বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নয়, বরং কমানো হোক


জনসাধারণের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করা উচিৎ বলে মন্তব্য করে দাম বাড়ানো নয়, বরং কমানো হোক বলে দাবি জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সবুজ ও চট্টগ্রামের রফিকুল ইসলাম। গতকাল ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) নাগরিক মন্তব্যে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তারা। সবুজ মনে করেন, যে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে সরকার ২০০৯ সালে তেলভিত্তিক ও পরে ২০১১ সালে কুইক-রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে এবং বেশি দামে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে বিদ্যুতের দাম কমার কথা। অথচ ১ মার্চ থেকে আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণ কি বলেও প্রশ্ন তোলেন এই দুই বিদ্যুৎ গ্রাহক।
অন্যদিকে মোবাইলফোনে চট্টগ্রামের রফিকুল সরকারের কাছে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দেয়ার দাবি জানান। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সরকারবিরোধীরা একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে দেশে অস্থির অবস্থা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে বলে সরকারের উচ্চমহল থেকে অনেকেই দাবি করছে। তবে দেশের সাধারণ মানুষ সরকারের এ সিদ্ধান্তকে কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে নারাজ বলেও মন্তব্য সবুজের।
আর তাদের মতো আরো অসংখ্য গ্রাহক-নাগরিক বিদ্যুতের দাম কমানো, সিস্টেম লস কমানো, চুরি-লুটপাট-দুর্নীতি বন্ধ, দলীয় ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা দিতে স্থাপিত কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল কেন্দ্রগুলো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেয়া, গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে গ্যাসভিত্তিক ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপন করার জোর দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ বিদ্যুতের মূল্য গড়ে ৬.৯৬ শতাংশ বাড়িয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, এ মূল্যবৃদ্ধি ১ মার্চ থেকেই কার্যকর হবে। দাম বৃদ্ধির ফলে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের গড় খুচরা মূল্য ৫.৭৫ টাকা থেকে ৪০ পয়সা বেড়ে ৬.১৫ টাকা হবে। তবে কৃষিসেচ ও ন্যূনতম ব্যবহারকারীদের দাম বাড়ানো হয়নি। ন্যূনতম ব্যবহার সীমা (লাইফ লাইন) ৭৫ ইউনিট থেকে কমিয়ে ৫০ ইউনিট করা হয়েছে। সব কোম্পানির বিদ্যমান ন্যূনতম চার্জ, সার্ভিস চার্জ, ডিমান্ড চার্জ এবং বিলম্ব চার্জও অপরিবর্তিত থাকবে।
এর আগে ৩ দিনের টানা গণশুনানিতে ভোক্তা-গ্রাহকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো দাম না বাড়ানোর দাবি জানালেও সবকিছু উপেক্ষা করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় বিইআরসি। এমনকি সরকারের ইতঃপূর্বেকার প্রতিশ্রুতি মেনে দাম কমানোরও প্রস্তাব উঠে আসে গণশুনানিতে। এক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দেয়ার অনুরোধ আসে সাধারণ মানুষের মাঝ থেকে।
সরকারের নতুন মূল্যবৃদ্ধির তালিকা অনুসারে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) গ্রাহকদের বিদ্যুতের মূল্য ৭.১৭ শতাংশ, ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ৭.১৪ শতাংশ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ৭.৬৯ শতাংশ, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ৭.৩৪ শতাংশ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) গ্রাহকদের বিদ্যুতের মূল্য ৫.৪১ শতাংশ বাড়ছে। ফলে গড় মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.৯৬ শতাংশ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে