বিনয় ঈমানদার-মুসলমানদের অনন্য খুছুছিয়ত বা বৈশিষ্ট


নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন।’ সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ)
বিনীত বিনম্র হওয়া হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত আদত মুবারক, ছিফত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
তার বিপরীতে অহংকার করা, ফখর করা ইবলিসের স্বভাব। নাউযুবিল্লাহ! লা’নতপ্রাপ্ত এই ইবলিস ছয়লক্ষ বৎসর ইবাদত করে, একবার অহংকার করার কারণে তার সব আমল বরবাদ হয়ে গেল। নাউযুবিল্লাহ!
মুসলমান উনাদের জন্য সব সময় সব অবস্থায় বিনয় প্রকাশ করা, ইস্তেগফার, তওবা করা দায়িত্ব কর্তব্য। কখনও অহংকার করা, ফখর করা জায়িয হবে না। অহংকার, ফখর করলে তার সব আমল বরবাদ হয়ে যায়।
বিনয়, নম্রতা ছূফী তথা আল্লাহ ওয়ালা উনাদের বিশেষ গুণ। বিনয় নম্রতা ব্যতীত কেউ কোন নিয়ামত হাছিল করতে পারে না।
হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি বান্দার কোন আমল পছন্দ করেন? মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বান্দার বিনয়টাকে আমি পছন্দ করি। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘বিনয়ীদেরকে দুনিয়াতে সুসংবাদ দাও। উনারা কিয়ামতের দিন নূরের মিম্বরের অধিকারী হবেন। সুবহানাল্লাহ!
মুসলমান উনাদের জন্য সর্বদা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ইলম অর্জন করার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জান-মাল দিয়ে আমল করার কোশেশ করা উচিত। আর বিনয় প্রকাশ এভাবে করা যেতে পারে যে, আয় মহান আল্লাহ পাক আপনি আমার সম্মানিত শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার উছিলায় আমার গুনাহখতা ক্ষমা করুন, আমি কিছুই করতে পারতেছিনা, আমি অক্ষম অযোগ্য, মূর্খ, নাদান। আপনি দয়া করে ইহসান করে আমাকে আপনার ও আপনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুতাবিক ইলম অর্জন করার, আমল করার তাওফীক দান করুন।
শয়তান অন্তরে বসে ওয়াসওয়াসা দেয়, যার জন্য অহংকার, ফখর পয়দা হয়। তখনই মুসলমান উনাদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা করে অন্তর থেকে অহংকার ফখর দূর করে দিতে হবে। অন্তর বা ক্বলব ইছলাহ প্রাপ্ত হলে শয়তান আর ক্বলবে বসে ওয়াসওয়াসা দিতে পারবে না। ক্বলব ইছলাহ করার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার যাঁরা ওলী রয়েছেন, উনাদের সম্মানিত ছোহবত মুবারকে বাইয়াত হয়ে ক্বলবী যিকির করতে হয়। ক্বলব ইছলাহ হলে হাক্বীক্বী বিনয়ী হওয়া সহজ হয়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে আমাদেরকে সহজেই ইছলাহ প্রাপ্ত হওয়ার, হাক্বীক্বী বিনয়ী হওয়ার তাওফীক দান করেন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে