বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বনাম আত্মঘাতী অসম চুক্তির রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র


বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচলিত বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তাপবিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ ইত্যাদি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের আরেকটি সহজ পথ হতে পারে উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ার-ভাটা স্রোত ব্যবহার করে টাইডাল বিদ্যুৎকেন্দ্র।
উদাহরণস্বরূপ- ফ্রান্স-এর রান্স টাইডাল পাওয়ার স্টেশন থেকে ২৪৬ মেগাওয়াট এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিহয়া টাইডাল পাওয়ার স্টেশন থেকে ২৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। মাত্র ২ নটিক্যাল মাইল বেগের জোয়ার-ভাটা স্রোত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় টাইডাল বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
সেই তুলনায় আমাদের বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের সব স্থানেই জোয়ার-ভাটা সমুদ্র স্রোতের বেগ ২ নটিক্যাল মাইলের চেয়ে বেশি। এমনকি আন্তর্জাতিক সমুদ্র চার্ট অনুযায়ী সন্দ্বীপ চ্যানেলে জোয়ার-ভাটার বেগ ৫ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল। শুধু এই চ্যানেলে ধারাবাহিক ভাসমান বা সাবমার্জিবল টারবাইন বসিয়ে ২০০-৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এছাড়াও চট্টগ্রাম উপকূলের অন্যান্য স্থান, মেঘনা নদীর মোহনা ও সমগ্র দক্ষিণ উপকূলজুড়ে আরো প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব, যা দিয়ে পুরো উপকূলীয় উপজেলাগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা মিটিয়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব।
আর সমালোচিত, অসম, আত্মঘাতী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা প্রচলিত বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থার তুলনায় মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাছাড়া রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তির শর্তানুযায়ী-
* পিডিবি বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয় করবে।
* প্রকল্পে ব্যবহৃত কয়লাও বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে ভারত থেকে আমদানী করবে।
* প্রকল্পে ভারতীয় কোম্পানী এনটিপিসি মাত্র ১৫% বিনিয়োগ করে ৫০% লাভ নিয়ে যাবে।
এছাড়াও ক্ষতি রয়েছে-
* সুন্দরবনের সঙ্কট দূরত্বের মধ্যে এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প ১০০% পরিবেশ ঝুঁকি, যা সুন্দরবন ও এর পাশাপাশি আবাসিক এলাকা ধ্বংস করে দিবে।
* প্রায় ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হবে, যার মধ্যে উদ্বাস্তু এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ পরিবার।
* ১৮৩৪ একর ফসলী ও আবাসিক এলাকার জমি অধিগ্রহণ।
* বছরে ৬২ হাজার ৩৫৩ টন ধান এবং ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৬১ টন অন্যান্য শস্য উৎপাদন হতে বঞ্চিত হতে হবে।
* ৫,২১৮ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন ব্যাহত হবে।
অসম শর্তে চুক্তি এবং অবর্ণনীয় ক্ষতিসাধন স্বীকার করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে?
মূলত, দেশের সম্পদ লুটপাট ও জনগণকে শোষণের জন্য দুর্নীতিময় এ প্রকল্প। জনগণকে এধরনের চক্রান্ত সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে হবে।

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে