বাতিল বিনাশ এবং হক্ব প্রতিষ্ঠায় নববী নকশায় দেদীপ্যমান খলীফাতুল উমাম, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, আল মানছূর, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনিই হলেন বারো জন খলীফা উনাদের মধ্যে এগারোতম!


বাতিল বিনাশ এবং হক্ব প্রতিষ্ঠায় নববী নকশায় দেদীপ্যমান খলীফাতুল উমাম, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, আল মানছূর, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনিই হলেন বারো জন খলীফা উনাদের মধ্যে এগারোতম!

একজন মুজাদ্দিদ, তিনি অবশ্যই মুজাদ্দিদ। একজন মুজাদ্দিদে আ’যম, তিনিও অবশ্যই মুজাদ্দিদে আ’যম। আর যিনি ওলীআল্লাহ, তিনি যে স্তরেরই হোন না কেন, তিনি ওলীআল্লাহ। তিনি মুজাদ্দিদ নন। ইলম, আমল, যিকির, ফিকির, মুরাক্বাবা, মুশাহাদা, রিয়াযত, মাশাক্কাত, ইবাদত-বন্দেগী- এসব বিষয়গুলো কামালিয়ত অর্জনের মুবারক অনুষঙ্গ হলেও হাক্বীক্বী কামালিয়ত উনার নির্যাস আবশ্যিকভাবে হাবীবু রব্বিল আলামীন, ছাহিবুল মাক্বামিল আ’লা, নূরে মুজাসসাম, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই মুবারক বখশিশ, উনারই সদয় বণ্টন। উল্লিখিত অনুষঙ্গগুলো খালিছভাবে কামালিয়ত হাছিলের সহায়ক না হলে তা পুরোপুরি গাইরুল্লাহ-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ! ওলীআল্লাহ, মুজাদ্দিদ ও মুজাদ্দিদে আ’যম হওয়ার জন্য ধমনীতে বুযুর্গ পিতা-মাতাসহ উর্ধ্বতন পূর্ব পুরুষ উনাদের মুবারক রক্ত উনার প্রবহমানতা এবং উনাদের মুবারক অনুভব উনার সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরী। যদিও বিষয়টি মূলত মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরই আখাছ্ছুল খাছ দয়া, দান ও ইহসান উনাদের পর্যায়ভুক্ত।
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, কুতুবুল আলম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, মুহইস সুন্নাহ, গাউছুল আ’যম, ইমামে আ’যম, হাদীয়ে আ’যম, রাহবারে আ’যম, ফারূক্বে আ’যম, হাবীবে আ’যম, মাহবুবে ইলাহী, নূরে মুকাররম, ছাহিবে জামিউল মাক্বামাত, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, আল মানছূর, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার বুযুর্গ পিতা তিনি সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং উনার বুযুর্গ মাতা তিনি ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম তিনি উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মুজাদ্দিদে আ’যম পিতা আলাইহিস সালাম উনার থেকে জাহিরী ও বাতিনী সব নিয়ামত হাছিল করে তিনি হয়েছেন ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, হয়েছেন আল মানছূর, হয়েছেন খলীফাতুল উমাম, হয়েছেন হাবীবুল্লাহ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ইরশাদ অনুযায়ী কুরাইশ বংশীয় ১২ (বারো) জন সম্মানিত খলীফা উনাদের মধ্যে ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, আল মানছূর, খলীফাতুল উমাম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি ১১ (এগারো)তম খলীফা। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন: “আমি তাদের (বনী-ইসরাইল) মাঝে ১২ (বারো) জন নক্বীব, অর্থাৎ খলীফা প্রেরণ করেছি”। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১২)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারক উনার ব্যাখ্যায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: “বনী ইসরাইল-এর মধ্যে ১২ (বারো) জন নক্বীব উনাদের মতো উম্মতে হাবীবী উনাদের মাঝেও ১২ (বারো) জন খলীফা উনারা খিলাফত পরিচালনা করবেন।” এ সম্পর্কে ফক্বীহুল উম্মত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন: “এ বিষয়ে আমরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সবিনয়ে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন : “বনী ইসরাইল-এর ১২ (বারো) জন নক্বীব উনাদের মতো আমার উম্মত উনাদের মাঝেও ১২ (বারো) জন খলীফা উনারা খিলাফত পরিচালনা করবেন।” (আহমদ শরীফ, বায্যার শরীফ, তারীখুল খুলাফা শরীফ)।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন: “আমি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: “আমার পরে ১২ (বারো) জন খলীফা আসবেন। (বাগবী শরীফ, তারীখুল খুলাফা শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে: “পবিত্র দ্বীন ইসলাম ততোদিন পর্যন্ত পরাক্রমশালী ও কুওওয়াতসম্পন্ন থাকবে, যতোদিন পর্যন্ত ১২ (বারো) জন খলীফা উনাদের আবির্ভাব ঘটতে থাকবে। উনারা প্রত্যেকেই হবেন কুরাইশ বংশীয়।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আহমদ শরীফ, বায্যার শরীফ, মুসাদ্দাদ শরীফ, বাগবী শরীফ, তারীখুল খুলাফা লিল জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি, মিশকাত শরীফ, ফতহুল বারী শরীফ, উমদাতুল ক্বারী শরীফ, আশয়াতুল লুমাত শরীফ, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া শরীফ, তারীখে মিল্লাত শরীফ, খিলাফাতে রাশিদা শরীফ)
উল্লিখিত ১২ (বারো) জন খলীফা উনাদের সম্পর্কে সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনায় বলেন: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: “হে পরওয়ার দিগার মহান আল্লাহ পাক! আমার খলীফাগণ উনাদের উপর রহম করুন, যাঁরা আমার পরে আসবেন। উনারা আমার পবিত্র হাদীছ শরীফ ও সুন্নত মুবারকসমূহ মানুষের কাছে বর্ণনা করবেন এবং মানুষদেরকে তা শিক্ষা দিবেন।” (ত্ববরানী শরীফ, কানযুল উম্মাল শরীফ)
১২ (বারো) জন খলীফা উনাদের আগমন এবং উনাদের খিলাফত পরিচালনা সম্পর্কে আরো অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ক্বওল শরীফ ও বিশুদ্ধ বর্ণনা রয়েছে।
এসব পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ব্যাখ্যায় দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: “ ক্বিয়ামত পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে ১২ (বারো) জন খলীফা উনাদের আবির্ভাব ঘটবে। উনারা উম্মতের প্রয়োজন মুতাবিক যথাসময়ে প্রকাশিত হবেন।” (তারীখুল খুলাফা শরীফ, তারীখে মিল্লাত শরীফ, খিলাফতে রাশিদা শরীফ, বিদায়া ওয়ান নিহায়া শরীফ)
তিনি উনার তারীখুল খুলাফা কিতাবে ১২ (বারো) জন খলীফা উনাদের মধ্যে ৮ (আট) জন খলীফা উনাদের মুবারক পরিচিতি উল্লেখ করেছেন। উনারা হলেন: ১. আফদ্বালুন নাছ বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম ২. আশিদ্দাউ আলাল কুফফার সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম ৩. জামিউল কুরআন সাইয়্যিদুনা হযরত উসমান যুননূরাইন আলাইহিস সালাম ৪. আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম ৫. ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতিন রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ৬. হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু ৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ৮. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি।
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণনা মতে অবশিষ্ট ৪ (চার) জন খলীফা উনাদের মধ্যে নবম হচ্ছেন ত্রয়োদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। দশম খলীফা হচ্ছেন পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি (রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা)। আর ১১ (এগারো)তম খলীফা হচ্ছেন খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, কুতুবুল আলম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, মুহইস সুন্নাহ, গাউছুল আ’যম, ইমামে আ’যম, হাদীয়ে আ’যম, রাহবারে আ’যম, ফারূক্বে আ’যম, হাবীবে আ’যম, মাহবূবে ইলাহী, নূরে মুকাররম, ছাহিবে জামিউল মাক্বামাত, মুজাদ্দিদে মাদারযাদ, খলীফাতুল উমাম, আওলাদে রসূল, আল মানছূর, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি (রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা)। সুবহানাল্লাহ! সর্বশেষ, অর্থাৎ ১২ (বারো)তম খলীফা হবেন হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
খলীফাতুল উমাম, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা ক্বা’বা আলাইহিস সালাম উনার সীমাহীন ছানা-ছিফত প্রকাশের ক্ষেত্রে আমরা একান্তই অযোগ্য, একান্তই অক্ষম। যে অতুলনীয় যোগ্যতা, উৎকর্ষতা, মহিমা ও সমুন্নত মাক্বামতসহ উনার মুবারক আবির্ভব ঘটেছে, তাতে বাতিলের সমূলে ধ্বংস অনিবার্য।
মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি অনুগ্রহ করে আমাদের সকলকে উনার আনুগত্য করার, গোলামী করার এবং উনাকে তাযিম-তাকরীম ও মুহব্বত করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে