বাবুল মুরাদ, আত তাক্বী, আয যাকী, মুরতযা, মুজতবা, মালিকুল কায়িনাত সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১৯৫ হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত ও পবিত্র ১০ই রজবুল হারাম শরীফ জুমু‘য়াহ শরীফ রাতে সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় বরকতময় ঘটনা মুবারক:

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
فَخَلَقْتُكَ وَاَهْلَ بَيْتِكَ مِنَ الْقِسْمِ الْاَوَّلِ
অর্থ: “আমি আপনাকে এবং আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র প্রথম ভাগ নূর মুবারক তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র একই নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (নুয্হাতুল মাজালিস, আল বারাহীন)
সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা একই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি। সুবহানাল্লাহ!এ বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে গেছে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময়। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাকীমাহ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র হুজরা শরীফ মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়ে দেখতে পান যে, একখ-মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক সম্মানিত সিজদা মুবারকরত অবস্থায় এবং সম্মানিত ও পবিত্র কালিমায়ে শাহাদাত শরীফ পাঠ করা অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক উনার আলোয় সমস্ত কিছু আলোকিত হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
تعجبت حكيمة بِنْت موسى الكاظم علَيها السلام عَمَّةُ الإمام محمد التقى عليه السلام وقالت من هذا النور الذي خرّ ساجداً لربه فور دخوله الى الدنيا.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা ফুফু সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাকীমাহ আলাইহাস সালাম তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ইনি কোন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক, যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় উনার যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত সিজদা মুবারকরত অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
অপর বর্ণনায় রয়েছে, “সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাকীমাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তৃতীয় দিন উনার নিকট তাশরীফ মুবারক নিয়ে দেখতে পাই যে, তিনি প্রথমে আকাশের দিকে তাকালেন। তারপর তিনি ডানে-বায়ে তাকিয়ে পাঠ করতে লাগলেন
اشهدُ ان لا اله الا الله واشهد انّ محمّدا رسول الله صلى الله عليه وسلم
অর্থ: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাকীমাহ আলাইহাস সালাম তিনি যখন সব ঘটনা মুবারক উনার মহাসম্মানিত ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে খুলে বললেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি যা দেখেছেন, সামনে এর চেয়ে আরো অনেক বিস্ময়কর ঘটনা মুবারক উনার থেকে প্রকাশ পাবে। সুবহানাল্লাহ!
আরো বর্ণিত রয়েছে,
قال الامام حضرت على الرضا عليه السلام هذا المولود الذي لم يولد أعظم بركة منه.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, এই মহাসম্মানিত শিশু আলাইহিস সালাম উনার অনুরূপ মহাসম্মানিত বরকতময় কোনো শিশু জন্ম গ্রহণ করেনি।” সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা কারো মতো নন এবং উনাদের সাথে কারো কোন তুলনা করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এ সকল মহাসম্মানিত বরকতময় ঘটনা মুবারক দ্বারা এ বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!
সেটাই সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ لَّا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, কানযুল উম্মাল ১২/১০৪, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা লিমুহিব্বে ত্ববারী ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭ ইত্যাদি)

সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৭ম দিনে সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার বেমেছাল সাখাওয়াত বা বদান্যতার কারণে সকলের মাঝে সম্মানিত ‘আল জাওওয়াদ আলাইহিস সালাম’ লক্বব মুবারক-এ পরিচিতিমুবারক লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনার বেমেছাল তাক্বওয়া ও খোদাভিতির কারণে উনাকে ‘আত তাক্বী আলাইহিস সালাম’ লক্বব মুবারক-এ সম্বোধন মুবারক করাহতো। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
وكان من الموصوفين بالسخاء ولذلك لقب الجواد
অর্থ: “আর সাখাওয়াত বা বদান্যতা মুবারকছিলো উনার একখানা বিশেষ ছিফত মুবারক, তাই উনার একখানা সম্মানিত লক্বব মুবারক ছিলেন ‘আল জাওওয়াদ আলাইহিস সালাম’।” সুবহানাল্লাহ! (আল ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
بالتقي ويلقبونه
অর্থ: “উনাকে সকলে ‘আত তাক্বী আলাইহিস সালাম’ সম্মানিতলক্বব মুবারক দ্বারা সম্বোধন মুবারককরতো।”সুবহানাল্লাহ!(তাহ্ওয়ীলুল ক্বিবলাহ)

সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন ‘আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
كنيته أبو جعفر عليه السلام.
অর্থ: “উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক ছিলেন, হযরত আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (সিমতুন নুজূম)
যেহেতু উনার সম্মানিত দাদাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক ছিলেন ‘আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম’তাই কেউ কেউ উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক ‘আবূ জা’ফর ছানী আলাইহিস সালাম’ বলেছেন। সুবহানাল্লাহ!

আবূ জা’ফর কুনিয়াত মুবারক-এ মাশহূর হওয়ার কারণ:

জা’ফর শব্দ মুবারক উনার একখানা সম্মানিত অর্থ মুবারক হচ্ছেন ‘জামিউন নি‘য়ামত ও জামি‘উন নিসবত তথা সমস্ত সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক এবং সমস্ত সম্মানিত নিসবত মুবারক উনাদের অধিকারী, মালিক।’ সুবহানাল্লাহ! যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতিনি সমস্ত সম্মানিত নি‘য়ামত মুবারক ও সম্মানিত নিসবত মুবারক উনাদের মালিক ছিলেন, তাই উনাকে উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম’ এই সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক-এ সম্বোধনমুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!
যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে কোনো চিঠি মুবারক আসতো, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলতেন, ‘আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে লিখেছেন’। সুবহানাল্লাহ!
সেখান থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম’ এ সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক-এ মাশহূর হন। যদিও উনার ‘হযরত জা’ফর আলাইহিস সালাম’ এইনাম মুবারক-এ কোনো আওলাদ ছিলেন না। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ইলম মুবারক:

মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবংউনার হাবীব,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎউনারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার সম্মানিতইলম-কালাম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেই উনাকে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকারসম্মানিত ইলাম-কালাম মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!
কোন এক প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,“আমার থেকে শোনারপ্রয়োজন নেই, হযরত আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম উনাকে আমার স্থলাভিষিক্ত করেছি। যে কোনপ্রশ্ন ও সমস্যা থাকলে, উনাকে প্রশ্নকরো। তিনি জবাব দিবেন। আমাদের মহাসম্মানিত পরিবার মুবারক এমন এক মহাসম্মানিত পরিবার মুবারক যে, এ মহাসম্মানিত পরিবার মুবারক উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে সম্মানিত ইলম মুবারক উনার হাক্বীক্বত ও মা’রিফাত পরিপূর্ণরূপে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ!
মূলত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যেই সম্মানিত অসীম ইলম মুবারক, সেই সম্মানিত অসীম ইলম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ আলাইহিস সালাম তিনি বংশানুক্রমে হাছিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যা ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ক্বওল শরীফ দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ১৩ বছর ২ মাস ১১ দিন, তখন উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

বহিঃপ্রকাশ মুবারক

যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ৯ম ইমাম হিসেবে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তবে উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে সম্মানিত ইমামত মুবারক উনার দায়িত্ব মুবারক হস্তান্তর মুবারক করে যান। তখন তিনি যাহিরীভাবে ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে সকলের মাঝে প্রকাশ পান। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক অনুযায়ী উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ১৩ বছর ২ মাস ১১ দিন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলতেন, “আমারপরে হযরত আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন আমার উত্তরাধিকারী ও স্থলাভিষিক্ত। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমার পর সম্মানিত ইমামত মুবারক উনার মহান দায়িত্ব পালন করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
কোন এক প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,“আমার থেকে শোনারপ্রয়োজন নেই, হযরত আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম উনাকে আমার স্থলাভিষিক্ত করেছি। যে কোনপ্রশ্ন ও সমস্যা থাকলে, উনাকে প্রশ্নকরো। তিনি জবাব দিবেন। আমাদের মহাসম্মানিত পরিবার মুবারক এমন এক মহাসম্মানিত পরিবার মুবারক যে, এ সম্মানিত পরিবার মুবারক উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের মহাসম্মানিত পিতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে সম্মানিত ইলম মুবারক উনার হাক্বীক্বত ও মা’রিফাত পরিপূর্ণরূপে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ!
একদা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সুওয়াল করে, যদি আপনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তাহলে আমরা কার কাছে যাবো? তিনি বললেন, আমার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম উনার নিকট যাবেন। সুবহানাল্লাহ!
সুওয়ালকারী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই সম্মানিত বয়স মুবারক কে সম্মানিত ইমামত মুবারক উনার জন্য উপযুক্ত মনে করেনি। না‘ঊযুবিল্লাহ! সে ভাবলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই অল্প বয়স মুবারক-এ কিভাবে সম্মানিত ইমামত মুবারক উনার উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে পারেন? তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ঈসারূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে দোলনা মুবারক-এ থাকা অবস্থায় সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।” সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ইলমে গইব মুবারক এবং সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ

বিশ্বখ্যাতকিতাব ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ উনার লিখক আল্লামা আবুল আব্বাস আহমদ শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজার হাইতামী রহমতুল্লাহ আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আছ ছওয়া‘িয়কুল মুহরিক্বাহ’ উনার মধ্যে বর্ণনা করেন,
ومما اتفق له أنه بعد موت أبيه بسنة واقف والصبيان يلعبون في أزقة بغداد إذ مر المأمون ففروا ووقف محمد وعمره تسع سنين والقول الاصح عمره اربع عشرة سنة فألقى اللهمحبتهفي قلبه فقال له يا غلام ما منعك من الانصراف فقال له مسرعا يا أمير المؤمنين لم يكن بالطريق ضيق فأوسعه لك وليس لي جَرَمٌ فأخشاك والظن بك حسن أنك لا تضر من لا ذنب لهفأعجبه كلامه وحسن صورته فقال له ما اسمك واسم أبيك فقال محمد بن علي الرضى فترحم على أبيه وساق جواده
وكان معه بُزَاةٌ للصيد فلما بعد عن العمار أرسل بازه على دراجة فغاب عنه ثم عاد من الجو في منقاره سمكة صغيرة وبها بقاء الحياة فتعجب من ذلك غاية العجب ورجع فرأى الصبيان على حالهم ومحمد عندهم ففروا إلا محمدا فدنا منه وقال له ما في يدي فقال يا أمير المؤمنين إن الله تعالى خلق في بحر قدرته سمكا صغارا يصيدها بازات الملوك والخلفاء فيخبر بها سلالة أهل بيت المصطفى
فقال له أنت ابن الرضى حقا وأخذه معه وأحسن إليه وبالغ في إكرامه فلم يزل مشفقا به
অর্থ: “এ বিষয়ে সকলে ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার এক বছর পর বাগদাদ শরীফ উনার এক গলিতে দাঁড়ানো ছিলেন। আর বালকরা বাগদাদ শরীফ উনার গলিতে খেলাধূলা করছিলো। হঠাৎ মামূনুর রশীদসেখান দিয়ে গমন করলো, তখন সকল বালকরা (মুমূনুর রশীদকে দেখে ভয়ে পথ ছেড়ে)পালিয়ে গেল। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বস্থানে দাঁড়িয়ে রইলেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৯বছর। তবে সর্বাধিকবিশুদ্ধ মতে ১৪ বছর বয়স মুবারক। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মুমূনুর রশীদের অন্তরে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারক ঢেলে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন মামূনুর রশীদ বললো, হে মহাসম্মানিত বালকআলাইহিস সালাম! কোন জিনিস আপনাকে চলে যেতে নিষেধ করলো? অর্থাৎ আমাকে দেখার সাথে সাথে অন্য সকল বালকরা দৌড়ে পালালো, অথচ আপনি স্বস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তার কারণ কী? সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাথে সাথে অতি দ্রুত জাওয়াব দিলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! পথ সংকীর্ণ নয় যে, আমি সরে গিয়ে আপনার পথ প্রশস্ত করে দিবো। আর আমি কোন অপরাধও করিনি যে আপনাকে ভয় পাবো।আপনার প্রতি আমার সুধারণা রয়েছে যে, আপনি বীনা অপরাধে কাউকে শাস্তি দেন না। উনার সম্মানিত কথা-বার্তা মুবারক এবং উনার সম্মানিত সুন্দর চেহারা মুবারকমামূনুর রশীদকে বিস্মিত করে তুললো। তখন মামূনুর রশীদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললো, আপনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারককী? আর আপনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক কী? তিনি বললেন, (আমি হচ্ছি) মুহম্মদ ইবনে আলী রেযা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!তখন মামুনুর রশীদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে সহানুভূতি প্রকাশ করলোএবংসাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার বদান্যতার বিষয় বর্ণনা করলো। সুবহানাল্লাহ!
মামূনুর রশীদের নিকট অনেক শিকারী বাজপাখি ছিলো। যখন সে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে চলে গেলো। তখন সে তার একটি বাজ পাখি শিকারের জন্য ছেড়ে দিলো। বাজ পাখিটি অদৃশ্য হয়ে গেলো। অতঃপরবাজ পাখিটিতারচঞ্চুতে করে (থাবায় করে)ভূ-ম-ল থেকেএকটি অর্ধ জীবিত ছোট মাছনিয়েফিরে আসলো। মামূনুর রশীদ এটা দেখে অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করলোএবং (পূর্বের জায়গায়) প্রত্যাবর্তন করলো। সে দেখলো যে বালকগুলো আগের অবস্থায় আছে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (এখনও)তাদেরনিকট সম্মানিত অবস্থান মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! (মামূনুর রশীদকে দেখে) বালকগুলো ভয়ে পালিয়ে গেলো।কিন্তুসাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বস্থানে দাঁড়িয়ে রইলেন। তখন মামূনুর রশীদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটবর্তী হলো এবং উনাকে উদ্দেশ্য করে বললো, (বলুন তো)
ما في يدي فقال يا أمير المؤمنين إن الله تعالى خلق في بحر قدرته سمكا صغارا يصيدها بازات الملوك والخلفاء فيخبر بها سلالة أهل بيت المصطفى
আমার হাতে কী? জবাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন,হে আমীরুল মু‘মিনীন!নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার সমুদ্রে এক প্রকার ছোট মাছ সৃষ্টি করেছেন। যেই মাছগুলো রাজা-বাদশাহ ও খলীফাদের বাজপাখীরা শিকার করে থাকেআর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সদস্যগণ উনারা সে বিষয়ে সংবাদ মুবারক দিয়ে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!তখন মামূনুর রশীদ বললো যে, আপনি হাক্বীক্বীভাবেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তারপর মামূনুর রশীদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথেনিয়ে গেলো, উনার সাথে অনেক উত্তম ব্যবহার করলো এবং উনাকে অনেক তা’যীম-তাকরীম করলো। কখনও উনার প্রতি তারউত্তম ব্যবহারে ত্রুটি ঘটেনি।” সুবহানাল্লাহ! (আছ ছাওয়াইকুল মুহরিক্বাহ ৫৯৬-৫৯৭)

সম্মানিত ও পবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ:

আল্লামা আবুল আব্বাস আহমদ শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজার হাইতামী রহমতুল্লাহ আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আছ ছওয়া‘িয়কুল মুহরিক্বাহ’ উনার মধ্যে বর্ণনা করেন,
لما ظهر له بعد ذلك من فضله وعلمه وكمال عَظَمَته وظهور برهانه مع صغر سنه وعزم على تزويجه بابنته أم الفضل وصمم على ذلك فمنعه العباسيون من ذلك
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারকঅল্প হওয়া সত্ত্বেও যখন উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক, সম্মানিত ইলম মুবারক, উনার পরিপূর্ণ আযমত বা শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক এবং উনার (সম্মানিত শান-মান,ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের) প্রমানসমূহ ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেলো, তখন মামূনুর রশীদ তার মহাসম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল আলাইহাস সালাম উনাকেহযরতইমামুত তাসী মিন আহলিবাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দেয়ার জন্য সংকল্প করলো এবং এ বিষয়ে দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করলো। তখন আব্বাসীয়রা মুমূনুর রশীদকে এ বিষয়ে বাধা দিলো।” (আছ ছওয়া‘িয়কুল মুহরিক্বাহ)
অপর বর্ণায় রয়েছে, মামূনুর রশীদ যখন সিদ্ধান্ত নিলো যে, সে তার নিজ কন্যা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিবে, তখন তার নিকটাতœীয়রা তাকে ঘিরে ধরলো এবং বললো, হে মামুনুর রশীদ! আমরা তোমাকে ক্বসম করে বলছি, তুমি এমন কোন কাজ করবে না, যাতে আমাদের হাতে যে রাজত্ব রয়েছে তা হাতছাড়া হয়ে যায় এবং খিলাফতের এই যে পরিচ্ছদ আমাদের দেহে শোভা বর্ধন করছে তা আমাদের দেহ থেকে খুলে পড়ে যায়।
মামুনুর রশীদ বললো, চুপ করো। আমি তোমাদের কারও থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্বন্ধে কিছুই গ্রহণ করবো না। তারা বললো, হে মামুনুর রশীদ! তোমার কন্যা ও নয়ণের মণি উনাকে তুমি এমন এক শিশুর সাথে বিবাহ দিচ্ছো যাঁর এখনো মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীনে জ্ঞান চক্ষু ফোটেনি, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! যিনি দ্বীনের হালাল হারাম ও মুস্তাহাব এবং ওয়াজিবকে এখনো চেনেন না। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! সুতরাং যদি কিছু অপেক্ষা করতে যাতে জ্ঞান ও শিষ্টাচার শিখে নিত এবং সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করতো, হালাল ও হারামকে বুঝতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! মামুনুর রশীদ বললো, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ও উনার রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি, সম্মনিত ও পবিত্র সুন্নাত মুবারক ও হুকুম আহকামের ক্ষেত্রে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এখনো তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ ও অত্যন্ত জ্ঞানী। তিনি তোমাদের চেয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ও পবিত্র কালাম সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে উত্তমরূপে পড়েন ও জানেন। তিনি সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মুহকাম-মুতাশাবিহ, শারেহ-মাশরূহ, যাহির-বাতিন, খাছ-আম, তানযীল-তা’বীল সর্ববিষয়ে তোমাদের চেয়ে সীমাহনী সম্মানিত ইলম মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনাকে সুওয়াল করো। যদি ব্যাপার এমন হয় যেমনটা তোমরা বলছো, তাহলে আমি তোমাদের কথা মেনে নিবো।
তারা সেখান থেকে চলে গেল এবং হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট উপস্থিত হলো। তিনি ছিলেন সে সময় কাজীউল কুজ্জাত তথা প্রধান বিচারপতি। তারা উনার কাছে তাদের দরকারি কথাটি বললো এবং উনাকে নানা উপঢৌকনের প্রলোভন দেখালো যাতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মোকাবেলায় উপায় খুঁজে বের করে। তারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এমন এক মাসআলা জিজ্ঞেস করতে বললো যার উত্তর উনার জানা না থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!না‘ঊযুবিল্লাহ!
যখন সবাই উপস্থিত হলো এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিলেন তখন তারা বললো, ‘হে মামুনুর রশীদ! ইনি হলেন প্রধান বিচারপতি। যদি তুমি বলো, তাহলে তিনি প্রশ্ন করবেন! মামুনুর রশীদ বললো, হে হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম রহমতুল্লাহি আলাইহি! একটি ফিক্বহী মাসআলা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে জিজ্ঞেস করুন, যাতে বুঝতে পারেন উনার ফিক্বহী ইলম মুবারক কোন স্তর মুবারক-এ। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকছাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সম্মানিত ও পবিত্র হজ্জ মুবারক উনার সময় পশু শিকার নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সেই ইহরামকারীর ব্যাপারে আপনার বক্তব্য মুবারক কি যে কোন শিকার হত্যা করেছে তথা পশু শিকার করেছে?
فقال له أبو جعفر عليه السلام: قتله في حلّ أو حرم؟ عالماً كان المحرم أم جاهلاً؟ قتله عمداً أم خطأ؟ حرّاً كان المحرم أم عبداً؟ صغيراً كان أم كبيراً؟ مبتدئاً بالقتل أم معيداً؟ من ذوات الطير كان الصيد أم من غيرها؟ من صغار الصيد أم من كبارها؟ مصرّاً على ما فعل أم نادماً؟ في الليل كان قتله للصيد أم في النّهار؟ محرماً كان بالعمرة إذ قتله أم الحج كان محرماً؟ فتحيّر يحيى بن أكثم وبان في وجهه العجز والإنقطاع ولجلج حتّى عرف جماعة أهل المجلس أمره،
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, শিকারটিকে হেরেমের বাইরে হত্যা করেছে নাকি হেরেমের (কাবার চারপাশের নিষিদ্ধ সীমার) মধ্যে? সে মাসআলা জানতো নাকি অজ্ঞ ছিলো? ইচ্ছাকৃত হত্যা করেছে নাকি ভুলবশত? সে ইহরামকারী গোলাম ছিলো নাকি আজাদ (মুক্ত) ছিলো? ছোট (না বালেগ) ছিলো নাকি বড় (বালেগ) ছিলো? এটা তার প্রথম শিকার ছিলো নাকি ইতিপূর্বও সে শিকার করেছিল? শিকারটি কি পাখী ছিলো নাকি অন্য কিছু? ছোট পাখী ছিলো নাকি বড় পাখী? ইহরামকারী কি পুনরায় শিকার করার জেদ পোষণ করে নাকি অনুতপ্ত? এ শিকার রাতের বেলায় পাখীদের বাসা থেকে ছিলো নাকি দিনের আলোয় প্রকাশ্যে? ইহরাম হজ্জের জন্যে বেঁধে ছিলো নাকি ওমরাহর জন্যে?
فتَحَيَّرَ يحيى بن أَكثم وبانَ في وجهه الْعَجْزُ والانقطاعُ و لَجْلَجَ حتى عَرَفَ جمَاعَةُ أَهْلِ المجلس أمْرَه
হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকছাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এমনভাবে হতভম্ব হয়ে গেলেন যে, উনার চেহারা মধ্যে অপারগতা ও অক্ষমতার ভাব পরিপূর্ণরূপে ফুটে উঠলো এবং তিনি তুতলামী শুরু করে দিলেন। ফলে মজলিসের উপস্থিত সবাই ইয়াহইয়া ইবনে আকছাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরাজয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলো। সুবহানাল্লাহ!
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
فلما ذكر لهم أنه إنما اختاره لتميزه على كافة أهل الفضل علما ومعرفة وحلما مع صغر سنه فنازعوا في اتصاف محمد بذلك ثم تواعدوا على أن يرسلوا إليه من يختبره فأرسلوا إليه يحيى بن أكثم بشيء كثير إن قطع لهم محمدا ووعدوه فحضروا للخليفة ومعهم ابن أكثم وخواص الدولة فأمر المأمون بفرش حسن لمحمد فجلس عليه فسأله يحيى مسائل أجابه عنها بأحسن جواب وأوضحه فقال له الخليفة أحسنت أبا جعفر فإن أردت أن تسأل يحيى ولو مسألة واحدة فقال له ما تقول في رجل نظر إلى امرأة أول النهار حراما ثم حلت له ارتفاعه ثم حرمت عليه عند الظهر ثم حلت له عند العصر ثم حرمت عليه المغرب ثم حلت له العشاء ثم حرمت عليه نصف الليل ثم حلت له الفجر فقال يحيى لا أدري
فقال له محمد هي أمة نظرها أجنبيبشهوة وهي حرام ثم اشتراها ارتفاع النهار فأعتقها الظهر وتزوجها العصر وظاهر منها المغرب وكفر العشاء وطلقها رجعيا نصف الليل وراجعها الفجر
فعند ذلك قال المأمون للعباسيين قد عرفتم ما كنتم تنكرون
ثم زوجه في ذلك المجلس بنته أم الفضل ثم توجه بها إلى المدينة
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারকঅল্প হওয়া সত্ত্বেও যখন উনার সম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক, সম্মানিত ইলম মুবারক, উনার পরিপূর্ণ আযমত বা শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক এবং উনার (সম্মানিত শান-মান,ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের) প্রমানসমূহ ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেলো, তখন মামূনুর রশীদ তার মহাসম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল আলাইহাস সালাম উনাকেহযরতইমামুত তাসী মিন আহলিবাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দেয়ার জন্য সংকল্প করলো এবং এ বিষয়ে দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করলো। তখন আব্বাসীয়রা মুমূনুর রশীদকে বাঁধা দিলো। তারপর মামূনুর রশীদ যখন তাদের সাথে আলোচনা করলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ আলাইহিস সালাম উনাকে সে এ জন্য পছন্দ করেছে যে, উনার সম্মানিত বয়স মুবারকঅল্প হওয়া সত্ত্বেও সম্মানিত ইলম মুবারক, সম্মানিত মা’রিফাত মুবারক এবং সম্মানিত বিচক্ষণতা ও ধৈর্য্যশীলতার দিক থেকে পরিপূর্ণ মর্যাদার অধিকারী।সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে এই সকল সম্মানিত ছিফত মুবারক বা বৈশিষ্ট্য মুবারক উনাদের অধিকারী এ বিষয়ে তারা বিরোধীতা করলো। তখন তারা পরস্পর ওয়াদা করলো যে, তারা এমন এক ব্যক্তিকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট প্রেরণ করবে, যে উনাকে পরীক্ষা করবে। তাই তারা হযরত ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে আকছাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রেরণ করলো। আর তারা উনাকে অনেক বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দিলোএইজন্য যে, যদি তিনি তাদের জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ আলাইহিস সালাম উনাকে বাধা দিতে পারেন। তারপর তারা হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকছাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এবং রাজ্যের বিশেষ ব্যক্তিদেরকেসহ মামূনুর রশীদের নিকট উপস্থিত হলো। তখন মামূনুর রশীদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য একখানাঅতিউত্তম বিছানা বা আসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিলেন। তারপর হযরত ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনেক মাসয়ালা-মাসায়িল জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি অতি উত্তমভাবে সে সকল মাসয়ালা-মাসায়িলের জবাব দিলেন এবং সেগুলো ব্যাখ্যা করে হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকছাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বুঝিয়ে দিলেন। তখন মামুনুর রশীদ উনাকে বললো, হে হযরত আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম! অপনি অতি উত্তম জবাবমুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আপনি যদি ইচ্ছা মুবারক করেন, তাহলে ইয়াহইয়াইবনে আকছাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেকিছু জিজ্ঞাসা করেন। উনাকে অন্তত একটি মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করুন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকছাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, আপনি এমন ব্যক্তির ব্যাপারে কি বলেন, যে ব্যক্তি দিবসের প্রথমভাগে এক মহিলার দিকে অবৈধ দৃষ্টি দিলো। তারপর দ্বিপ্রহরের সময় উক্ত মহিলা তার জন্য হালাল হয়ে গেলো। অতঃপর যুহরের সময় উক্ত মহিলা তার জন্য হারাম হয়ে গেলো। তারপর আছরের সময় তার জন্য সে মহিলা হালাল হয়ে গেলো। অতঃপর মাগরিবের সময় তার জন্য হারাম হয়ে গেলো। তারপর ঈশার সময় তার জন্য হালাল হয়ে গেলো। অতঃপর মধ্যরাতে তার জন্য হারাম হয়ে গেলো। তারপর ফজরের সময় তার জন্য হালাল হয়ে গেলো। জবাবে হযরত ইয়াহইয়া ইবনে আকছাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি জানি না। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, সেই মহিলা হচ্ছে দাসী। একজন অপরিচিত ব্যক্তি শাহাওয়াতের সাথে তার দিকে দৃষ্টি দিয়েছিলো, এটা তার জন্য হারাম। তারপর এ ব্যক্তি উক্ত দাসীকে দ্বিপ্রহরের সময় ক্রয় করলো, (তখন তার জন্য হালাল হয়ে গেলো) যুহরের সময় আযাদ করে দিলো,(তখন তার জন্য হারাম হয়ে গেলো) আছরের সময় তাকে বিবাহ করলো,(তখন তার জন্য হালাল হয়ে গেলো) আর মাগরিবের তার সাথে জিহার করলো, (তখন তার জন্য হারাম হয়ে গেলো) ইশার সময় কাফ্ফারা আদায় করলো,(তখন তার জন্য হালাল হয়ে গেলো) আর মধ্যরাতে তাকে রেজ‘য়ী তালাক্ব দিলো (তখন তার জন্য হারাম হয়ে গেলো) এবং ফজরের সময় রজা‘য়াত করলো তথা ফিরিয়ে নিলো।(তখন আবার হালাল হয়ে গেলো) সুবহানাল্লাহ! সেই মুহূর্তে মামূনুর রশীদ আব্বাসীয়দেরকে বললো, তোমরা যে বিষয়ে অবজ্ঞা করেছিলো, তোমরা কী তা বুঝতে পেরেছো? তারপর মামূনুর রশীদ ঐ মজলিসেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তার মহাসম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবেত আযীম শরীফ দেয়।” সুবহানাল্লাহ! (আছ ছওয়া‘িয়কুল মুহরিক্বহ)
মামুনুর রশীদ ঐ মজলিসেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলে, হে হযরত আবূ জা’ফর আলাইহিস সালাম! আমি আমার মহাসম্মানিত বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল আলাইহাস সালাম উনাকে আপনার নিকট সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দিতে চাই, আপনি দয়া করে কবূল করুন! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!তারপর ঐ মজলিসেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নিসবেত আযীম শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত মোহরানা মুবারক:

সম্মানিত মোহরানা মুবারক ছিলেন মোহরে যাহরাই শরীফ তথা ৫০০ দিরহাম। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা মুবারক:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
ثم توجه بها إلى المدينة
তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে সম্মানিত ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।” সুবহানাল্লাহ! (আছ ছওয়া‘িয়কুল মুহরিক্বহ)

সাইয়্যিদাতুনা হযরত সম্মানাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল ফযল আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাম্মানাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ

সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাম্মানাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ করার পর উনার মাধ্যমে ২১০ হিজরী সনের ১৫ই যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আলী নক্বী আলাইহিস সালাম) তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত মু’জিযা শরীফ

একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি তিনি বর্ণনা করেন, আমরা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন মুরীদের সাথে সফরে যেতে ইচ্ছুক ছিলাম। রওয়ানা হওয়ার পূর্বে আমরা বিদায় নেয়ার জন্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ হাযির হলাম। তিনি বললেন, আজ বাইরে যেও না। আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা কর। বাইরে আসার পর আমার সাথী বললো, আমি যাচ্ছি। কারণ, আমার বন্ধু রওয়ানা হয়ে গেছে। একথা শুনে আমি ব্যতিব্যস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আর সে চলে গেলো। পরে জানতে পারলাম তারা রাতে যে উপত্যকায় অবস্থান করছিল, সেখানে ভয়াবহ বন্যা আসায় তারা ডুবে মারা গিয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহিদুন নুবুওওয়াত)
অপর একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি তিনি বর্ণনা করেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হয়ে বললাম, অমুক বুযুর্গ ব্যক্তি আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি আপনার কাছে কাফনের কাপড় প্রার্থনা করেছেন। তিনি বললেন, তিনি এখন এসব বিষয়ের ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। একথা শুনে আমি বের হয়ে এলাম। কিন্তু; উনার সম্মানিত ক্বওল মুবারক (উক্তি মুবারক) উনার মর্ম বুঝতে পারলাম না। অনেক চিন্তা-ফিকির করে ঐ সম্মানিত ক্বওল মুবারক (উক্তি মুবারক) উনার মর্ম উৎঘাটন করার কোশেশে লিপ্ত হলাম। অবশেষে জানতে পারলাম যে, তিনি এর তের-চৌদ্দ দিন পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ইলমে তাসাউফ উনার সম্মানিত তা’লীম মুবারক প্রদান

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মানুষের কুপ্রবৃত্তিকে দমন করার ওপর গুরুত্ব দিতেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কুপ্রবৃত্তির বাহনে যে আসীন হয়েছে ও খেয়ালীপনার চাবুক ব্যবহার করছে সে কখনও অধঃপতন থেকে মুক্ত হবে না।’ তিনি আরো বলেন, নফসের অনুসরণের ফলে যে ক্ষতি হয়, তা কখনও পুরণ হয় না।
এক ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উপদেশ চাইলে তিনি তাকে বলেন, ‘উপদেশ কি মেনে চলবে? সে বলল, জি হ্যাঁ। অবশ্যই আমি তা পালন করবো তখন ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- “ধৈর্যকে বালিশ বানাও, মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি রুজু হও, লোভ-লালসা বর্জন করো এবং বদ স্বভাবের বিরুদ্ধাচরণ করো। জেনে রাখ যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সব সময় তোমাকে দেখছেন। এরপর দেখ কেমন থাকো।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চিন্তা-ফিকির করে যে কোনো কাজ করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি কোনো কাজে প্রবেশের পথ চেনে না, সে সেখান থেকে বের হতেও পারবে না। যে কোনো কাজ করার আগে সে বিষয়ে চিন্তা-ফিকির করা হলে সে বিষয়ে মানুষকে অনুশোচনা করতে হয় না।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক উনার শেষ দু’বছরে আব্বাসীয় শাসক ছিলো মু’তাসিম। মু’তাসিম মানুষের মাঝে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অধিক জনপ্রিয়তার কারণে উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নসীহত মুবারক উনার কারণে মানুষের মাঝে এক ধরনের জাগরণ সৃষ্টি হয়। সুবহানাল্লাহ! যার ফলে মু’তাসিম হিংসার আগুণে জ্বলতে থাকে। তাই সে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু করে দেয় এবং উনাকে বিষ পান করায়। না‘ঊযুবিল্লাহ! ফলে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ২২০ হিজরী সনের ৬ই যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা’ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে ২৫ বছর ৪ মাস ২৬ দিন সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ও পবিত্র রওযা শরীফ

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ শরীফ উনার অদূরে কাজেমাইন শহরে উনার মহাসম্মানিত দাদাজান ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত মূসা কাযিম আলাইহিস সালাম উনার পাশে। পূর্বে উক্ত স্থান মুবারক উনার নাম মুবারক ছিলো ‘মাক্বাবিরে কুরাইশ’। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত নছীহত মুবারক:

একবার একটি কাফেলা অনেক দূর থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অনেক উপহার সামগ্রী নিয়ে আসছিলো। পথিমধ্যে সেগুলো চুরি হয়ে যায়। কাফেলার পক্ষ থেকে ঘটনাটা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লিখে জানানো হলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জওয়াবে লিখলেন, ‘আমাদের জান এবং মাল মহান আল্লাহ পাক উনার দেওয়া আমানত। এসব থেকে যদি উপকৃত হওয়া যায় তো ভালো, আর যদি এগুলো হারিয়ে যায় তাহলে আমাদের ধৈর্য ধারণ করা উচিত। কেননা তাতে সওয়াব রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! সঙ্কটে যে ভেঙ্গে পড়ে তার প্রতিফল বিফলে যায়।
মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবচেয়ে বড় সম্মানিত উপদেশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার উপর তাওয়াক্কুল করে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার সকল কাজকর্মে কামিয়াবী দান করেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার উপর তাওয়াক্কুল সব ধরনের মন্দ ও অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকার মাধ্যম।’
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মানিত উপদেশ মুবারক হচ্ছেন, মানুষের সঙ্গে নমনীয় আচরণ করা ও তাদেরকে ক্ষমা করা। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক আলোচনা মুবারক উনার মধ্যে বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার এমন কিছু বান্দা আছে যাদেরকে তিনি অগনিত নিয়ামত মুবারক দান করেছেন যাতে তাঁরা সেসব নিয়ামত মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার পথে দান করতে পারে। কিন্তু তারা যদি তা থেকে বিরত থাকে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান না করে তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার থেকে সেই নিয়ামত মুবারক ফিরিয়ে নেন অর্থাৎ সম্মানিত নিয়ামত মুবারক উনার হক্ব আদায় না করার কারণে তার থেকে সম্মানিত নিয়ামত মুবারক চলে যায়। নাউযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়াকে সম্মানিত নেকি মুবারক তথা সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক অর্জনের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করলেও কখনোই দুনিয়ামুখী ছিলেন না। ইতিহাসে এসেছে তিনি উনার অর্জিত সম্পদ মুবারক বহুবার মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন। এ কারণেই উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক বা সম্মানিত উপাধি মুবারক হয়েছিলো আল জাওয়াদ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘নেক কাজ তথা সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টিমূলক কাজগুলো করতে চারটি বিষয় সহায়ক। এ চারটি বিষয় হলো: ১. সুস্থতা, ২. সক্ষমতা বা সম্পদ, ৩. ইলম বা জ্ঞান এবং ৪. মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে দেওয়া তৌফিক মুবারক।’ সুবহানাল্লাহ!

অনেকে দুনিয়াবি জীবনকে তুচ্ছ বলে মনে করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দুনিয়া হচ্ছে একটি বাজারের মতো, অনেকেই এখানে লাভবান হয়, মুনাফা অর্জন করে, আবার অনেকে এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ সম্মানিত ক্বওল মুবারক বা উক্তি মুবারক

১. যে অন্যদের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয় না, তাকে তিক্ততার শিকার হতে হবে।
২. দেখা-সাক্ষাত ও আচার-আচরণে ন্যায়-নিষ্ঠ হওয়া, সুখ ও দুঃখের শরীক হওয়া এবং সুস্থ মনের বা হৃদয়ের অধিকারী হওয়া বন্ধুত্ব অর্জনের জন্য জরুরী।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে