বান্দা যে সকল নিয়ামত চায়; মহান আল্লাহ পাক তিনি শুধু মুত্তাক্বিকেই তা দান করেন


প্রত্যেক বান্দা-বান্দির উচিত, তাকওয়া অবলম্বন করা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে গুনাহর কাজ হতে বিরত থাকা। তাহলেই মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকওয়া অবলম্বনকারীকে অর্থাৎ মুত্তাক্বিকে এমন নিয়ামত দান করবেন, যে সকল নিয়ামত প্রয়োজন বান্দারা অর্থাৎ বান্দা চায় বা আশা করে। আর এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। সাতটি জিনিসের জন্যে অধিকাংশ মানুষ বা চায়; কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্তাক্বি ব্যতীত অন্য কাউকে দান করেন না। যেমন:
(১) প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় গুনাহর কাফফারা কামনা করে কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি তা মুত্তাক্বির জন্যে তা ওয়াদা করেছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। (পবিত্র সূরা তলাক শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৫)
(২) জাহান্নাম থেকে মুক্তি বা নাজাত সবাই কামনা করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্তাক্বির জন্য ওয়াদা করেছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “যারা তাকওয়া অবলম্বন করল, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সকলকে মুক্তি দিবেন। (পবিত্র সূরা যুমার শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৬১)
(৩) প্রত্যেকেই উত্তম জীবন চায়; কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্তাক্বিকেই তা দান করেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “মুত্তাক্বি উনাদের জন্যেই তো উত্তম পরিণাম।”
(৪) সবাই জান্নাতবাসী হতে চায়; কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্তাক্বিকে তথা উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতের অনুসারীকেই তা দান করেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী আমি আমার (হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতের অনুসরণকারী আশিক) মুত্তাক্বি বান্দাকেই দান করি। (পবিত্র সূরা মরিয়ম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩৩)
(৫) সবাই মহান আল্লাহ পাক উনার সান্নিধ্য ও সাহায্য চায়; কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্তাক্বিকে তা দান করেন, এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের সাথেই আছেন, যারা পরহেযগার ও নেককার। (পবিত্র সূরা নহল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৮)
(৬) সবাই মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত চায়; কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি তা মুত্তাকির জন্যে ওয়াদা করেছেন। “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক মুত্তাক্বিদের মুহব্বত করেন।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৪)
(৭) প্রত্যেকেই স্বীয় আনুগত্য, মকবুল হওয়া চায়; কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্তাক্বিদের থেকে গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি শুধু মুত্তাকিদের নিকট হতে তা গ্রহণ করেন।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-২৭)
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী মুত্তাক্বি হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামতসমূহ হাছিল করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে