বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সরব হওয়া “বালিকা”দের উদ্দেশ্যে…


সস্তায় খ্যাতিলাভের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে শর্টকাট উপায় হল, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ঝাঁপায় পড়া!

অজপাড়াগায়ের ক্লাস নাইনে পড়া এক নিতান্ত সাধারন মেয়ে, লাইমলাইটে উঠে গেল। ট্রাম্পের বউ তাকে খেতাব দিল, “বিশ্বসেরা সাহসী নারী” হিসেবে। সাহসীই বটে! বিয়ে দিতে চাওয়ার অপরাধে নিজের মাকে জেলে ঢোকাতে ব্যাপক সাহস লাগে বৈকি!

বাংলাদেশের শতশত ইউএনও মধ্যে একজন হয়ে থাকতে তার মন চাইছিল না। নিজের কর্মনিষ্ঠা প্রমাণ করতে আর সরকার ঘোষিত পুরস্কারের লোভে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এইট-নাইনের বিয়ে করতে ইচ্ছুক শিশু মেয়েদের বিয়ে ভাঙেন। সাথে আবার মিডিয়াকেও ডেকে নিয়ে যান। এতবড় একটা সমাজসেবা যদি কর্তৃপক্ষের কানে নাই পৌঁছায় তাহলে আর ফায়দা কি?

বিবাহিত হওয়া সত্বেও নিজেকে অবিবাহিত কুমারী দাবি করে, নিজের পরিবার ও ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে মিথ্যা বলে, কথিত সুন্দরীর টাইটেল তো গেছেই, আবার পাবলিক ইমেজেরও ভরাডুবি হয়েছে। সুতরাং দ্রুত পজিটিভিটি ফিরিয়ে আনতে, এবং এসএসসি পরীক্ষার পর ঘটা “বাল্য” বিয়ের শোক ভুলতে, একটি বাল্যবিয়ে নিরোধক চ্যারিটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হল। তা আপা, বিয়ের দুই মাসের মাথায় “শিশু” আপনি যে পরকীয়া করে পালিয়ে গিয়েছিলেন সেই শোক ভুলতে কোন ফান্ড করবেন না?

আরে বোন আপনি বাল্য বিয়ে করবেন না বৃদ্ধ বিয়ে করবেন তা আপনার ইচ্ছা; কিন্তু সেজন্য বাল্যবিবাহের সুন্নত আমলকে কটাক্ষ করার অধিকার আপনাকে কে দিল? আর ১৮ বছর হবার আগ পর্যন্ত নিজেদের শিশু বলে জাহির করতে যদি এতই ইচ্ছা থাকে, তাহলে খেয়াল রাখবেন, আচরণগুলোও যেন শিশুর মতই হয়। ক্লাস ফাইভ থেকে আপনারা বয়ফ্রেন্ড নিয়ে চলতে শুরু করলে, এইট নাইনে উঠতে উঠতে অভিভাবকরা আপনাদের বিয়ের চিন্তা শুরু করবেন এটাই স্বাভাবিক।

Views All Time
4
Views Today
6
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে