বিভিন্ন ইসলামিক বিশেষ বিশেষ দিবসে মানব শয়তানরা নেক ছূরতে ধোঁকা দেয়।


নেক ছূরতে ধোঁকা।
 
,
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য মানবজাতিকে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন যে- ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তনির রযীম’। অর্থাৎ এই দোয়া বলার সাথে সাথে শয়তান চলে যাবে এবং মানবজাতি বেঁচে যাবে। কিন্তু যখন শয়তান নেক ছুরতে মানবজাতির কাছে আসে আর যদি বলে- এটা নেককাজ; তাহলে বাহ্যত তা নেককাজ হলেও বুঝতে হবে মূলত: তা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিদ্বেষী কার্যকলাপ। যেমন ইবলিস শয়তান বলে- ‘তোমরা নামায পড়, রোযা রাখ, সমস্ত নেক কাজ করো, কিন্তু আজকাল এত পর্দা করা লাগে না’। এর ফলে মানুষরা দাইয়ুস হয়ে যায়। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে- ‘দাইয়ুস কখনো বেহেশতে যাবে না’। দাইয়ুস হলো ওই ব্যক্তি যে নিজে পর্দা করে না এবং তার অধীনস্থ মহিলাদের পর্দা করায় না। নাউযুবিল্লাহ!
 
,
ফলে মানবজাতি যাই করুক না কেন, সে জাহান্নামী। এই একইভাবে ইবলিস শয়তানের হাজারও নেক ছুরতে ধোঁকা রয়েছে, যা কিনা ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবত ছাড়া কেউ ক্বিয়ামত পর্যন্ত অনুধাবন করতে পারবে না।
 
এখন আসুন, মানব শয়তান নিয়ে বলি। এতো কিছুর পরেও যখন আমরা বুঝবো যে এটা জিন শয়তানের কাজ, তখন দোয়া পড়ে বেঁচে যাবো; কিন্তু মানব শয়তান যখন শয়তানী করে মুসলমানদের ধোঁকা দেয় কিংবা ক্ষতি করে, তখন এই ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকা অনেক কষ্টকর। অধিকাংশ মানুষই মানব শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয়।
 
,
শয়তান সব সময় চায় কোন মুসলমান যেন নেক কাজ করতে না পারে। তাই বিভিন্ন কৌশলে শয়তান ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা চালায়। মানব শয়তান ইবলিসেরই একটা ছূরত মাত্র। এরা সব সময়ই কোন না কোন ভাবে ধোঁকা দিতে থাকে। ইসলামের বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এরা একটু বেশিই লম্ফঝম্ফ শুরু করে দেয়।
 
,
এই ধরুন পবিত্র শব-ই মিরাজ, পবিত্র শব-ই বরাত, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব ক্ষত্রে মানব শয়তানরা সাধারন মুসলমানদের বিভিন্নভাবে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা চালায়। বলবে এসব ইসলামে নাই, পালন করা বিদআত, বিশেষ দিন সমূহে আমল করা ইসলামে জায়েজ নাই, ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক উদ্ভট কারণ পেশ করে। মূলত এসব তাদের মনগড়া কথাবার্তা কোন দলীল প্রমাণ নেই তাদের।
 
,
আচ্ছা বিশেষ বিশেষ দিন সমূহে কি কাজ করা হয় যা অনৈসলামিক…!!!
১) নফল নামাজ আদায় করা হয় এটা আদায় করা কি গুনাহ !!
২) পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করা হয়। এতে গুনাহ হবে !!
৩) হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত ও সালাম পেশ করা হয়। এতে গুনাহ হবে !!
৪) তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা হয়। এতে গুনাহ হবে !!
৫) সলাতুল তাসবীহ নামাজ আদায় করা হয় এতে গুনাহ হবে !!
৬) বেশি বেশি তাওবা ইস্তেগফার পাঠ করে। এতে গুনাহ হয় !! নাকি গুনাহ করে থাকলে তা মাফ হয় !!
৭) গজল, কাসিদাহ পাঠ করা হয়। এতে গুনাহ হবে !!
৮) বিভিন্ন নবী আলাইহিমুসসালাম, সাহাবায় কিরামগণ উনাদের জীবনি আলোচনা করা হয়। এতেও গুনাহ হবে !!
বিশেষ বিশেষ দিনে এসব কাজ করাহয় এখানে গুনাহের কাজ কোনটা !! যার কারণে মানব শয়তানরা এসব দিনে আমল করেনা এবং অন্যদের করতে বারণ করে…!!
 
,
অনেকে আবার বলে, যারা এসব দিনে আমল করে তার বছরের অন্যান্য দিন কোন আমলই করেনা । এর জবাবে বলতে হয়, একজন লোক শুধু মাগরীবের নামাজ আদায় করে। বাকি ৪ ওয়াক্ত নামাজ সে আদায় করে না। এখন তাকে বলবো আপনি বাকি ৪ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন না কেন তাই মাগরীবের নামাজও আদায় করতে পারবেন না !! (এসব কথা যে বলবে বুঝেনিতে হবে সে একটা ইবলিসের একটিভ চামচা।) বরং বলতে পারে, আপনি শুধু এক ওয়াক্ত নামাজ কেন আদায় করেন? ৫ ওয়াক্তই আদায় করার চেষ্টা করবেন।
 
,
ইবলিস শয়তান সব সময় চাইবে তার মত সকলকে জাহান্নামে নিতে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার সাথেও ইবলিস কথা দিয়েছে,
 
- ইবলিস আল্লাহ পাক উনাকে বললো, “আপনার সরল-সত্য পথে এ লোকদের জন্য ওঁত পেতে বসে থাকবো। সামনে-পেছনে, ডানে-বায়ে, সবদিক থেকে এদেরকে ঘিরে ধরবো এবং এদের অধিকাংশকে আপনি শোকর গুজার পাবে না।” [পবিত্র সূরা সূরা আল আ’রাফ : আয়াত শরীফঃ- ১৭]
 
- আল্লাহ পাক ইবলিসকে বললেন, “হে ইবলিস! তুই এখান থেকে বের হয়ে যা। কেননা তুই হচ্ছিস অবাধ্য, বিতাড়িত, অনন্তকাল ধরে তোর উপর আমার লা’নত বর্ষিত হবে। আর তুই ও তোর অনুসরণকারী সকলেই জাহান্নামের আযাব-গযবে লাঞ্ছিত হবি।” [পবিত্র সূরা সূরা আল আ’রাফ : আয়াত শরীফঃ- ১৮]
 
,
সামনেই পবিত্র শব-ই বরাত আসতেছে এই বিশেষ দিন নিয়েও মানব শয়তানরা অনেক অপপ্রোচার চালাচ্ছে, যা একটু চোখ কান খোলা রাখলেই বুঝতে পারবেন। মনে রাখবেন আপনি ইবাদত করলে এর সাওয়াব আপনিই পাবেন। ইবলিস চিরজাহান্নামী তাই সে চাইবে অন্যদেরও ধোঁকা দিয়ে তার মত জাহান্নামী করতে।
 
,
এসব শয়তানের ধোঁকায় না পরে আসুন সকলে মিলে পবিত্র শব-ই বরাত পালন করি।শব-ই বরাত আসলেই মানব শয়তানরা ধোঁকা দেয়া শুরু করে
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে