বিজাতীয় ‘এপ্রিল ফুল’ থেকে উপলব্ধি: মুসলমানদের বেদনায় কাফিরদের উল্লাস!


‘এপ্রিল ফুল’ হচ্ছে ঐ দিবস, যে দিবসে লক্ষ লক্ষ মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিয়ে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়েছে। আর এই ‘এপ্রিল ফুল’ পালন করা মুসলমানদের জন্য হারাম ও কুফরী। কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়।”

মুসলমান উনারা আজ ইলম চর্চা হতে অনেক দূরে। মুসলমান উনারা নিজেদের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বড়ই বেখবর। আজ মুসলমানরা নিজেদের স্বর্ণযুগ, সারা বিশ্বব্যাপী তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নতি ইত্যাদি সম্পর্কে কিছুই জানে না। নাউযুবিল্লাহ! আবার অপরদিকে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কাফির-বিধর্মীরা যে মুসলমানদের উপর কত মর্মান্তিক যুলুম করেছে, উনাদেরকে কত নির্মমভাবে শহীদ করেছে সে খবরও মুসলমান রাখে না। নাউযুবিল্লাহ!

পহেলা এপ্রিলে এমনি এক নির্মম কাহিনী রয়েছে, যাতে লাখ-লাখ মুসলমানদের নির্মমভাবে শাহাদাতবরণের ঘটনা ঘটেছে।

ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসানের পর প্রতারক রাজা ফার্ডিনান্ড মসজিদগুলোকে নিরাপদ ঘোষণা করে। সে আরো ঘোষণা দেয় যে, যারা মসজিদে থাকবে, তাদেরকে নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। তখন অসংখ্য স্পেনীয় মুসলমান সরল বিশ্বাসে মসজিদগুলোতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ঠিক সেই সময় যালিম খ্রিস্টানরা মসজিদগুলোকে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে মুসলমানদেরকে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়। আর বাইরে থেকে উল্লাসভরে কৌতুক করে সমস্বরে ঋড়ড়ষ! ঋড়ড়ষ!! (বোকা! বোকা!!) বলে অট্টহাসি আর চিৎকারে মেতে উঠে। (নাঊযুবিল্লাহ!)

দিনটি ছিলো ০১ এপ্রিল, ১৪৯২ ঈসায়ী সন। অদ্যাবধি প্রতারক খ্রিস্টানরা দিনটিকে তাদের সেই শঠতার স্মরণে ধোঁকা বা প্রতারণার দিবস ‘এপ্রিল ফুল’ হিসেবে পালন করে আসছে। এটিই হচ্ছে পহেলা এপ্রিল বা এপ্রিল ফুলের হৃদয়বিদারক ইতিহাস।
এ দিনটি যালিম খ্রিস্টানদের জন্য পালনীয় হলেও মুসলমানদের জন্য তা ভাষাহীন বেদনাদায়ক। কেননা, বর্বর, অসভ্য, যালিম খ্রিস্টানদের প্রতারণার ফলে মুসলমানদেরই হাতে গড়ে উঠা একটি সভ্যতা লাখ-লাখ মুসলমানদেরই তাজা খুনের স্রোতে ভেসে যায়। কাজেই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ ও মহিলার দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, এ দিনের ইতিহাস থেকে কাফিরদের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব সম্পর্কে শিক্ষা নেয়া।

কেননা, ইহুদী-নাছারা-মুশরিক এরা হচ্ছে মুসলমানদের চরম শত্রু। আর এ কারণেই তারা সবসময়, সর্বাবস্থায় মুসলমানদের জান-মাল এবং ঈমান উনার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে। সুতরাং মুসলমানদের জন্য করণীয় হচ্ছে, সমস্ত কাফিরদের থেকে দূরে থাকা এবং তাদেরকে অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকা। আর যদি তা করা না হয়, তাহলে মুসলমান কখনোই উম্মত হিসেবে থাকতে পারবে না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সমস্ত মুসলমানদেরকে মহান মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় হিফাযত করেন। আমীন!

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে