বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে ১০০ বছর পূর্বে ইহুদী পরিকল্পিত নীল নকশা ‘প্রটোকল’: মুসলমানদের বর্তমান দুরবস্থা ইহুদী প্রটোকলের পাতা ফাঁদ-১


পবিত্র কুরআন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রুরূপে ইহুদী ও মুশরিকদের পাবেন।” (সূরা মায়িদাহ: আয়াত শরীফ ৮২) শুধু এই আয়াত শরীফই কেবল নয় পবিত্র কুরআন শরীফ-এর আরো অনেক স্থানে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইহুদীদের কুটিলতা, হিংস্রতা, শত্রুতা ও ঔদ্ধত্য সম্পর্কে বলেছেন, ইহুদীরা খোদ আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে বিষোদগার করেছে, চরম স্পর্ধাজনিত মন্তব্য করেছে। কালামুল্লাহ শরীফ-এ বিষয়টি ইরশাদ হয়েছে এভাবে, “আর ইহুদীরা বলে, আল্লাহ পাক উনার হাত সংকীর্ণ হয়ে গেছে। তাদেরই হাত হোক সংকীর্ণ একথা বলার জন্য তাদের প্রতি অভিসম্পাত। বরং উনার উভয় হাত উম্মুক্ত। তিনি যেরূপ ইচ্ছা ব্যয় করেন। আপনার প্রতি পালনকর্তার পক্ষ থেকে যে কালাম অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরী পরিবর্ধিত হবে। আমি তাদের পরস্পরের মধ্যে ক্বিয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিয়েছি। তারা যখনই যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে, আল্লাহ পাক তা নির্বাপিত করে দেন। তারা দেশে দেশে অশান্তি উৎপাদন করে বেড়ায়। আল্লাহ পাক তিনি অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা মায়িদাহ : আয়াত শরীফ ৬৪)

প্রদত্ত আয়াত শরীফ-এ বিশেষভাবে উল্লেখ যে, ইহুদীদের প্রতি আল্লাহ পাক উনার লা’নত বা অভিসম্পাত। অতঃপর বলেছেন, এরা উদ্ধত জাতি। আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবতীর্ণ ওহীর দ্বারা ফায়দা লাভের বিপরীতে তাদের কুফরী ও নিফাকী আরো বেড়ে যায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমানদেরকে তাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য তাদের দলের মধ্যে মতানৈক্য তৈরি করে দেন। প্রদত্ত আয়াত শরীফ-এ ইহুদীরা যে দেশে দেশে গোপন চক্রান্তের মাধ্যমে অশান্তি, যুদ্ধ-ধ্বংস ও বিভীষিকা তৈরি করে বেড়ায় সে ব্যাপারেও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

ইহুদীরাই তাদের নীল নকশানুযায়ী গোটা মুসলিম বিশ্বকে ক্ষত-বিক্ষত করার বিভিন্ন মওকা তৈরী করেছে। ইহুদীদের চিরন্তন বদ অভ্যাসের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যে, তারা মিথ্যা ও ভ্রান্ত কথাবার্তা শোনাতে অভ্যস্ত। কালামুল্লাহ্  শরীফে এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলেন, “যারা ইহুদী- মিথ্যা বলার জন্য তারা গুপ্তচরবৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্থান থেকে পরিবর্তন করে।” (সূরা মায়িদাহ: ৪০)

প্রসঙ্গতঃ প্রদত্ত আয়াত শরীফের আলোকে এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমগুলো ইহুদীদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে। আর এ সুবাদে তারা যে মুসলিম স্বার্থবিরোধী, ইসলামী চেতনা পরিপন্থী খবরই কেবল ব্যাপকভাবে প্রচার করে তা নয় বরং আরো গুরুত্বাবহ তথ ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে যে তারা তাদের প্রচারণা কৌশল দ্বারা মুসলিম বিশ্বে, সাধারণ মুসলমানের কাছে, কিছু নামধারী মুসলিম ব্যক্তিত্বকে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলে, তাদের সম্পর্কে এমন সব তথ্য প্রচার করে যাতে সাধারণ মুসলমান মনে করে যে ঐসব ব্যক্তিবর্গ বুঝি মুসলিম বিশ্বের স্বার্থের জন্য আল্লাহ্ পাক-এর এক খাছ দান, এক প্রবাদ পুরুষ, এক অকুতোভয় মর্দে মুজাহিদ।

সাধারণ মুসলমান ইহুদী প্রচার মাধ্যমের বদৌলতে এসব মর্দে মুজাহিদদের নিজেদের সরল অন্তরে একান্ত শ্রদ্ধাভরে লালন করে, অবাক্ষ শশ্রু কান্নায় ভিজিয়ে আকুলভাবে তাদের জন্য দোয়া করে, তাদেরকে নিজেদের ত্রাণকর্তা বলে মনে করে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝতে ব্যর্থ হয় যে, কথিত ঐ ব্যক্তিবর্গের এ চিত্র মূলতঃ ইহুদীদেরই নীল নকশার অঙ্গ। এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করেই, তাকে উসীলা করেই তখন ইহুদী-খ্রীষ্টান গোষ্ঠী শুরু করে একের পর এক মুসলিম বিধ্বংসী প্রক্রিয়া।

Protocol

 

‘প্রটোকল‘ (Protocol) পুস্তক একটি মূল্যবান দলীল। দুনিয়ার মানুষকে সর্বপ্রথম এ বইটি সম্পর্কে অবহিত করেন প্রফেসর সারকিল এ নাইলাস নামক জনৈক গোঁড়া রুশীয় পাদ্রী। ১৯০৫ সালে প্রফেসর নাইলাস নিজে উদ্যোগী হয়ে বইটি প্রকাশ করেন। বইয়ের ভুমিকায় তিনি উল্লেখ করেন যে, “ইহুদী ফ্রি-ম্যাসন ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রস্থল” ফ্রান্সের একটি ফ্রি-ম্যাসন লজ থেকে জনৈক মহিলা (সম্ভবতঃ হিব্রু ভাষায় লিখিত) মূল বইটি চুরি করে এনে তাঁকে উপহার দেন।  উল্লেখ্য যে, এ ঘটনার পর কোন মহিলাকেই আর ফ্রি-ম্যাসন আন্দোলনের সদস্য করা হয়না। সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে মহিলারা ফ্রি-ম্যাসন লজে যাবার অনুমতি পেলেও বৈঠকাদির সময় তাদের বের করে দেয়া হয়। ১৯১৭ সালের জানুয়ারী মাসে প্রফেসর নাইলাস এ বইয়ের একটা নয়া সংস্করণ তৈরী করেন এবং বাজারে বের হবার আগেই ঐ বছর মার্চ মাসে রাশিয়ায় কম্যুনিষ্ট বিপ্লব সংঘটিত হয়। জার সরকারকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দলখকারী কীরিনিস্কী সরকার প্রটোকলের সকল কপি বিনষ্ট করে ফেলে। কারণ এ বইয়ের মাধ্যমে রুশ বিপ্লবের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাবার আশঙ্কা ছিলো। নাইলাসকে গ্রেফতার করে জেলে নিক্ষেপ করা হয় এবং অমানুষিক দৈহিক নির্যাতনের পর তাকে রাশিয়া থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। ১৯২৯ সালের ১৩ই জানুয়ারী তিনি ভ্লাডিমিরে মারা যান। কিন্তু তা সত্ত্বেও বইটির এত চাহিদা হয়েছিলো যে, ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত এর ৪টি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ছাপানো পুস্তক ছাড়া পাতলা কাগজে টাইপ করেও এটি প্রকাশ করা হয়েছিলো। ধান পাতার তৈরী এক প্রকার কাগজে লেখা একটি প্রটোকল পুস্তক সাইবেরিয়া  অঞ্চলে প্রচার করা হয়েছিলো। এরই এক কপি ১৯৩৯ সালে আমেরিকায় পৌঁছে এবং সেখানে এর অনুবাদ প্রকাশিত হয়। প্রটোকোলের ইংরেজী অনুবাদক ছিলেন ভিক্টরই মারসডেন (Victor E. Marsden)। ইনি একজন ইংরেজ সাংবাদিক। দীর্ঘকাল রাশিয়ায় বসবাস করে এক রুশ মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন। তিনি মর্নিং পোষ্ট পত্রিকার রুশীয় সংবাদদাতা হিসাবে কাজ করতেন। ১৯১৭ সালের বিপ্লব তিনি স্বচক্ষে দেখে এর লোমহর্ষক হত্যাকান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ সংবাদপত্রে প্রেরণ করেন। এজন্য তাঁকে গ্রেফতার করে দু’বছর “পিটার পল” জেলে রাখা হয় এবং সেখান থেকে মুক্তির পর ইংল্যান্ডে ফিরে এসে তিনি বৃটিশ মিউজিয়ামে বসে প্রটোকোলের তরজমা করেন। বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়া থেকে পালিয়ে যে সব লোক আমেরিকা ও জার্মানীতে আশ্রয় নেয়, তারাও প্রফেসর নাইলাস অনুদিত প্রটোকোলের কিছু কপি সঙ্গে নিয়ে আসে। নাইলাস ধর্মে খৃষ্টান ছিলেন। তিনি স্বীয় ধর্মকে ইহুদী ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই এ বইটি বিশ্ববাসীর কাছে পেশ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলেন।

প্রটোকল বইটি গুপ্ত চক্রান্ত মারফত বিশ্ব সমাজ গঠনের ইহুদী পরিকল্পিত একটি নীল নক্শা। এ নীল নক্শায় যে ধরণের বিশ্ব রাষ্ট্রের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক কথায় তাকে পুলিশী রাষ্ট্র বলা যেতে পারে।  সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, পৃথিবীতে যে কয়টি বড় ধরণের ঘটনা বা দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তার সবগুলোই প্রটোকল বইয়ে পূর্ব থেকেই ভবিষ্যৎবাণীর মত লিপিবদ্ধ রয়েছে।  বইটির এই গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইংরেজী থেকে তার বাংলা অনুবাদ করে যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। মুসলমানগণ যেন বিশ্বব্যাপী ইহুদী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে একটা সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন এ জন্যই সবুজ বাংলা ব্লগে টিকা সহ এর ধারাবাহিক অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। (ইনশাআল্লাহ)

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+