বিশ্ব মুনাফিক সউদীকে চিনুন: যুগে যুগে মুসলমানদের পতন ঘটেছে মুসলমানদের মধ্যে গাদ্দারদের কারণেই


বর্তমান সউদীকে চিনতে হলে, বুঝতে হলে অতীত ইতিহাসে ফিরে যেতে হবে। ইসলামের গাদ্দার নামধারী মুসলমানরা ইহুদী খ্রিস্টানদের দালাল হয়ে পবিত্র ইসলাম ও হক্ব পন্থী মুসলমানদের কতটা ক্ষতিগ্রস্থ করেছে, এমনকি আজকের মুমুর্ষ ইসলাম এবং সেই স্বর্ণযুগের ইসলামের কতটা তফাৎ সৃষ্টি করেছে; সেই সব লোমহর্ষক ইতিহাস না জানলে শত্রু-মুনাফিকের চরিত্র চেনা কঠিন সম্ভব হবেনা। এখানে দ্বাদশ শতাব্দির অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় সাড়ে আটশ বছর আগে সুলতান সালাহ উদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সময়কার প্রেক্ষাপট প্রণীধানযোগ্য। কেননা- ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, মিশর তথা মুসলিম বিশ্বের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সময়কার ইতিহাসের ব্যাতিক্রম নয়। বরং দ্বাদশ শতাব্দিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোই পুনরাবৃত্তি ঘটে যাচ্ছে মিশরসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে।

ধর্মান্ধ গোড়া খ্রিস্টানরা দ্বাদশ শতাব্দিতে ক্রুশ ছুঁয়ে শপথ করেছিল পৃথিবী থেকে পবিত্র ইসলাম উনার নাম নিশানা মুছে ফেলার জন্য। গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেছিল তারা। পৃথিবীতে ঈমানে বলে বলীয়ান মুসলমানদের পতন ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রুশের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে নানা রকম গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। ধন-সম্পদ, মদ আর নারীর প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে ঈমান বিক্রি করতে থাকে মুসলমানদের মধ্যে বিলাশ প্রিয় আমীর ও শাসকরা। এভাবে করে সূক্ষ ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ফেলে মুসলমানদের মধ্যে থেকে একদল গাদ্দার তৈরী করে নেয় খ্রিস্টানরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শসস্ত্র হামলা চালিয়ে দখল নিয়ে নিতো মুসলিম সালতানাতের একেক অঞ্চল। সেখানেও ক্ষমতার লোভে, নতুন রাজ্যের শাসক হওয়ার লোভে খ্রিস্টানদের হয়ে কাজ করতো মদ ও নারীতে আসক্ত ঈমান বিক্রয়কারী নামধারী মুসলিম শাসকরা। উল্লেখ্য, একইভাবে বর্তমানে সউদী রাজা আর্থিক মন্দাগ্রস্থ ইহুদী খ্রিস্টানদের সাথে হাত মিলিয়ে মিশর সেনাবাহিনীকে আর্থিক সাহায্য করছে।

খ্রিষ্টানরা পৃথিবীর জমিন থেকে ইসলাম ধ্বংস করার প্রত্যয়ে ক্রুশ ছুঁয়ে যে শপথ করেছিল আজ একবিংশ শতাব্দিতেও তারা সেই শপথেরই প্রতিটা অক্ষর বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সম্প্রতি মুসলিম বিশ্বে যা কিছু ঘটে যাচ্ছে তা মোটেও বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা বা নেহায়েত কোন রাজনৈতিক বিষয় নয় বরং সেই ক্রুশ ছোঁয়া শপথের ষড়যন্ত্রেরই ধারাবাহিকতা।

প্রসঙ্গতঃ মিশর-সিরিয়া-ইয়েমেনে চলছে নির্মম মুসলিম নিপীড়ন ও গণহত্যা। কিন্তু অনেকেই জানে না, এ ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে? কি বা তাদের স্বার্থ।

মূলত মিশর-সিরিয়া-ইয়েমেনসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টির পেছনে রয়েছে মুসলিম নামধারী এক মুনাফিক গোষ্ঠী, যারা সমগ্র বিশ্বে কাফিরদের অন্যতম এজেন্ট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে, একের পর এক বাস্তবায়ন করছে ইহুদী এজেন্ডা, সংগঠিত করছে মুসলিম ভাইয়ে ভাইয়ে রক্তপাত।

আর এরাই হচ্ছে সউদী আরবের ক্ষমতাসীন রাজ পরিবার তথা সউদ পরিবার। নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ইহুদী বুদ্ধিতে এ সকল অপকর্ম করে যাচ্ছে তারা। খোদায়ী লানতপ্রাপ্ত ‘নজদ’ অঞ্চলের অধিবাসী এ সউদীদেরকে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ‘শয়তানের শিং’ বলে ভৎর্সনা করা হয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ)

সাম্প্রতিক সময়ে সউদী সরকার মিশর সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেশটির সেনাবাহিনীকে প্রায় একশ’ কোটি মার্কিন ডলার সহযোগীতা দেয়। এছাড়া সিরিয়ার পক্ষ ত্যাগে রাশিয়াকে দেড় হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তির মত লোভনীয় প্রস্তাবও দেয় এই বিশ্ব মুনাফিক। পাশাপাশি ইয়েমেনে কথিত আল কায়েদা রয়েছে এমন অজুহাত দাড় করে সন্ত্রাস দমনের নামে দেশটিতে হামলা চালাতে আমেরিকা, ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে ডেকে নিয়ে আসে এই মুনাফিক সউদীরা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+