বিশুদ্ধ ঈমান ব্যতীত কবরে সুওয়ালের জওয়াব দিতে পারা যাবে না


ছোটবেলায় দেখতাম, বয়স্ক আত্নীয়স্বজনেরা একত্রিত হলেই, কবর নিয়ে আলোচনা করতেন। কবরে কি কি সুওয়াল করা হবে, সেগুলো পারলে কেমন নেয়ামত পাওয়া যাবে আর না পারলে কেমন আযাব হবে, এসব নিয়ে অনেক পেরেশান হতেন। আমার তখন মনে হত তিনটা মাত্র সুওয়াল করা হবে; সেগুলোর উত্তর মুখস্ত করে নিলেই তো হয়!

এখন বুঝেছি শুধু উত্তর মুখস্থ করে কবরে পার পাওয়া যাবে না। যত মুখস্তই থাকুক না কেন, পবিত্র ঈমান যারা হাক্বীকিভাবেই ধারণ করতে পেরেছেন, উনারা ছাড়া আর কেউই কোন উত্তর দিতে পারবে না।

হায়াতে থাকাকালীন অবস্থায় যারা মহান আল্লাহ পাক উনার পরিবর্তে ইবলিস আর নফসকে নিজের ইলাহ সাব্যস্ত করবে, মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ নিষেধ মুবারকের উপর নিজের খেয়ালখুশিকে প্রাধান্য দিবে; তারা, “তোমার রব কে” এই প্রশ্নের উত্তরে “আমি কিছু জানি না! আমি কিছু জানি না” বলতে থাকবে। নাউযুবিল্লাহ!

সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার বিধি নিষেধ অমান্য করে যারা পহেলা বৈশাখ, ভ্যালেন্টাইনসস ডে, থার্টি ফার্স্ট নাইট সহ বিধর্মীদের রসম রেওয়াজ পালন করবে, পূজায়-ক্রিসমাসে-বৈসাবিতে অংশগ্রহণ করবে; তারা “তোমার দ্বীন কি” এই জিজ্ঞাসার জবাবে বলতে থাকবে “আমি কিছু জানি না! আমি কিছু জানি না”। নাউযুবিল্লাহ!

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক সুন্নত যেমন বাল্যবিবাহের যারা বিরোধিতা করবে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মান মুবারকে চু চেরা করবে, সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ অস্বীকার করবে; তাদের যখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, “ইনি কে”, তখনো তারা বলতে থাকবে “আমি কিছু জানি না! আমি কিছু জানি না”। নাউযুবিল্লাহ!

কবর আখিরাতের প্রথম সোপান। অত্যন্ত ভয়ংকর জায়গা। যমীনের পিঠের উপরে থেকে অনেক বাহাদুরি করা যাবে, বাগাড়ম্বর করা যাবে; কিন্তু যমীনের পেটের ভিতরে ঢোকার পর আর কোন কিছুই কাজে আসবে না ঈমান ও আমল ব্যতীত। সময় থাকতে তাই সবারই উচিত মহামুল্যবান ঈমান ও আমল শুদ্ধ করার কোশেশ করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সবাইকে সেই তৌফিক দান করেন।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে