের(খারেজীদের) বন্ধু।
(৩) যাকে একবার দোযখে নিক্ষেপ করা হবে সে চিরকাল দোযখেই থাকবে।
(৪) একবার মিথ্যা বলে বিনা তওবায় মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
(৫) মোজা পরিধান করে নামায পড়া ও মোজার উপর মসেহ্ করা হারাম।
(৬) মোতা বা কন্ট্রাক বিবাহ করা জায়েজ।
(৭) যে একবার মিথ্যা কথা বলে এবং ছগীরা গুনাহ করে ও এর উপর দৃঢ় থাকে সে মুশরিক।
(৮) পৃথিবীতে কোন ইমাম বা নেতার প্রয়োজন নেই।
(৯) প্রত্যেক কবীরা গুনাহই কুফরী।
(১০) সূরা ইউসূফ কুরআন শরীফের অংশ নয়। পরে তা সংযোজন করা হয়েছে।

শিয়া বা রাফেজী ফিরকার আক্বীদাঃ
তারা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে অনুসরণ করে এবং সকল সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের উপরে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উনাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে তাই তাদেরকে শিয়ানে আলী বা শিয়া বলা হয়। এদের উল্লেখযোগ্য কূফরীমূলক আক্বীদা হলঃ
(১) হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ও হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ সকল সাহাবীর চেয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর মর্যাদা বেশী।
(২) হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খেলাফতের পর অধিক হক্বদার ছিলেন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তাঁকে খেলাফত না দেয়ায় সকলেই মুরতাদ হয়ে গেছে, ৪ জন ব্যতীত। তারা হলেন, হযরত আলী, আম্মার, মেকদাদ ইবনে আসওয়াদ ও সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম।
(৩) পৃথিবীর সকল নবীগণের চেয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর মর্যাদা বেশী।
(৪) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুই নবী।
(৫) হযরত জিব্রীল আলাইহিস সালাম ভুলে তাঁর( হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উপর ওহী নাযিল করেন নাই।
(৬) আল্লাহ্ পাকের আকৃতি মানুষের আকৃতির ন্যায়।

মরজিয়্যাহ ফিরকার আক্বীদাঃ
মরজিয়্যাহ সম্প্রদায়ের কূফরীমূলক আক্বীদা হলঃ
(১) একবার কালিমা শরীফ পাঠ করে ঈমান আনার পর হাজার কুফরী-শেরেকী করলেও ঈমান নষ্ট হয়না।
(২) শুধু ঈমান আনলেই হয় আমলের কোন প্রয়োজন নেই।
(৩) ঈমান বাড়েও না কমেও না।
(৪) সাধারণ মানুষ, ফেরেস্তা ও নবী-রসূলদের মর্যাদা সমান।

জাহমিয়াহ ফিরকার আক্বীদাঃ
জাহম ইবনে ছাফওয়ান এ সম্প্রদায়ের নেতা বলে এদেরকে জাহমিয়াহ বলা হয়। জাহমিয়াহ সম্প্রদায়ের কূফরীমূলক আক্বীদা হলঃ
(১) আল্লাহ পাককে জানা ও আল্লাহ পাকের নিকট যা রয়েছে তা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকাই ঈমান।
(২) কুরআন শরীফ আল্লাহ পাকের মাখলুক বা সৃষ্টি।
(৩) আল্লাহ পাক হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বা অন্য করো সাথে কথা বলেন নাই।
(৪) আরশ-কুরসী, হাশর-নাশর, মীযান-শেষ বিচার বলতে কিছু নেই।
(৫) পরকালে আল্লাহ পাক কারো দিকে তাকাবেন না, কারো সাথে কথা বলবেন না, কারো সাথে দেখাও দিবেন না।
(৬) কবিরা গুনাহ করলে ফাসেক হয়না।

মু’তাজিলাহ ফিরক্বার আক্বীদাঃ
ইসলামী আক্বীদা থেকে তারা দুরে সরে গেছে বিধায় এদেরকে মু’তাজিলাহ বলা হয়।আবার কেউ কেউ বলেন, তারা একবার কোন এক বিষয়ে হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি,উনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তখন হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছিলেন, ” আমার থেকে তোমার দূরে সরে যাও।” সেদিন থেকেই তারা মু’তাজিলাহ নামে পরিচিত। মু’তাজিলাহ সম্প্রদায়ের কূফরীমূলক আক্বীদা হলঃ
(১) কুরআন শরীফ আল্লাহ পাকের মাখলুক বা সৃষ্টি।
(২) কবীরা গুনাহ্ কারী কাফির।
(৩) আল্লাহ পাকের ইলম, কুদরত, দর্শন, শ্রবণ ইত্যাদি কোন ছিফত বা গুণ নেই।
(৪) আল্লাহ পাক আরশে স্থিতিবান।
(৫) অন্যের ভাগ্যে আল্লাহর হাত নাই
(৬) বান্দার কাজ আল্লাহ সৃষ্টি করেন না বরং বান্দাই তার(কাজের) সৃষ্টিকর্তা।
(৭) বান্দা মৃত্যূর নিদিষ্ট সময়ের পূর্বেও মারা যায়।

ক্বদরিয়া ফিরক্বার আক্বীদাঃ
এরা তাকদীর অস্বীকার করে বলে এদেরকে ক্বদরিয়া বলা হয়।ক্বদরিয়া সম্প্রদায়ের কূফরীমূলক আক্বীদা হলঃ
(১) বান্দা যে সকল পাপ বা নেক করে তা নিজের ইচ্ছাই করে, এতে আল্লাহ পাকের কোন হাত নেই।
(২) যাবতীয় কাজ বান্দার ইচ্ছাধীন এতে আল্লাহ পাকের কোন দখল নেই অর্থাৎ তাকদীর বলতে কিছু নেই।

জাবারিয়া ফিরক্বারআক্বীদাঃ
জাবারিয়া সম্প্রদায়ের কূফরীমূলক আক্বীদা হলঃ
ভাল-মন্দ অর্থাৎ নেক কাজ-পাপ কাজ সবই আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় হয় এতে বান্দার কোন ইচ্ছা বা এখতিয়ার নেই। মোট কথা হলঃ নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত, চুরি, যিনা, হত্যা ইত্যাদি সবই আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় হয় এতে বান্দার কোন ইচ্ছা নেই।

মুশাব্বিহা ফিরক্বার আক্বীদাঃ
মুশাব্বিহা সম্প্রদায়ের কূফরীমূলক আক্বীদা হলঃ
(১)মহান আল্লাহ পাক জিসম বা দেহ বিশিষ্ট। কারণ কারো অস্তিত্বের জন্য দেহ বা কাঠামোর প্রয়োজন। যার দেহ নেই তার অস্তিত্ব নেই।
(২) আল্লাহ পাকের দেহ লম্বা, চওড়া, মোটা ও নুরানী, চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল।
(৩) আল্লাহ পাক চলমান আবার অনঢ়।
(৪) আল্লাহ পাকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে কারো তুলনা হতে পারেনা।

Views All Time
1
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

৭টি মন্তব্য

  1. প্রভাতের সূর্যপ্রভাতের সূর্য says:

    ওহবীরা কোন ফিরক্বার মধ্যে ? মুশাব্বিহা ?

  2. ইসলামইসলাম says:

    আমাদের দেশের জামাত-শিবির, কওমী ও নামধারী অর্থাৎ ভণ্ড পীরেরা কোন ফেরকার?

  3. ador haque says:

    শিয়া বা রাফেজী ফিরকার আক্বীদাঃ
    তারা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে অনুসরণ করে এবং সকল সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের উপরে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উনাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে তাই তাদেরকে শিয়ানে আলী বা শিয়া বলা হয়। এদের উল্লেখযোগ্য কূফরীমূলক আক্বীদা হলঃ
    (১) হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ও হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ সকল সাহাবীর চেয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর মর্যাদা বেশী।
    (২) হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খেলাফতের পর অধিক হক্বদার ছিলেন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তাঁকে খেলাফত না দেয়ায় সকলেই মুরতাদ হয়ে গেছে, ৪ জন ব্যতীত। তারা হলেন, হযরত আলী, আম্মার, মেকদাদ ইবনে আসওয়াদ ও সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম।
    (৩) পৃথিবীর সকল নবীগণের চেয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর মর্যাদা বেশী।
    (৪) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুই নবী।
    (৫) হযরত জিব্রীল আলাইহিস সালাম ভুলে তাঁর( হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উপর ওহী নাযিল করেন নাই।
    (৬) আল্লাহ্ পাকের আকৃতি মানুষের আকৃতির ন্যায় ।

    আমি ১জন সুন্নি মাযহাব পরিত্যাগকারী বাংলাদেশী শিয়া।আমি প্রায় ৩১ বছর এবিষয়ে পড়ালেখা করে সিধ্বান্ত নিয়ে শিয়া মাযহাব গ্রহন করেছি।আপনার উপরের মিথ্যা তথ্যের কিছু জবাব আমি দিতে চাইঃ

    হযরত আলী(আঃ)রাসুলের(সাঃ) ঘোষিত ১২ইমামের ১ম ইমাম(হাদিছঃ”আমার পর ১২ জন ইমাম পরযন্ত ইসলাম সমুন্নত থাকবে এবং তারা কুরাইশ বংশ থেকে”-বুখারী-৬৭২৯)।
    আলী(আঃ)রাসুলের(সাঃ)ঘোষিত তাঁর উত্তরাধিকারী,খলিফা।আলী(আঃ)রাসুলের নেতৃ্ত্বে ৮৪টি যুধ্বের কমান্ডার,শেরে খোদা।একারনে আমরা শিয়ারা রাসুলের(সাঃ) পর আলী(আঃ)এর গুরত্ব দেই।
    ১)হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ও হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ সকল সাহাবীর চেয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর মর্যাদা বেশী।কারনঃআবুবকর,ওমর এরা ইসলাম গ্রহনের আগে মোশরেক ছিলেন।আর ওসমান ছিলেন সবচাইতে দুরনীতিবাজ।
    ২)রাসুলের(সাঃ) পর তাঁর খলিফা হবার হক্কদার হযরত আলী(আঃ),একথা সত্য।কিন্তু বাকী ৩জনকে মুরতাদ ঘোষনা শিয়ারা করেছে-এই ঘোষনা মিথ্যা।
    ৩)পৃথিবীর সকল নবীগণের চেয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু -এর মর্যাদা বেশী-এই ঘোষনা কে কোথায় করেছে?সুত্রসহ জবাব দিন।
    (৪) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুই নবী-একথা সরবাত্নক ইহুদী মারকা মিথ্যা।
    (৫) হযরত জিব্রীল আলাইহিস সালাম ভুলে তাঁর( হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উপর ওহী নাযিল করেন নাই-একথা ডাহা মিথ্যা।পারবেন কি আপনার কথার সুত্রগুলো উল্লেখ করতে?
    (৬) আল্লাহ্ পাকের আকৃতি মানুষের আকৃতির ন্যায় -এ মিথ্যা কথার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।সত্য কথগুলো জানতে পড়ুনঃইসলামের শিক্ষা রক্ষায় আহলে বাইত(আঃ)এর ভুমিকা(লেখকঃআল্লামা মুরতযা আশকারী (রঃ),অনুবাদঃমোঃনিজামুল হক,পাক্ষিক ফজর,খুলনা-০১৭১১৩৪৮৫১৪;

  4. সত্য সমাগত-মিথ্যা দুরীভূতসত্য সমাগত-মিথ্যা দুরীভূত says:

    কাদিয়ানীদের ন্যায় শিয়ারাও কাফির।

    • ador haque says:

      ১৯৮৮ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারীর মক্কা সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবে শিয়াদের জাফরী মাযহাবকে স্বীকৃতী দেয়া হয়েছে ,আপনি বা আমি বললেই শিয়ারা কাফের হয়ে যাবে।

    • ador haque says:

      ১৯৮৮ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারীর মক্কা সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবে শিয়াদের জাফরী মাযহাবকে স্বীকৃতী দেয়া হয়েছে ,আপনি বা আমি বললেই শিয়ারা কাফের হয়ে যাবে না।

    • সকাল>বিকালসকাল>বিকাল says:

      মক্কা সম্মেলনে গৃহিত প্রস্তাবে শিয়াদের একটি মাযহাব বলে স্বীকৃতী দিলেও তারা হক হয়ে যাবেনা। হক হতে হলে তাকে অবশ্যই কুরআন হাদীস ইজমা কিয়াসের ফয়সালা অনুসারে চলতে হবে। আর সেই মানদণ্ডে তারা বাতিল ফিরকা আর যারা তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে তারা যে হক্ক তা আপনি কি করে বলেন? মুসলিম খিলাফত থাকা আবস্হায় উসমান রাদিআল্লাহু তায়লা আনহু মুনাফিক দ্বারা শহীদ হয়ে ছিলেন। মক্কায় অবস্থান কারী গণ যে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা তা কি আপনি শিউর?

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে