বিধর্মী-মূর্তিপূজারীদের নামগুলো কি মানুষের নামের মতো শোনায়?


বিধর্মী-মূর্তিপূজারীপন্থী নাস্তিকগুলো মুসলমান বাঙালিদের নাম নিয়ে মাঝে মাঝে অপপ্রচার করে। তারা হিংসায় মরে যে, কেন মুসলমানরা আরবী-ফারসী নাম রাখে?
জবাবে শুরুতে বলতে চাই, ‘বাঙালি নাম’ বলতে বিধর্মী-মূর্তিপূজারীরা যা বোঝায়, সেগুলো মূলত অর্ধ-তৎসম নাম। যেমন বৈষ্ণব থেকে বোষ্টম, কৃষ্ণ থেকে কেষ্ট এগুলো হলো অর্ধ তৎসম শব্দের উদাহরণ। ঠিক সেভাবেই বিধর্মী-মূর্তিপূজারী নামগুলো কাঠখোট্টা সংস্কৃত শব্দ থেকে বিবর্তিত হয়ে যে গ্রাম্য নিন্মরুচির শব্দে পরিণত হয়, সেগুলোই হচ্ছে মূলত ‘বিধর্মী-মূর্তিপূজারীয়ানী নাম’।
যেমন ইসকনী বিধর্মী-মূর্তিপূজারীদের ‘চৈতন্য’ নামক যে ধর্মগুরু, তার মূল নাম ‘গৌরাঙ্গ’। কিন্তু প্রচলিত ভাষায় অর্ধ-তৎসম করে তাকে ডাকা হয় ‘গোরা’ নামে। গোরার দুই প্রধান শিষ্যের নাম হলো ‘জগাই‘ ও ‘মাধাই’। বিধর্মী-মূর্তিপূজারী ব্রাহ্মণদের উপাধিগুলো হয়ে থাকে বন্দোপাধ্যায়, চট্টোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায়, চক্রবর্তী প্রভৃতি। উচ্চারণ কষ্টকর হওয়ায় কলকাতার প্রচলিত ভাষায় এই নামগুলো অর্ধ-তৎসম করে বাড়–জ্যে, চাটুজ্জে, মুখুজ্যে, চক্কোত্তি এরকম উদ্ভটভাবে ডাকা হয়ে থাকে।
শরৎ-রবীন্দ্রের মতো বিধর্মী-মূর্তিপূজারী সাহিত্যিকদের গল্প উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নামও এরকম কিম্ভূতকিমাকার। শরতের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘শ্রীকান্ত’র প্রধান চরিত্রর নাম হলো গিয়ে ‘ন্যাড়া’, অর্থাৎ ছোটবেলায় তাকে ঐ নামেই ডাকা হতো। মাইকেল মধূসুদের ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে এক মেয়ে চরিত্রের নাম হচ্ছে ‘পঞ্চী’। সেই ‘পঞ্চী’ নামকে অর্ধ-তৎসম করে নাটকে তার মায়ের সংলাপ হলো-“বাবু আপনি আমাদের ‘পাঁচি’কে চিনতে পারছেন না?”
এরকম পেঁচি-ঘেঁচি, জগা-মগা-হগা মার্কা অর্ধ-তৎসম নামগুলোই মূলত বিধর্মী-মূর্তিপূজারীয়ানী নাম, যেগুলোর চেয়ে মুসলমান বাড়ির পোষা কুকুরটির নামও অনেক রুচিসম্মত হয়ে থাকে। বিধর্মী-মূর্তিপূজারীদের নামগুলোতে না আছে কোন আভিজাত্য, না আছে কোন সুরুচির প্রকাশ। এটাই কিন্তু স্বাভাবিক, কারণ মুসলিম শাসনামলে শিক্ষা ও আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটতো আরবী-ফারসী ভাষা দিয়ে। আরাকান রাজসভার শাসকরা নিজেদের বর্মী নামের পাশাপাশি একটা আরবী-ফারসী নামও রাখত। মুসলিম শাসনামলে যেসব বিধর্মী-মূর্তিপূজারীরা মুসলমানগণ উনাদের সাথে থেকে সামাজিকভাবে অগ্রসর হতো, তাদের নামেও থাকত আরবী-ফারসী শব্দ। যেমন সিরাজের অধীনস্থ জগৎশেঠের মূল নাম ছিল মাহতাব চাঁদ, তার দাদার নাম ছিল ফতেহ চাঁদ।
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম তিনি তো ভারতবর্ষে সভ্যতার আলো প্রজ্জ্বলনকারী দ্বীন, আর বিধর্মী-মূর্তিপূজারীধর্ম হচ্ছে গিয়ে অসভ্য গোলামদের ধর্ম। সবচেয়ে বড় কথা, ফারসী অভিধানে বিধর্মী-মূর্তিপূজারী শব্দটার অর্থই হচ্ছে গিয়ে ‘গোলাম’ চোর, ডাকাত। মুসলমানরা বংশপরম্পরায় যে আভিজাত্য লাভ করেছে নিজেদের নাম, খাদ্যাভ্যাস, উৎসবের ক্ষেত্রে, তা তো বিধর্মী-মূর্তিপূজারীদের নেই। বাঙালিত্বের দোহাই দিয়ে বিধর্মী-মূর্তিপূজারীদের এই ছোটলোকি আর রুচিহীনতাকে কখনোই আড়াল করা যাবে না আর মুসলমানগণ উনাদেরকেও এই কুকুর-শৃগালের ন্যায় রুচিহীন নামকরণ করতে বিধর্মী-মূর্তিপূজারীরা প্ররোচিত করতে পারবে না।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে