বিদআতের পরিচয়, বিদআত কাকে বলে কত প্রকার ও কী কী বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।


উসূলের কিতাবে উল্লেখ রয়েছ যে,


اصول، لمشرع ثلثة القران- الحديث- الاجماع ورابعها القياس- (نور الانوار)


অর্থঃ- “মূলতঃ ইসলামী শরীয়ত উনার ভিত্তি হলো তিনটি। পবিত্র কুরআন শরীফপবিত্র হাদীছ শরীফ,পবিত্র ইজমা শরীফ এবং চতুর্থ হলো- পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ।” (নুরুল আনোয়ার) 

মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তিনি উনার পবিত্র কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,


ومااتاكم الرسول فخذوه ونهاكم عنه فانتهوا واتقو الله ان الله شديد العقاب.


অর্থঃ- “মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি যে সম্মানিত শরীয়ত নিয়ে এসেছেনতা আঁকড়িয়ে ধরো এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেনতা থেকে বিরত থাকো এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করোনিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তিদাতা।” 

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,


تركت فيكم امرين لن تضلوا ما تمكتم بهما كتاب الله وسنتى. (مشكوة شريف)


অর্থঃ- “তোমাদের জন্য আমি দু’টি জিনিস রেখে গেলামএ দু’টি জিনিসকে যদি তোমরা আঁকড়িয়ে ধর (অনুসরণ কর)তবে তোমরা কখনো গোমরাহ হবে না। একটি হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম পবিত্র কুরআন শরীফঅন্যটি হলো- আমার সুন্নত (পবিত্র হাদীছ শরীফ)।” (মিশকাত শরীফ) 

কাজেই আমাদের কোন বিষয়ের শরঈ ফায়সালা করতে হলেপ্রথমে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারাই তা করতে হবে। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে যদি তার সুস্পষ্ট বিধান না পাওয়া যায়তবে পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দ্বারা তার ফায়সালা করতে হবে। কেননা আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনাদের দলীলের ভিত্তিই হলো উক্ত চারটিএর বাইরে কোন কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব বিদয়াতের ব্যাপারেও শরঈ ফায়সালার জন্য আমাদেরকে উপরোক্ত চারটির ভিত্তিতেই করতে হবে। মনগড়া ক্বিয়াসের ভিত্তিতে কখনো তার মীমাংসা হতে পারে নাবরং ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই আমাদের প্রথম জানতে হবে বিদয়াত শব্দের অর্থ কিবিদয়াত কাকে বলেএবং কত প্রকার ও কি কি?


বিদয়াতের লোগাতী অর্থ বিদয়াতের লোগাতী অর্থ হচ্ছে-ঃ-


بدعة= دين مين كوئى ئيئ بات يائى رسم نكلنا تيادستوريارسم، رواج (مسباح اللغات ص ৬২. 


অর্থঃ- “দ্বীন সম্পর্কে কোন নতুন কথা বা নতুন প্রথার উদ্ভব ঘটানোনতুন নিয়ম-কানুন ও রেওয়াজ প্রতিষ্ঠা করা।” (মিস্বাহুল লোগাত) বিদয়াতের শরীয়তী অর্থ বিদয়াতের শরীয়তী অর্থ সম্পর্কে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফক্বীহ্ আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেছেন,


والبدعة فى الاصل احداث امر لم يكن فى زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم. (عمدة القاوى)


অর্থঃ- “প্রকৃতপক্ষে বিদয়াত হলো- এমন জিনিসের আবির্ভাবযার নমুনা নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা।” (ওমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী) 
হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেছেন,


وفى الشرع احداث مالم يكن فى عهد رسول الل صلى الله عليه وسلم. (شرح مسلم)


অর্থঃ- “ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিদয়াত হচ্ছে- এমনসব নব আবিস্কৃত জিনিসের নামযা নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা।” (শরহে মুসলিম লিন নববী) 


হযরত শায়খ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেছেন,


بدانكه هرحيز ييدا شده بعد از ييغمبر عليه السلام بدعت است. (شعة للمعات)


অর্থঃ- “জেনে রাখনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে উদ্ভব ঘটেছে এমন প্রত্যেক কাজই বিদয়াত।” (আশআতুল লুমআত)


উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই বুঝা যায় যেবিদয়াত হলোনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর হতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত উদ্ভাবিত প্রত্যেক নতুন বিষয়। এখন তা ‘খায়রুল কুরুনে’ও হতে পারে অথবা তার পরেও হতে পারে।



বিদয়াতের ব্যাখ্যাঃ-


এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাব ‘মিশকাত শরীফ’ উনার শরাহ ‘মিরকাত শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,


قال الشافعى رحمة الله مااحدث لمايخالف الكتاب اوالسنة او الاثر او الاجماع فهو ضلالة- وما احدث لمالا يخالف شيأكما ذكر فليس بمذموم- (مرقات شرح مشكوة ج ১ صفه ১৮৯)


অর্থঃ- “ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেনযে নব উদ্ভাবিত কাজ পবিত্র কুরআন শরীফ,পবিত্র হাদীছ শরীফ (অর্থাৎ হযরত ছাহাবা-ই কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ উনাদের আমল বা ক্বওল শরীফ) অথবা পবিত্র ইজমা শরীফ উনারে বিরুদ্ধ বলে প্রমাণিতসেটাই গুমরাহী ও নিকৃষ্ট। আর যে নব উদ্ভাবিত কাজ উল্লেখিত কোনটির বিপরীত বা বিরুদ্ধ নয়তা মন্দ বা নাজায়েয নয়। (মিরকাত শরহে মিশকাত শরীফ১ম জিঃ পৃঃ ১৮৯) 


ইমাম শারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেনপ্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতিই যে নিকৃষ্ট বা নিষিদ্ধ হবে,তার কোন যুক্তি নেই। (আনওয়ারে কুদসিয়্যাহ্)



অথচ আজকাল কিছু জাহেল লোক সকল বিদয়াতকেই (নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতি) গুমরাহী বলে থাকে এবং দলীল হিসাবে তারা নিম্মোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা পেশ করে থাকে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,


كل بدعة ضلالة وكل ضلالة فى النار.


অর্থঃ- “প্রত্যেক বিদয়াতই গুমরাহীআর প্রত্যেক গুমরাহ লোকই জাহান্নামে যাবে।” 

অথচ তার ব্যাখ্যা সম্পর্কে তারা নেহায়েতই অজ্ঞ। এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘মিশকাত শরীফ’ উনার শরাহ্ ‘মিরকাত শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়,


قوله كل بدعة ضلالة قال فى الازهار اى كل بدعة سيئة ضلالة.


অর্থঃ- “সাহেবে মিরকাত হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আল আজহার” নামক কিতাবে 


كل بدعة ضلالة


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার এ অংশটুকুর ব্যাখ্যা এভাবে করা হয়েছে, 


اى كل بدعة سيئة ضلالة


অর্থাৎ সকল বিদয়াতে সাইয়্যিয়াই গোমরাহী।

আর তাই শায়খ ইব্রাহীম হালবী রহমতুল্লাহি তিনি আলাইহি বলেন,


وعدم النقل عن النبى صلى الله عليه وسلم وعن الصحابة والتابعين رضى الله عنهم وكونه بدعة لا ينافى كونه حسنا. (كبيرى شرح منية المصلى صفه ২৫১)


অর্থঃ- নতুন উদ্ভাবিত কোন কাজ নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমতাবেয়ীনগণ উনাদের নিকট হতে প্রমাণিত না থাকলে অথবা উক্ত কাজের প্রতি বিদয়াত শব্দ আরোপিত হলেই যেতা মন্দ বা গুমরাহী একথা যুক্তিযুক্ত নয়। বরং তা ভালও হতে পারে। (কবীরী শরহে মুনিয়াতুল মুছল্লী পৃঃ ২৫১) 

হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহিও উনার ইহ্ইয়াউল উলুম কিতাব উনার ২য় খন্ড ২৬ পৃষ্ঠায় অনুরূপ মন্তব্য করেন। কেউ কেউ আবার হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার হতে বর্ণিত নিন্মোক্ত হাদীছ শরীফখানা পেশ করে বলেন যেসকল বিদয়াতই পরিত্যাজ্য। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,


من احدث فى امرنا هذا هذا ماليس منه فهورد.


অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আমার এ দ্বীনের ভিতরে কোন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করবেযার ভিত্তি এ দ্বীনে নেইসেটা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।” 


এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় হযরত মাওলানা শাব্বীর আহমদ ওসমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,


قوله ماليس منه يدل على ان الا مور التى لها اصل من الكتاب او من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم او من الخلفاء الراشدين اوتعا هل عامة اسلف او الاجتها دالمعتبر بشروط، المستند الى النصوص لا تسمى يدعة شرعية لاى (يدعة سية) فان هذه الا صول كلها من الدين- (فتح الملهم شرح المسلم ج ২ صفه ৪০৭)


অর্থঃ- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উক্ত শব্দ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়যে সকল দ্বীনী কাজের সনদ পবিত্র কুরআন শরীফ অথবা পবিত্র হাদীছ শরীফ বা হযরত খোলাফা-ই-রাশেদীন উনাদের সুন্নত অথবা বুযুর্গানে দ্বীনের পারস্পরিক কার্যকলাপ অথবা গ্রহণযোগ্য শর্তাদীসহ ইসলামী শরীয়ত উনাদের স্পষ্ট দলীলসমূহের ভিত্তিতে যে ইজতিহাদ করা হয়েছেতার মধ্যে পাওয়া যায়তবে সেগুলোকে নিকৃষ্ট বিদয়াত (বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্) বলা যাবেনা। কারণ এ ভিত্তিসমূহ দ্বীনের অন্তর্ভূক্ত। (ফাতহুল মুলহিম শরহে মুসলিম২য় জিঃ পৃঃ ৪০৭) 

অতএবযে সকল কাজ উল্লেখিত ভিত্তিসমূহের উপর প্রতিষ্ঠিততা সম্মানিত দ্বীন অর্থাৎ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার অন্তর্ভূক্ত বলেই বিবেচিত হবে। অনুরূপ মোযাহেরে হক্ব ১ম খন্ড ৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে,পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার — শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে- উদ্দেশ্য এই যেযে সকল কাজ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ্ শরীফ বিরুদ্ধ নয়সেগুলোকে বিদয়াতের গন্ডি বহির্ভূত করে রাখা। কারণ এ সকল কাজ নতুন উদ্ভুত হলেও গোমরাহী বা নিকৃষ্ট নয়। কেউ কেউ আবার মাহ্বুবে সোবহানীকুতুবে রব্বানীকাউয়্যুমে আউয়াল হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি ক্বাওল শরীফ উনার ভুল ব্যাখ্যা করে বলে থাকেন যেবিদয়াত বলতেই গোমরাহী। কেননা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, “আমি কোন বিদয়াতের মধ্যেই নূর দেখিনাতা বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ই হোক বা বিদয়াতে হাসানাই হোক।”



অথচ হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উক্ত ক্বাওলটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। অর্থাৎ উনি এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যেনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল অর্থাৎ সুন্নত মুবারক উনার মধ্যে যে নূর রয়েছেতা অন্য কারো আমলের মধ্যে নেইএটাইতো স্বাভাবিক। কেননা সুন্নতের মধ্যে যে নূর রয়েছেতা বিদয়াতের মধ্যে কখনো পাওয়া সম্ভব নয়। আর তাই তিনি বলেছেন, “আমি কোন বিদয়াতের মধ্যেই নূর দেখিনা।” 
অর্থাৎ সুন্নত মুবারক উনার ন্যায় নূর দেখিনা। অবশ্য হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উপরোক্ত কথার দ্বারা বিদয়াতে হাসানা যে পরিত্যাজ্য তা বুঝায় না। কেননা উনি নিজেও অনেক বিদয়াতে হাসানা আমল করেছেন ও আমলে উৎসাহিত করেছেনযেমন তাসাউফের সমস্ত তরীক্বাগুলো।



যেহেতু “খাইরুল কুরুনে” তাসাউফের মাকামাতগুলো বর্তমান তরীক্বাগুলোর ন্যায় সুবিন্যস্ত আকারে সন্নিবেশিত ছিল না। অথচ হযরত মুজাদ্দিদ আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাসাউফের বেশীরভাগ তরীক্বার সংস্কার সাধন করেন। বিশেষভাবে নকশবন্দীয়া তরীক্বাকে আরো বিস্তারিত ও ব্যাপক সংস্কার সাধনের মাধ্যমে নকশবন্দীয়ায়ে মুজাদ্দিদিয়া নামক তরীক্বার প্রবর্তন করেন এবং নিজে এই সকল তরীক্বার মাকামের বিন্যাসহাল-অবস্থা বর্ণনা করে মুরীদ-মোতাকেদগণকে তালীম-তালকীন দিয়ে গেছেন। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনে এরকম আরো অনেক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়যার দ্বারা প্রমাণ হয় যেউনি বিদয়াতে হাসানা কাজকে কখনও পরিত্যাগ করেননি বা করতে বলেননি। কাজেই যারা হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বাওল শরীফ উনার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচারে লিপ্ততারাই আবার উনার অন্যান্য বিদয়াতে হাসানা আমলগুলো সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। সুতরাং বিদয়াতে হাসানা অবশ্যই গ্রহণযোগ্যআর বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ অবশ্যই পরিত্যাজ্য। উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যেবিদয়াত মাত্রই পরিত্যাজ্য নয় এবং সকল বিদয়াতই গুমরাহী নয়। যদি তাই হতোতবে তারাবীহ্ নামায জামায়াতে পড়া জায়েয হতো না। কেননা এটাকেও বিদয়াত বলা হয়েছেঅর্থাৎ উত্তম বিদয়াত।



এখন মূল বিষয় হলো- এ নব আবিস্কৃত জিনিসের কোনটি ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে গ্রহণযোগ্য আর কোনটি ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে পরিত্যাজ্যতা নির্ণয় করা। 

বিদয়াতের শ্রেণী বিভাগঃ-


হযরত ইমাম-মুজতাহিদগণ ইসলামী শরীয়ত উনার বিধান অনুযায়ী বিদয়াতকে প্রথমতঃ দু’ভাগে বিভক্ত করেছেন-



১। বিদয়াতে ই’তেক্বাদীঅর্থাৎ আক্বীদা বা বিশ্বাসগত বিদয়াত।
২। বিদয়াতে আ’মালীঅর্থাৎ কর্মগত বিদয়াত।

(১) বিদয়াতে ই’তেক্বাদী বা আক্বীদাগত বিদয়াত হলো- যে সমস্ত আক্বীদা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ মূলনীতির বহির্ভূত। মূলতঃ এ আক্বীদাগত বিদয়াতের সবটাই হারামের পর্যায়ভূক্ত এবং অবশ্যই পরিত্যাজ্য।


যেমন- খারেজীমু’তাজিলাজাবারিয়াক্বদরিয়াশিয়া ইত্যাদি বাতিল ফিরকার আবির্ভাব। এই নব আবির্ভূত ফিরকার ন্যায় আক্বীদা পোষণ করা সম্পূর্ণই হারাম ও কুফরী।

(২) বিদয়াতে আ’মালী বা কর্মগত বিদয়াত প্রথমতঃ দু’ভাগে বিভক্ত- 

(ক) বিদয়াতে হাসানা

(খ) বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্। 


(
ক) বিদয়াতে হাসানা আবার তিন প্রকার-


(
১) বিদয়াতে ওয়াজিব

(২) বিদয়াতে মোস্তাহাব ও 

(৩) বিদয়াতে মোবাহ্।


আর এ বিদয়াতে হাসানাহ্ সম্পর্কেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, 
من سن فى الاسلام سنة حسنة فله اجرها واجرمن عمل بها من بعده. (رواة مسلم)
অর্থঃ- “যে কেউ দ্বীন ইসলামে উত্তম কোন পদ্ধতি উদ্ভাবন করবে (যা শরীয়ত সম্মত)তার জন্য সে সাওয়াব পাবে এবং তারপরে যারা এ পদ্ধতির অনুসরণ করবেতার সাওয়াবও সে পাবে।” (মুসলিম শরীফ) 
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দৃষ্টিতে বিদয়াতে হাসানাকে বিদয়াত লিদ্দ্বীন বলা হয়।



(
খ) আর বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ দু’প্রকার- 

(১) বিদয়াতে হারাম

(২) বিদয়াতে মাকরূহ্।


এই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ সম্পর্কেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, 


من احدث فى امرنا هذا ماليس منه فهورد. (مشكوة شريف)


অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আমার এ দ্বীনের ভিতরে কোন নতুন জিনিসের প্রবর্তন করবেযার ভিত্তি এ দ্বীনে নেই তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।” (মিশকাত শরীফ)

আর এ বিদয়াত সম্পর্কেই ইরশাদ মুবারক হয়েছে,


كل بدعة ضلالة وكل ضلالة فى النار.


অর্থঃ- “প্রত্যেক বিদয়াতই (সাইয়্যিয়াহ্) গুমরাহী আর প্রত্যেক গোমরাহ ব্যক্তিই জাহান্নামী।” 

উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দৃষ্টিতে বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহকে বিদয়াত ফিদ্দ্বীন বলা হয়। মূলকথা হলো- যা নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর নতুন উদ্ভব হয় এবং তা দ্বীনের সাহায্য করে থাকে অথবা সাহায্যকারী না হলেও দ্বীনের কোন ক্ষতি করে নাসেটাই বিদয়াত লিদ্দ্বীন অর্থাৎ বিদয়াতে হাসানা। আর যে নতুন বিষয় উদ্ভব হওয়ার কারণে দ্বীনের কিছুমাত্রও ক্ষতি হয়তবে সেটাই হবে বিদয়াত ফিদ্দ্বীন অর্থাৎ বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্। 

উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যেবিদয়াত বলতেই পরিত্যাজ্য নয়। অর্থাৎ যেই নতুন উদ্ভাবিত কাজ পবিত্র কুরআন শরীফপবিত্র হাদীছ শরীফপবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনার বিপরীত তা অবশ্যই বর্জনীয়। আর সেটাই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ বা হারামের অন্তর্ভূক্তযদিও তা “কুরুনে সালাসার” মধ্যে উদ্ভাবিত হোক না কেন। আর যেই নতুন উদ্ভাবিত কাজ পবিত্র কুরআন শরীফপবিত্র হাদীছ শরীফপবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অনুকুলে তা অবশ্যই জায়েয এবং উত্তমআর এটাকেই বিদয়াতে হাসানাহ্ বলা হয়। যদিও তা ‘কুরুনে সালাসার’ পরে উদ্ভাবিত হোক না কেন।



বিদয়াতে হাসানা ও বিদয়াতে  সাইয়্যিয়াহ্-এর বিশ্লেষণ :-



নিম্নে বিদয়াতে হাসানা ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়ার উদাহরণভিত্তিক ব্যাখ্যা দেয়া হলো- 

১। বিদয়াতে ওয়াজিবঃ যা পালন না করলে ইসলামের ক্ষতি বা সংকট হবেযেমন পবিত্র কুরআন শরীফ,পবিত্র হাদীছ শরীফ কাগজে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার জেরজবরপেশ দেওয়ামাদ্রাসা নির্মাণ করানাহু সরফউসুল ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কিতাব লিখা ও পড়া।

২। বিদয়াতে মোস্তাহাবঃ যা ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে নিষেধ নেই এবং তা সমস্ত মুসলমানগণ ভাল মনে করে সাওয়াবের নিয়তে করে থাকেনযেমন- তারাবীহ্ নামায জামায়াতে পড়ামুসাফিরখানাইবাদতখানা লঙ্গরখানাখানকা শরীফ ইত্যাদি জনহিতকর কাজ করা। খতিবের সম্মুখে আযান দেওয়ারমযান মাসে বিত্র নামায জামায়াতে আদায় করা ইত্যাদি। এ প্রসঙ্গে হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,


ما راه الناس حسنا فهو عندا لله حسنا- لا تجتمع امتى على الضلالة. (مشكوة)


অর্থঃ- “লোকে যা ভাল মনে করে তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটও ভাল। আমার উম্মতগণ কখনো গুমরাহীর মধ্যে একমত হবে না।” (মিশকাত শরীফ)

৩। বিদয়াতে মোবাহ্ঃ ঐ সমস্ত নতুন কাজ যা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে নিষেধ নেইযেমন- পোলাওবিরিয়ানীবুটমুড়ীপিয়াঁজো ইত্যাদি খাদ্য খাওয়াট্রেনগাড়ীপ্লেন ইত্যাদি যান-বাহনে চড়া।

৪। বিদয়াতে হারামঃ যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপন্থী বা ওয়াজিব আমলগুলি ধ্বংসের কারণ। যেমন- ইয়াহুদীনাসারা ও ভন্ড ফকিরদের কু-প্রথা বা আক্বীদাসমূহ।

৫। বিদয়াতে মাকরূহ্ঃ যার দ্বারা কোন পবিত্র সুন্নত মুবারক কাজ বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন- বিধর্মীদের পোশাক পরিধান করাটাই পরিধান করা এবং বিধর্মীদের অনুসরণ করা ইত্যাদি। কেননা হাদীছ শরীফে রয়েছে, 
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم- ما احدث قوم بدعة الارفع مثلها من السنة فتمسك بسنة خير من احداث بدعة. (رواه احمد)
অর্থঃ- নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যখনই কোন ক্বওম একটি বিদয়াতের উদ্ভব ঘটায়েছেতখনই একটি সুন্নত মুবারক লোপ পেয়েছে। সুতরাং একটি সুন্নত মুবারক উনার আমল করা (যদিও ওটা ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হয়) একটি বিদয়াত উদ্ভব করা হতে উত্তম (যদিও ওটা বিদয়াতে হাসানা হয়)।” (মুসনদে আহমদ) 

বিদয়াতের অনুরূপ ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা নিন্মোক্ত কিতাবসমূহেও রয়েছে। যেমন- বুখারী শরীফ উনার শরাহ ফাতহুল মুবীনহাশিয়ায়ে মিশকাতআশয়াতুল লুমুয়াতলুমুয়াতফতওয়ায়ে শামীইশবাউল কালাম,আসমাওয়াল লোগাতহুসনুল মাকাছেদ ইত্যাদি আরো অনেক কিতাবসমূহে। 

কাজেই বিরোধীগণ বিদয়াতের যে ব্যাখ্যা দিয়েছে অর্থাৎ বলেছেন যেপ্রত্যেক নতুন আবিস্কৃত জিনিস যা দ্বীনের কোনরূপ সাহায্য করেনাতাই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ। যদি তাই হয়তবে আমাদের সমাজে নতুন এমন অনেক জিনিসই প্রচলিত রয়েছেযা না হলে দ্বীনের মোটেও ক্ষতি হবেনা। যেমন- মসজিদে মিহাব ব্যবহার করামিনারা ব্যবহার করাট্রেনগাড়ীপ্লেনে চড়াচশমা ইত্যাদি ব্যবহার করা। বিরোধীগণের দেয়া ব্যাখ্যা মতে এগুলোও কি বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহর অন্তর্ভূক্ত হয়নাকাজেই দ্বীনের সাহায্যকারী না হলেই যে বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ হবে তা নয়। বরং এমন বিদয়াত যা দ্বীনের সাহায্যও করে না এবং কোন প্রকার ক্ষতিও করেনাতা বিদয়াতে মোবাহ্। তবে সুক্ষ্মভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যেবিদয়াতে মোবাহ্ও অনেক ক্ষেত্রে দ্বীনের সাহায্য করে থাকে। যেমন- প্লেনের কারণে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে হজ্বব্রত পালন করতে পারি। পোলাও-বিরানী ইত্যাদি খাদ্য খেলে স্বাস্থ্য ভাল থাকেআর স্বাস্থ্য ভাল থাকলে ইবাদত-বন্দেগী সঠিকভাবে করা যায়। এগুলো কি দ্বীনের সাহায্যকারী নয়? 

কেউ কেউ আবার বলে থাকেনূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর আবিস্কৃত প্রত্যেক নতুন জিনিসই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্। 

অথচ এটা মোটেও শুদ্ধ নয়। কেননা যদি তাই হতোতবে আমাদের সমাজে প্রচলিত এমন অনেক নতুন বিষয় রয়েছেযা অবশ্যই পরিত্যাগ করা জরুরী হয়ে পড়তো। যেমন- 

(ক) বর্তমানে যে পদ্ধতিতে মাদ্রাসায় ইলম শিক্ষা দেওয়া হয়সেই পদ্ধতি সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুরু করে “খাইরুল ক্বুরুন” পর্যন্ত কারো সময়ই ছিলনা। 

(খ) বর্তমানে আমরা যে নাহু সরফ শিক্ষা করে থাকিতাও “খাইরুল ক্বুরুনে” ছিল না। 

(গ) বর্তমানে আমরা যে পদ্ধতিতে তারাবীহ্র নামায পড়ে থাকিএ পদ্ধতিও নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা।

(ঘ) বর্তমানে আমরা মসজিদে জামায়াতের জন্য যে সময় নির্ধারণ করে থাকিতাও সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিল না।

(ঙ) বর্তমানে আমরা যে পদ্ধতিতে জুময়ার সানী আজান দিয়ে থাকিএ পদ্ধতি সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা। 

(চ) বর্তমানে আমরা যে পদ্ধতিতে ওয়াজ মাহ্ফিল করে থাকিঐরূপ পদ্ধতিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াজ মাহফিল করেননি। 

(ছ) বর্তমানে আমরা যে পোলাওবিরিয়ানী কোর্মাবুটমূড়ীপিয়াঁজো খেয়ে থাকিতা কি সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীননূরে মুজাসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খেয়েছিলেন? 

(জ) বর্তমানে আমরা যে সকল যান-বাহনে চড়ে থাকিযেমন- গাড়ীট্রেনপ্লেনরকেটরিক্সাজাহাজ ইত্যাদি। পবিত্র হজ্বব্রত পালন করি এবং বিদেশ ভ্রমনে যাইতা কি সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীন,নূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলতিনি কি ঐগুলোতে চড়েছিলেনকখনো নয়। তবে আপনারা ঐগুলোতে চড়া হতে বিরত থাকেন কি? 

(ঝ) বর্তমানে মানুষ যে সকল খাট-পালঙ্কসোকেস- আলমারীচেয়ার-সোফা ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেতা কি সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যবহার করেছিলেনকখনো নয়। আপনারা এগুলোর ব্যবহার হতে বিরত থাকেন কি? 

(ঞ) বর্তমানে বিয়ে-শাদীতে যে কাবিননামা করা হয়তা কি সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনিশ্চয়ই না। তবে আপনারা এগুলোকে বিদয়াত ফতওয়া দেন না কেন? 

(ত) বর্তমানে যে সকল আধুনিক যন্ত্রপাতি মানুষ ব্যবহার করছেযেমন- ফ্যানঘড়িচশমামাইক ইত্যাদি,এগুলো কি সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনিশ্চয়ই না। আপনারা কি এগুলো ব্যবহার হতে বিরত থাকেন? 

(থ) বর্তমানে যে পদ্ধতিতে মাদ্রাসার জন্য চাঁদা আদায় করা হয়যেমন সদকাফিৎরাযাকাতকোরবানীর চামড়ামান্নতের টাকা ইত্যাদি এবং যে পদ্ধতিতে মাদ্রাসা তৈরী করা হয়েছেতা যেমন সাইয়্যিদুল মুরসালীন,ইমামুল মুরসালীননূরে মুজাসসামহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা। তদ্রুপ ‘খায়রুল কুরুনেও’ ছিলনা। তাহলে আপনারা কি এর থেকে হিফাজতে আছেন?

এমনিভাবে আরো অনেক বিষয়ই রয়েছেযা নূরে মুজাসসমহাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা “খায়রুল কুরুনে” ছিল না কিন্তু আমরা তা দায়েমীভাবে করছি।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে