বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রণয়নকারীরা কি নিজেদের পিতা-মাতাকে অপদস্তকারী নয়?


প্রধানমন্ত্রীর নিজের লিখিত বই “শেখ মুজিব আমার পিতা” এর ২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে- “আব্বার যখন দশ (১০) বছর তখন তাঁর বিয়ে হয়। আমার মায়ের বয়স ছিল মাত্র তিন (৩) বছর। আমার মা পিতৃহারা হওয়ার পর তাঁর দাদা এই বিয়ে দিয়ে সমস্ত সম্পত্তি মা ও খালার নামে লিখে দেন”। এছাড়া বিষয়টি শেখ সাহেবের লিখিত “অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে”ও এসেছে।
উপরোক্ত রেফারেন্সটি উল্লেখ করা হলো ঐ সকল গন্ডমূর্খদের জন্য যারা বাল্যবিবাহ সম্পর্কে নেহায়েত অজ্ঞ; বিশেষতঃ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। নিকট অতীত এবং বর্তমানে সম্মানিত বাল্যবিবাহ নিয়ে চূ-চেরা কিল-কাল যেন মন্ত্রী, এমপি, আমলা, সুশীল, কুশীলদের আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়েছে। তাদের বাগারম্বর যেন শেষই হতে চায় না। সুশীল-কুশীলদের পাগলামীর স্পট ‘টকশো’তে কথার ফুলঝুড়ি বইতে থাকে। কিন্তু এমন কেউ কি আছে যে শেখ সাহেবের লিখিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিংবা প্রধানমন্ত্রীর লিখিত ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বই দু’টি পড়েনি অথবা প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতার বাল্যবিবাহ হয়েছিল এই বিষয়টি জানা নেই। কিন্তু কেউ কি দেখাতে পারবে কোন মন্ত্রী-এমপি কিংবা কোন আমলা অথবা কোন সুশীল-কুশীল প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতার বাল্যবিবাহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অথবা প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতা বাল্যবিবাহ করে ঠিক করেননি এমন কথা বলেছে অথবা মিডিয়া কখনো প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতা বাল্যবিবাহ করে ভূল করেছে এ বিষয়ে কোন আর্টিকেল লিখেছে কিংবা কোন সংবাদ পরিবেশন করেছে?
আমার বলার বিষয় হলো-এই যে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’ করা হলো । এটা আসলে কার বিরুদ্ধে গেলো? প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতাও কি এই আইনে অভিযুক্ত হলো না। তারা চেয়েছিলো এই কুফরী আইনের মাধ্যমে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার এক বিশেষ শেয়ার সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনাকে ইহানত করতে। নাউযুবিল্লাহ! কিন্তু হাক্বীক্বতে হলো কি-প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলেরই উচিত ঠান্ডা মাথায় ফিকির করা! সাথে প্রধানমন্ত্রীর আনুকূল্য প্রত্যাশী মন্ত্রী-এমপি-আমলাদের খোঁজ-খবর নেয়া উচিত বাল্যবিবাহ নামক নিয়ামতে ধন্য বাংলাদেশে আপনাদের পিতা-মাতার বাল্যবিবাহ হয়েছে কিনা (হয়েছে তো অবশ্যই স্বীকার করুক বা না করুক)।
যে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বাল্যমাতার সন্তান। যে দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি-বিরোধীদলের প্রায় সবাই বাল্যবিবাহের মাধ্যমে পৃথিবার আলো-বাতাসে এসেছে। যে দেশের ৯৮% জনগণ মুসলমান, সে দেশে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’ নামক কুফরী আইন হয় কি করে! আর জনগণই বা এটা মেনে নেয় কি করে। তারা কি বাল্যবিবাহের সাথে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে নিজেদের সম্মানিত বোধ করে না!
এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও যাদের খড়কুটো খেয়ে তোমরা বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করছো সেই কাফির-মুশরিকদের দেশগুলোতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করা হয়। তোমরা না মানলেও দুনিয়াবী ফায়দা হাছিলের জন্য তারা ঠিকই মানে মহান আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে সমস্ত বিষয় হাদিয়া মুবারক করেছেন তার মধ্যে মানবজাতির জন্য সবিশেষ কল্যাণ রয়েছে।
অথচ মুসলমান দাবী করার পরও আপনারা প্রায় ১৪০০ বছর আগে সংগঠিত একটি হিকমতপূর্ণ মহাসম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা ফয়সালাকৃত বাল্যবিবাহ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেছো। আর তোমরা ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’ করে ভাবছো নিজেদেরকে জাতে তুলেছো বরং হাক্বীক্বতে নিজেদের এবং পিতা-মাতাদের অপদস্ত করেছো।
কাজেই লজ্জা-শরম যদি কিছু থাকে তাহলে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন তুলে নাও। সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার পৃষ্ঠপোষকতা করা হয় এমন আইন পাশ করো। কাফির মুশরিকদের শেখানো বুলি না আওড়িয়ে উপকারী ইলম অর্জন করার কোশেশ করো। তাহলে বুঝতে পারবে সম্মানিত বাল্যবিবাহ উনার মধ্যে দুনিয়া-আখিরাতের অশেষ কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে