বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে ১০০ বছর পূর্বে ইহুদী পরিকল্পিত নীল নকশা ‘প্রটোকল’: মুসলমানদের বর্তমান দুরবস্থা ইহুদী প্রটোকলের পাতা ফাঁদ-২


প্রটোকল (Protocol) বইটি গুপ্ত চক্রান্ত মারফত বিশ্ব সমাজ গঠনের ইহুদী পরিকল্পিত একটি নীল নক্শা। সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, পৃথিবীতে যে কয়টি বড় ধরণের ঘটনা বা দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তার সবগুলোই প্রটোকল বইয়ে পূর্ব থেকেই ভবিষ্যৎবাণীর মত লিপিবদ্ধ রয়েছে।

♦ বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে ১০০ বছর পূর্বে ইহুদী পরিকল্পিত নীল নকশা ‘প্রটোকল’: মুসলমানদের বর্তমান দুরবস্থা ইহুদী প্রটোকলের পাতা ফাঁদ-১

নিম্নে প্রটোকোল পুস্তকে বর্ণিত ইহুদীদের নিজস্ব অভিমত ও মুসলমান দমনের গোপন পরিকল্পনা বা নীল-নকশা তুলে ধরা হলো-

“এ বিষয়ে আমাদের যথাসম্ভব লক্ষ্য রাখতে হবে যে যুদ্ধের ফলে যেন অঞ্চল বিশেষের কোনই ফায়দা হতে না পারে। যুদ্ধকে অর্থনৈতিক দিক থেকে এমন পর্যায়ে পৌঁছিয়ে দিতে হবে, যেন যুদ্ধরত জাতিসমূহ আমাদের অর্থনৈতিক সাহায্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে বাধ্য হয় । অবস্থা যখন এ পর্যায়ে উপনীত হবে, তখন উভয় পক্ষই আমাদের আন্তর্জাতিক এজেন্টদের হাতের মুঠোয় চলে আসবে। আমাদের এজেন্টগণ লক্ষ লক্ষ চোখের দ্বারা অবিরাম দুনিয়ার ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করে চলছে। কোন বাধা বিপত্তিই তাদের সদাজাগ্রত চোখগুলোর দৃষ্টিশক্তি যুদ্ধক্লান্ত জাতিগুলোর নিজস্ব শক্তি হরণ করবে এবং জাতিসমূহকে ঠিক সেভাবেই শাসন করবে, যেভাবে রাষ্ট্রের বেসামরিক আইন দেশবাসীর উপর শাসন চালায় এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত করে। জনগণের মধ্য থেকে আমাদের প্রতি অনুগত যেসব লোককে আমরা শাসন পরিচালনার জন্য বাছাই করবো, তারা শাসন সংক্রান্ত ব্যাপারে আমাদের প্রতিভাশীল বিশেষজ্ঞদের হাতের পুতুলে পরিণত হবে।
এসব বিশেষজ্ঞকে শৈশব থেকেই এ ধরণের অবস্থায় শাসন পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে তৈরী করা হয়েছে, যেন তারা ঐসব পুতুলকে সঠিক ভাবে নাচাতে পারে। আমাদের এসব বিশেষজ্ঞকে সর্বাত্মকভাবে শাসন ক্ষমতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এজন্য তারা আমাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে। ইতিহাসের ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং প্রতিটি মুহূর্ত দেশের ঘটনাবলীকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতের কার্যসূচী স্থির করবে। অইহুদী তথা মুসলমানগণ সমাজ ইতিহাসের সঠিক পর্যবেক্ষণকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার অভিজ্ঞতা দ্বারা পরিচালিত নয়, বরং তারা বাঁধা ধরা নিয়মনীতি মেনে চলতে অভ্যস্ত। ঘটনাবলীকে সমালোচনার দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ ও কার্যকর করণের ফলাফল বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে তারা অভ্যস্ত নয়।  আমাদের তাই তাদের প্রতি কোন গুরুত্ব আরোপ করা উচিত নয়। সময় না আসা পর্যন্ত তাদের আমোদ-স্ফুর্তিতে দিন কাটাতে দাও অথবা ভবিষ্যতে নতুন ধরণের সুখ ভোগের সম্ভাবনাময় আনন্দে বিভোর হয়ে থাকতে দাও অথবা অতীতে যে সব সুখ-সুবিধা ভোগ করেছে তার স্মৃতি চারণে ভুলিয়ে রাখ। আমাদের কার্যক্রমের চাহিদা পূরণের জন্য আমরা তাদের যে কাজে ব্যবহার করতে চাই, সে কাজ সম্পাদনে তাদের প্রধান ভূমিকায় নেমে আসার মত ব্যবস্থা গ্রহণ কর। এ উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখেই আমরা আমাদের প্রেস মারফত অবিরাম প্রচার চালিয়েছি, আমাদের নীতিগুলোর প্রতি জনগণের নির্ভুল আস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করে চলছি।

অইহুদী তথা মুসলমান সমাজের বুদ্ধিজীবী মহলের মন-মগজকে আমাদের মতলব মত গড়ে তোলা এবং  উদ্দেশ্য সিদ্ধির পথে তাদেরকে ব্যবহার করার জন্য আমাদের দালাল গোষ্ঠির বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে বিশেষ ধরণের জ্ঞান ও তথ্য পরিবেশন করে চলেছে। আর ঐ অইহুদী তথা মুসলমান বুদ্ধিজীবীর দল বিচার-বিশ্লেষণ না করেই আমাদের পরিবেশিত তথ্যগুলোকে গ্রহণ ও কার্যকর করতে যাচ্ছে।
আমাদের এসব উক্তিকে এক মুহূর্তের জন্যও ফাঁকা বুলি বলে বিবেচনা করো না; ডারউইনবাদ, মার্ক্সবাদ এবং নাৎসীবাদের সাফল্যের জন্য আমরা কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, তা খুব  সাবধানে স্মরণ করে দেখ।  আমাদের ইহুদী সমাজের প্রতিটি লোকেরই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এসব মতবাদের অন্তর্নিহিত সংহতি বিরোধী নির্দেশাবলী লক্ষ্য করা উচিত।  রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ব্যাপারে ভ্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের জন্য বিভিন্ন জাতির চিন্তাধারা, নৈতিকমান ও মনোভাব পর্যবেক্ষণ করা অপরিহার্য। আমাদের বিজয়ের জন্য যে নিয়ম-পদ্ধতি করা হয়েছে, তার যান্ত্রিক অংশগুলোকে যদি বিভিন্ন ধরণের স্বভাব ও চরিত্র সম্পন্ন লোকদের উপযোগী করে পেশ করতে ব্যর্থ হই এবং অতীতের ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমানে এসব নীতির বাস্তবায়নের সঠিক পন্থা নিরূপণ করতে না পারি, তাহলে আমাদের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ নিস্ফল হয়ে যাবে।

আধুনিক যুগের রাষ্ট্রগুলোর হাতে জনগণের চিন্তারাজ্যে বিপ্লব সৃষ্টিকারী একটি বিরাট শক্তি রয়েছে। আর সে শক্তিটি হচ্ছে সংবাদপত্র। এই সংবাদপত্র অত্যন্ত জরুরী কাজগুলোর ফিরিস্তি পেশ করে; জনগণের অভাব-অভিযোগ ও অসন্তুষ্টির কারণগুলো প্রকাশ করে আবার জনমনে অসন্তুষ্টি সৃষ্টিও করে। বাক্ স্বাধীনতার বিজয় সংবাদপত্রের মাধ্যমেই স্বীকৃতি লাভ করেছে। কিন্তু অইহুদী তথা মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এ শক্তিটিকে কাজে লাগানোর সঠিক কৌশল আয়ত্ত করতে পারেনি। তাই সংবাদপত্র আমাদের হস্তগত হয়েছে। সংবাদপত্রকে দখল করার জন্য আমাদেরকে অশ্রু ও রক্তের সাগর মন্থন করে- স্বর্ণ হাসিল করতে হয়েছে। তবু আমরা এ ত্যাগের বিনিময়ে যথেষ্ট পেয়েছি, যদিও আমরা এ কঠিন কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক লোক হারিয়েছি। আল্লাহ পাক-এর দৃষ্টিতে আমাদের গোত্রের এক একটি মৃত ব্যক্তি এক হাজার অইহুদী তথা মুসলমানের সমতুল্য।” (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)

পাঠক! এই হচ্ছে সারা বিশ্বব্যাপী ইহুদী প্রভূত্ব প্রতিষ্ঠার নীল নক্শার একটি অন্যতম ভাষ্য। আর এরই প্রেক্ষিতে ওরা মুসলমানদের থেকেও খুঁজে নেয় ওদের যোগ্য, বিশ্বস্ত ও কুশলী এজেন্ট তথা দালাল। তুরস্কের কামাল, মিশরের নাছেরের মতো ইরাকের সাদ্দাম,  মোল্লা ওমর, ওসামা বিন লাদেনসহ, বর্তমান জাকির নায়েক তথা কাফির নায়েকও  ইহুদী-খ্রীষ্টানদের সেই এজেন্টের প্রতিভূ। অতএব ওদের থেকে সাবধান।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+