বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ 


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার পূর্বাভাস:

১৭ই রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ সম্মানিত বদর জিহাদ সংঘটিত হয়। আর ১৮ই রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুস সাবতিতে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আর এই দিকে উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আহাল বিশিষ্ট বদরী ছাহাবী সাইয়্যিদুনা হযরত খুনাইস ইবনে হুযাফাহ সাহমী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনিও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ সম্মানিত ও পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক নিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের নিকট যান। কিন্তু উনারা প্রস্তাবে সাড়া দেননি। ফলে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বিষয়টি উপস্থাপন করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَتَزَوَّجُ حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَيَتَزَوَّجُ حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَنْ هِيَ خَيْرٌ مِنْ حَضْرَتْ حَفْصَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনাকে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার চেয়ে উত্তম মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ (শাদী মুবারক) করবেন। আর হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনার থেকে উত্তম ব্যক্তিত্বা মুবারক উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার পূর্বাভাস ফুটে উঠে। সুবহানাল্লাহ!
অপর বর্ণনায় রয়েছে, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
هَل أدلك على خير من ذَلِك أَتزوّج أَنا حَضْرَتْ حَفْصَة عَلَيْهَا السَّلَامُ وأزوج حَضْرَتْ عُثْمَان خيرا مِنْهَا حَضْرَتْ أم كُلْثُوم عَلَيْهَا السَّلَامُ
অর্থ: “আমি কি আপনাকে এর চেয়ে উত্তম বিষয় অবহিত করবো না? আমি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করবো এবং হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিত্বা মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (সিমতুন নুজূম)
ثُمَّ خَطَبَهَا مِنْهُ فَزَوَّجَهُ عُمَرُ
অর্থ: “অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করার জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট সম্মানিত প্রস্তাব মুবারক দেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন আর রাবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেন। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বিশেষভাবে অনুষ্ঠান করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার প্রায় ৬ মাস পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাসের ৩ তারিখ লাইলাতুল জুমু‘য়াহ তথা ইয়াওমুল খমীস দিবাগত বাদ-মাগরিব মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ওহী মুবারক প্রাপ্ত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সম্পন্ন মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ২০ বছর। আর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ৪৯ বছর। প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বিশেষভাবে অনুষ্ঠান করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সুসম্পন্ন মুবারক করেন। তারপর তিনি উনার মাহবূব হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দুনিয়ার যমীনে সুসম্পন্ন করার জন্য সম্মানিত ওহী মুবারক করেন। এই সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقِىَ حَضْرَتْ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَهُوَ مَغْمُوْمٌ فَقَالَ مَا شَأْنُكَ يَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ بِاَبِـىْ اَنْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَاُمِّـىْ هَلْ دَخَلَ عَلـٰى اَحَدٍ مِّـنَ النَّاسِ مَا دَخَلَ عَلَىَّ تُوُفِّيَتْ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحِمَهَا اللهُ وَانْقَطَعَ الصِّهْرُ فِيْمَا بَيْنِـىْ وَبَيْنَكَ اِلـٰى اٰخِرِ الْاَبَدِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَتَقُوْلُ ذٰلِكَ يَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَهٰذَا حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ يَأْمُرُنِـىْ عَنْ اَمْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ اَنْ اُزَوِّجَكَ اُخْتَهَا حَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ عَلـٰى مِثْلِ صَدَاقِهَا وَعَلـٰى مِثْلِ عِدَّتِـهَا فَزَوَّجَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِيَّاهَا.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন, একদা) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে চিন্তিত অবস্থায় দেখলেন। তারপর তিনি উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, হে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম আপনার কী অবস্থা? (আপনাকে এরূপ চিন্তিত দেখা যাচ্ছে কেন?) তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক! আমার উপর যে মুছীবত এসেছে, সেটা কী অন্য কারো উপর অর্পিত হয়েছে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার উপর রহম করুন! আর আমার এবং আপনার মাঝে যে, আত্মীয়তার সম্পর্ক মুবারক ছিলো, সেটা চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি এই কথা বলছেন? এইতো ইনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আমার নিকট এই সম্মানিত ওহী মুবারাক নিয়ে এসেছেন যে, আমি যেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার অনুরূপ এবং সমপরিমাণ মোহরানা মুবারকসহ আপনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করি। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার অনুরূপ সম্মানিত মোহরানা মুবারক অনুযায়ী হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ, ৪/৫৪)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن ام المؤمنين حَضْرَتْ عائشة عَلَيْهَا السَّلَامُ قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاني حَضْرَتْ جبريل عَلَيْهِ السَّلَامُ فقال إن الله يأمرك أن تزوج حَضْرَتْ عثمان عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ أم كلثوم عَلَيْهَا السَّلَامُ على مثل صداق حَضْرَتْ رقية عَلَيْهَا السَّلَامُ وعلى مثل صحبتها.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করেছেন যে, আপনি যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার অনুরূপ সম্মানিত মোহরানা মুবারক অনুযায়ী হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ)
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
وروى ابن عساكر عن حَضْرَتْ أبي هريرة رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاني حَضْرَتْ جبريل عَلَيْهِ السَّلَامُ فقال إن الله يأمرك أن تزوج حَضْرَتْ عثمان عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ أم كلثوم عَلَيْهَا السَّلَامُ على مثل صداق حَضْرَتْ رقية عَلَيْهَا السَّلَامُ وعلى مثل صحبتها.
অর্থ: “হযরত ইবনে আসাকির রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করেছেন যে, আপনি যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার অনুরূপ সম্মানিত মোহরানা মুবারক অনুযায়ী হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেন। সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّاَوْحٰـى اِلَـىَّاَنْ اُزَوِّجَ كَرِيـْمَتَـىَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার মহাসম্মানিতা দুই বানাত আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন মুবারক করি।” সুবহানাল্লাহ! (মা’রিফাতুছ ছাহাবা লিআবী নাঈম ২২/২২৪)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ تَعَالَى أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ أزَوِّجَ كَرِيمَتَيَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ يعنى حَضْرَتْ رقية عَلَيْهَا السَّلَامُ وحَضْرَتْ أم كلثوم عَلَيْهَا السَّلَامُ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার মহাসম্মানিতা দুই বানাত আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন মুবারক করি।” সুবহানাল্লাহ!, (ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা ১/১১২, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৪/১৮, আল মু’জামুছ ছগীর ১/২৫৩, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৩৮৯, আল ফাতহুল কাবীর ১/৩০৪, জামিউল আহাদীছ ৭/৪৭৬, ইবনে আদী ৫/৭০, ইবনে আসাকির ৩৯/৪১, জামউল জাওয়ামি’ ১/৮৩৭২, যাখয়েরুল উক্ববা লি-মুহিব্বে ত্ববরী ১/১৬৩, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৩৩, আর রিয়াদ্বুন নাদ্বরাহ ১/২০২ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ الشَّفِيْعِ لِـحَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَا اَنَا اُزَوِّجُ بَنَاتِىْ وَلَكِنَّ اللهَ تَعَالـٰى يُـزَوِّجُـهُـنَّ.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য সর্বোত্তম সুপারিশকারী রয়েছেন। আমি আমার মহাসম্মানিতা বানাত আলাইহিমাস সালাম উনাদের সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সুসম্পন্ন মুবারক করিনি; বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই সেটা সুসম্পন্ন মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম)
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
عَن حَضْرَتْ أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ حَضْرَتْ عُثْمَان عَلَيْهِ السَّلَامُ لما مَاتَت امْرَأَتي حَضْرَتْ رقية عَلَيْهَا السَّلَامُ بنت رَسُول الله بَكَيْت بكاء شَدِيدا فَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَام مَا يبكيك قلت أبْكِي على انْقِطَاع صهري مِنْك قَالَ فَهَذَا حَضْرَتْ جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَامُ يَأْمُرنِي بِأَمْر الله أَن أزَوجك أُخْتهَا وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لَو أَن عِنْدِي مائَة بنت يمتن وَاحِدَة بعد وَاحِدَة زَوجتك أُخْرَى حَتَّى لَا يقبى بعد الْمِائَة شَيْء هَذَا حَضْرَتْ جبرل عَلَيْهِ السَّلَامُ أَخْبرنِي أَن الله يَأْمُرنِي أَن أزَوجك أُخْتهَا وَأَن أجعَل صَدَاقهَا مثل صدَاق أُخْتهَا أخرجه الفضائلي الرَّازِيّ
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি (আমাকে) বলেছেন, যখন আমার মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুকাররমাহ বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন আমি অত্যন্ত কঠিনভাবে কান্না মুবারক করতে থাকি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, কোন্ বিষয় আপনাকে কাঁদাচ্ছে। অর্থাৎ আপনি কি কারণে কান্না মুবারক করছেন। আমি বললাম, আমি কান্না মুবারক করছি এই জন্য যে, আমার এবং আপনার মাঝে যে, আত্মীয়তার সম্পর্ক মুবারক ছিলো, সেটা নিঃশেষ হয়ে গেছে। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, এইতো ইনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আমার নিকট এই সুসংবাদ মুবারক দিয়েছেন যে, আমি যেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বোন (সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম) উনাকে আপনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেই। যেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী হাত মুবারক-এ আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আম্র মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র প্রাণ মুবারক) উনার কসম! যদি আমার নিকট একশত জন মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা থাকতেন এবং একজন উনার পর অপরজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করতেন, তাহলে আমি একজন একজন করে উনাদের প্রত্যেককে আপনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দিতাম। এমনকি আমার একশত জন মহাসম্মানিতা বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কেউ বাকী থাকতেন না। সুবহানাল্লাহ! এইতো ইনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এই সুসংবাদ মুবারক পেশ করেছেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করেছেন যে, আমি যেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বোন (সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম) উনাকে আপনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেই এবং উনার মহাসম্মানিতা বোন উনার সম্মানিত মোহরানা মুবারক উনার অনুরূপ উনার সম্মানিত মোহরানা মুবারক নির্ধারণ করি।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুাদ ওয়ার রশাদ)
وعن حَضْرَتْ أبي هريرة رضي الله عنه قال قال حَضْرَتْ عثمان عَلَيْهِ السَّلَامُ لما ماتت امرأتي رقية بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم بكيت بكاء شديداً فقال عليه الصلاة والسلام ما يبكيك قلت أبكي على انقطاع صهري منك قال فهذا جبريل عَلَيْهِ السَّلَامُ يأمرني بأمر الله أن أزوجك أختها والذي نفسي بيده لو أن عندي مائة بنت يمتن واحدة بعد واحدة زوجتك أخرى حتى لا يبقى بعد المائة شيء هذا حَضْرَتْ جبريل عَلَيْهِ السَّلَامُ أخبرني أن الله يأمرني أن أزوجك أختها وأن أجعل صداقها مثل صداق أختها.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি (আমাকে) বলেছেন, যখন আমার মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুকাররমাহ বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন আমি অত্যন্ত কঠিনভাবে কান্না মুবারক করতে থাকি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, কোন বিষয় আপনাকে কাঁদাচ্ছে? অর্থাৎ আপনি কি কারণে কান্না মুবারক করছেন? আমি বললাম, আমি কান্না মুবারক করছি এই জন্য যে, আমার এবং আপনার মাঝে যে আত্মীয়তার সম্পর্ক মুবারক ছিলো, সেটা নিঃশেষ হয়ে গেছে। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, এইতো ইনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আমার নিকট এই সম্মানিত ওহী মুবারক নিয়ে এসেছেন যে, আমি যেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বোন (সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম) উনাকে আপনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেই। যেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী হাত মুবারক-এ আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আম্র মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র প্রাণ মুবারক) সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যদি আমার নিকট একশত জন মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে) আলাইহিন্নাস সালাম উনারা থাকতেন এবং একজন উনার পর অপরজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করতেন, তাহলে আমি একজন একজন করে উনাদের প্রত্যেককে আপনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দিতাম। এমনকি আমার একশত জন মহাসম্মানিতা বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কেউ বাকী থাকতেন না। সুবহানাল্লাহ! এইতো ইনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম। তিনি আমাকে এই সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করেছেন যে, আমি যেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বোন (সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম) উনাকে আপনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেই এবং উনার মহাসম্মানিতা বোন উনার সম্মানিত মোহরানা মুবারক উনার অনুরূপ উনার সম্মানিত মোহরানা মুবারক নির্ধারণ করি।” সুবহানাল্লাহ! (সিমতুন নুজূম ১/৫১০)
এই সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাধ্যমে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনার বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার বর্ণনা:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَن حَضْرَتْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا زَوَّجْتُ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عليه السلام حَضْرَتْ أُمَّ كُلْثُومٍ عليها السلام إِلَّا بِوَحْي مِنَ السَّمَاءِ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আমি সম্মানিত ওহী মুবারক প্রাপ্ত হয়েই সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সুসম্পন্ন মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শরী‘য়াহ ৪/১৯৩৯, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৫/২৬৪, আল মু’জামুল কাবীর ২৫/৯২ ইত্যাদি)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার বর্ণনা দিতে যেয়ে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেছেন, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেন, তখন তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু আইমন আলাইহাস সালাম উনাকে বলেন, আপনি আমার মহাসম্মানিতা বানাত আলাইহাস সালাম উনাকে প্রস্তুত করুন এবং উনাকে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার মধ্যে নিয়ে যান। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু আইমন আলাইহাস সালাম তিনি তাই করলেন। অতঃপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সুসম্পন্ন মুবারক হওয়ার তিন দিন পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে দেখার জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। তারপর তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন,
يابنية كيف وجدت بعلك قالت خير بعل فقال النبى صلى الله عليه وسلم أما إنه أشبه الناس بجدك حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْم عَلَيْهِ السَّلَامُ وأبيك محمد عليهما السلام
অর্থ: “হে আমার মহাসম্মানিতা প্রিয় বানাত আলাইহাস সালাম, আপনি আপনার সম্মানিত আহাল উনাকে কিরূপ পেয়েছেন? জবাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি উনাকে সর্বোত্তম আহাল হিসেবে পেয়েছি। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাবধান! তিনি মানুষের মাঝে আপনার সম্মানিত পূর্বপুরুষ সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে এবং আপনার মহাসম্মানিত আব্বাজান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সর্বাধিক সম্মানিত সাদৃশ্যতা মুবারক রাখেন।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ‘যুন নূরাইন’ লক্বব মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক:

সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ উনার ফলশ্রুতিতে একখানা সম্মানিত বিশেষ লক্বব মুবারক-এ ভূষিত হন। আর সেই সম্মানিত বিশেষ লক্বব মুবারকখানা হলেন ‘যুন নূরাইন’ অর্থাৎ মহাসম্মানিত দুই নূর মুবারক উনাদের অধিকারী।’ সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত দুই নূর মুবারক হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুই জন মহাসম্মানিতা বানাত আলাইহিমাস সালাম তথা বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وإني زوجته ابنتي فذلك سماه الله عند الملائكة ذا النور وسماه في الجنان ذا النورين فمن شتم حَضْرَتْ عثمان عَلَيْهِ السَّلَامُ فقد شتمني.
অর্থ: “আর নিশ্চয়ই আমি আমার দুইজন মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে) আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দিয়েছি। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক রেখেছেন ‘যুন নূর’ এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক রেখেছেন ‘যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! ফলে যে ব্যক্তি উনাকে তিরস্কার করলো, সে মূলত আমাকেই তিরস্কার করলো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (কানযুল উম্মাল ১৩/৫৩)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّمَا يُسَمَّى حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ ذَا النُّورَيْنِ لِأَنَّهُ لَمْ يَجْمَعْ بَيْنَ ابْنَتَيْ نَبِيٍّ فِي التَّزْوِيجِ وَاحِدَةً بَعْدَ الْأُخْرَى مِنْ لَدُنْ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ إِلَّا حَضْرَتْ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَلِذَلِكَ سُمِّيَ ذَا النُّورَيْنِ
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম করণ মুবারক করা হয়েছে তথা উনাকে সম্মানিত লক্বব মুবারক দেয়া হয়েছে, ‘যুন নূরাইন’। কেননা সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল বাশার আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে এই পর্যন্ত একমাত্র সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার নিকট হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের দুই মেয়েকে শাদী মুবারক দেয়া হয়নি। সুবহানাল্লাহ! আর এই কারণেই সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনাকে ‘যুন নূরাইন’ লক্বব মুবারক হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শরী‘য়াহ ৩/৩২৭)
এই সম্পর্কে বিশ্বখ্যাত সীরাত বিশারদ হাফিয আবুল ফিদা আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
ثُمَّ زوَّجه بِأُخْتِهَا الْأُخْرَى حَضْرَتْ أم كلثوم عليها السلام بِنْتُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِهَذَا كَانَ يُقَالُ لِـحَضْرَتْ عُثْمَانَ بْنِ عفان ذو النورين عليه السلام
অর্থ: “অত:পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর উনার অপর মহাসম্মানিতা বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান ইবনে আফ্ফান আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ দেন। এ জন্য উনাকে ‘যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম’ বলা হয়।” সুবহানাল্লাহ! (বিদায়াহ-নিহায়াহ ৩/৪১৯)
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনিই একমাত্র সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক যিনি পর পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দু’জন মহাসম্মানিতা বানাত আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ করে উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার সৌভাগ্য মুবারক অর্জন করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে