বিশ্ব বেহায়া প্রতিযোগিতায় নারীদেরকে পাঠানোর পদক্ষেপ এক দুঃসহ নব্য জাহিলিয়্যাত


সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ইনু ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতা তথা বিশ্ব বেহায়া প্রতিযোগিতায় বেহায়া নারীদের পাঠাবে। নাউযুবিল্লাহ!
কি হয় সে বিশ্ব বেহায়া প্রতিযোগিতায়?
বিশ্ব বেহায়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বেহায়া নারীকে যখন বিশ্ব সুন্দরী বা কোনো দেশের সেরা সুন্দরীর বিরাট লেবেল সেটে দেয়া হয়, তখন তার শরীরে কাপড় থাকে সবচেয়ে কম। অর্থাৎ নারীকে বেহায়াপনার সীমা অতিক্রম করে বহু দূর যেতে হয়। জ্ঞান, বিদ্যা, বুদ্ধি, শিক্ষার শক্তির কথা এসব বেহায়া নারীদের আর মনে থাকে না। নারীকে শুধু সুন্দর হতে হবে আর কিছু নয়। তথাকথিত সংস্কৃতিবাদীসহ কিছু বেহায়াপনা লোকদের খুশি করো তারপরই শুধু তুমি কিছু পাবে, তোমার জীবন সফল হবে! তা না হলে তুমি কিছুই পাবে না এরকম বানোয়াট কিছু শর্ত দিয়ে নারীকে বেহায়পনার দিকে ঠেলে দেয় এই বেহায়ার সীমা যারা অতিক্রম করে তারাই সেরা হয়। নাউযুবিল্লাহ!
সুতরাং এসকল বেহায়া নারীদের কাছে আমরা নারীর মর্যাদা কেমন করে আশা করতে পারি?
আমাদের জেনে রাখা উচিত নারীদের মধ্যে বিশ্ব সুন্দরী তো তারাই, যারা বিশেষভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম মুতাবেক খাছ শরয়ী পর্দা করে। যারা উত্তম চরিত্রের অধিকারিনী। যারা সম্মানিত শরীয়ত মুতাবেক চলে। তারা তো শুধু বিশ্ব সুন্দরী নয় বরং তারা হচ্ছেন রহমত ও নিয়ামতপ্রাপ্ত সুন্দরী জান্নাতী নারী। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ, কন্যাগণ ও মু’মিন নারীগণ উনাদেরকে বলুন, উনারা যেন উনাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে উনাদের চেনা সহজ হবে। ফলে উনাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। মহান অল্ল¬াহ পাক তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম! মু’মিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের ইজ্জত, সম্মান ও সম্ভ্রম হিফাযত করে। তারা যেন সাধারণত যা প্রকাশ থাকে তা ছাড়া নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
নারীর দেহের কোনো অংশই পর্দা-বিধানের বাইরে নয়। হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের আমলও তা প্রমাণ করে।
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যখন পর্দার বিধানকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ও হযরত উম্মুল মুু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্যও অধিকতর পবিত্রতার উপায় বলা হয়েছে, তখন উম্মতের আর কে আছে যে এই বিধানের বাইরে থাকতে পারে?
সুতরাং যেখানে গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর মুখমন্ডলসহ পূর্ণ দেহ আবৃত রাখা অপরিহার্য, সেখানে নারীরা বেপর্দা বেহায়া হয়ে কিভাবে বেহায়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে? আর সরকারের পক্ষ থেকেও তার ব্যবস্থাপনা করতে পারে? নাউযুবিল্লাহ!
সুতরাং বাংলাদেশের মতো মুসলিম দেশ যেখানে ৯৮% মুসলমান যে দেশের রাষ্ট্রদ¦ীন পবিত্র ইসলাম সেখান থেকে সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নারীকে বেহায়া কারার পাঁয়তারা তো কখনো কোনো মুসলমানতো অবশ্যই, বরং কোনো সাধারন মানুষও মেনে নিতে পারে না।
তাই ইনুসহ সরকার ও তার সহযোগী প্রশাসনকে উক্ত সিদ্ধান্তকে বাতিল করে সমস্ত নারীদেরকে পর্দা ও শালীনতার শিক্ষা দিয়ে নারীদেরকে আল্লাহওয়ালী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে