বিশ্ব কর্তৃত্বের আশায় বিশ্ব মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে ইহুদীরা। মূল টার্গেট পবিত্র দ্বীন ইসলাম এবং মুসলিমরা। মুসলিম বিশ্বের উচিত- এদের সম্পর্কে হুঁশিয়ার হয়ে শক্তিশালী ইসলামী মিডিয়া গঠন করা।


বর্তমান মিডিয়া এমন একটি অপশক্তি, যা সাধারণ ভাষায় বলতে গেলে- ‘মিডিয়া একটি অঘোষিত প্রকাশ্য বিশ্বসন্ত্রাসী’। মিডিয়ার প্রভাবে এখন চিরসত্যও চিরমিথ্যাতে পরিণত হয়। আর এই সন্ত্রাসী মিডিয়া পরিচালনা করে কুখ্যাত ইহুদী সম্প্রদায়। ইহুদীদের ইশারায় সারা বিশ্বের সব মিডিয়া প্রভাবিত এবং তাদের সিডিউল অনুসারে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে সুইজারল্যান্ডের বাজিল নগরীতে অস্ট্রেলিয়ার দুর্ধর্ষ ইহুদী সাংবাদিক থিওডর হার্জেলের নেতৃত্বে বিশ্ব ইহুদী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে তারা গোটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র ও সুপরিকল্পিত নীলনকশা প্রণয়ন করে। তারা সকলে একমত হয় যে, বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রথমতঃ দুনিয়ার সব স্বর্ণভা-ার আয়ত্ত করতে হবে এবং সুদী অর্থ ব্যবস্থার জাল বিস্তার করে পৃথিবীর সব পুঁজি তাদের হস্তগত করতে হবে। এরপর তারা স্থির সিদ্ধান্ত নেয় যে, আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম যেন তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যে চলে আসে এবং মিডিয়ার সাহায্যে দুনিয়াবাসীর মগজধোলাই প্রক্রিয়া শুরু করে তারা তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে। প্রচার মিডিয়া তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকা পালন করবে। থিওডর বলেছিলো- ‘আমাদের শত্রুদের পক্ষ হতে এমন কোনো শক্তিশালী সংবাদ প্রচার হতে দেবো না, যার মাধ্যমে তাদের মতামত জনগণের কাছে পৌঁছতে পারে।’
প্রসঙ্গত, ইহুদীদের স্বপ্ন বর্তমানে বাস্তবায়ন হয়েছে। বিশ্বের সব নামকরা মিডিয়াগুলো সব এখন ইহুদীরা নিয়ন্ত্রণ করে। মূলত, তারাই এসব মিডিয়াকে তৈরি এবং অর্থায়ন করছে। যেমন অঋচ, অচ, ইইঈ, ঈঘঘ, ঈইঝ, জঞ, ওঘই, অইঈ ঘবংি, ঋড়ী হবংি ইত্যাদি। উদাহরণ: ঋড়ী ঘবংি এটি হচ্ছে ঘবংি ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ সংবাদ সংস্থার একটি শাখা। এটার বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম টমাস। সে একজন খ্রিস্টান। এটা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সংবাদ মাধ্যম। বাহ্যিকভাবে এটি খ্রিস্টানদের মনে হলেও এর মূল মালিক ইহুদী। এটা ইসরাইল নিজ অর্থায়নে পরিচালনা করছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান সংবাদ সংস্থা হলো রয়টার্স। পৃথিবীর এমন কোনো সংবাদপত্র, রেডিও সেন্টার, টিভি সেন্টার ও স্যাটেলাইট নেই- যারা রয়টার্স থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে না। বর্তমান বিশ্বের প্রধান দুটি প্রচার মাধ্যম ‘বিবিসি’ এবং ‘ভয়েস অব আমেরিকা’ও প্রায় নব্বই ভাগ সংবাদ রয়টার্স থেকে সংগ্রহ করে থাকে। ওয়ার্ল্ডওয়াইড এ সংবাদ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়াস রয়টার ১৮১৬ সালে জার্মানির এক ইহুদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। তার এই রয়টার্সের কার্যক্রম অতি সহজেই বিশ্বময় স্থান লাভ করেছিল। এখন তো রয়টার্স ছাড়া পৃথিবী যেন অচল। রয়টার্স হচ্ছে আকাশ সংবাদসংস্থার কথিত মহারাজাধিরাজ।
মূলত, ইহুদীরা বাজিলে তাদের সম্মেলন করেছিলো কিভাবে দ্বীন ইসলামকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায়। কারণ তাদের স্বপ্ন সারা পৃথিবীতে শুধু তাদের ইহুদী সম্প্রদায়ই থাকবে এবং কর্তৃত্ব করবে। আর এর পথে প্রধান বাধা পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলিমরা। কমিউনিজমের পতনের পর ইসলামকে এই নিশানা করার কারণ হচ্ছে- পবিত্র দ্বীন ইসলাম একটি সুগঠিত আদর্শ। এটি কর্পোরেট পুঁজিকে সমর্থন করে না। সমর্থন করে না বাজার অর্থনীতি, বিশ্বায়নের নামে নতুন কালের অর্থনৈতিক শোষণের দাপাদাপি। পশ্চিমের অবাধ কনজ্যুমারিজম, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ও স্বার্থপরতা ইসলামের কাম্য নয়। ইসলাম চায় না- একজনের শোষণে আর একজনের অগ্রগতি। ইসলাম চায়- আদল, ইহসান ও ইনছাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে শোষণ ও বঞ্চনা থাকবে না। সাম্রাজ্যবাদীদের পথের কাঁটা এই মতাদর্শকে চৎববসধঃরাব ধিৎ-এর বিজয়নিশান উড়িয়ে মার্কিন বিদ্বেষ খতম করার চেষ্টা করবে, এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো তথ্যপ্রযুক্তিকে তাদের স্বার্থে ঈধঃধষুঃরপ পড়হাবৎঃবৎ-এর মতো ব্যবহার করে। এজন্য পুঁজিবাদী মিডিয়া গং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে বর্বর, সন্ত্রাসী ধর্ম হিসাবে অনবরত অপপ্রচার করে। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগে তাকে অবিরত নিন্দিত হতে হয়। উদ্দেশ্য- কোনো কিছুকে নিন্দিত না বানাতে পারলে তাকে ধরাশায়ী করা যাবে কেমন করে! কেবল শক্তিশালী মিডিয়ার সাহায্যে সাম্রাজ্যবাদীরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঙ্গে শত্রুতাকে আজ বৈধ করে নিচ্ছে। ফলে ২০০টি রেডিও স্টেশন, ১৭০০টি টিভি চ্যানেল এবং দৈনিক, সাপ্তাহিক ও অন্যান্য প্রায় ২২ হাজার ম্যাগাজিন প্রতিনিয়ত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, দ্বীন ইসলাম উনার মান-শান মুবারক ক্ষুণœ করে, অবমাননা করে নানা অপপ্রচার করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
বলাবাহুল্য, পুরো বিশ্ব মিডিয়া ইহুদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকার মূল কারণই হচ্ছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে ধ্বংস করার জন্য। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলিমবিশ্ব আজ সে সম্পর্কে বেখবর। ইসলাম ও মুসলিমবিশ্ব আজ সামরিক আগ্রাসনের পাশাপাশি মিডিয়া আগ্রাসনেরও শিকার। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিডিয়া আগ্রাসনে মধ্যপ্রাচ্যে যেমন ইসরাইল, সমগ্র বিশবজুড়ে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ এশিয়ায় তেমনি ভারত। ভারত এশিয়াতে দ্বিতীয় ইহুদী শক্তিধর একটি অপশক্তি। ভারতীয় মিডিয়া আগ্রাসন এখন বাংলাদেশে ছেয়ে গেছে। বাংলাদেশে মিডিয়াগুলো এখন ভারতেরই প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইহুদীদের নানা প্ল্যান বাস্তবায়ন করে চলেছে। বাংলাদেশের মুসলিমরা এখন মিডিয়ার গোলকধাঁধায় চোখে সর্ষে ফুল দেখছে।
প্রসঙ্গত, আমরা বলতে চাই, ইহুদীদের মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে বিশ্বমিডিয়াকে নিয়ন্ত্রিত করে মুসলিমদের ধ্বংস করার। কিন্তু এর বিপরীতে সারা পৃথিবীতে মুসলিমদের কোনো শক্তিশালী মিডিয়া নেই। আর এজন্য করণীয় হলো- মুসলিমবিশ্বের জনবলকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। মুসলিমবিশ্ব বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। গণমাধ্যম বিষয়ক শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তি বিশ্ব এ পরিবারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। (৪) ঙওঈ (ঙৎমধহরুধঃরড়হ ড়ভ ওংষধসরপ ঈড়হভবৎবহপব) কর্তৃক ১৯৭৯ সালে সউদী আরবের রাজধানী জেদ্দায় ওওঘঅ (ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ওধষধসরপ ঘবংি অমবহপ) প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ। এটাকে সত্যিকার অর্থে রয়টার্স বা সিএনএন বা আল-জাজিরা-এর ন্যায় সংবাদ সংস্থা হিসাবে গড়ার কার্যকরী পদক্ষেপ ওআইসিকেই নিতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে