বুড়িগঙ্গার তীরে এত হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা থাকতে পবিত্র মসজিদগুলোর দিকে চোখ পড়লো কেন? নাকি সরকারি কর্মকর্তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে বেছে নিয়েছে এ মসজিদ ভাঙ্গার কার্যক্রম। নাউযুবিল্লাহ! ৯৮% মুসলমান অধ্যুষিত দেশ বাংলাদেশের জনগণ পবিত্র মসজিদ বিরোধী এ জঘন্য কাজ কিছুতেই মেনে নেবে না।


সম্প্রতি খবরে এসেছে, বাংলাদেশের নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছে, “রাজধানীর চারপাশের নদীর তীরে অবস্থিত মসজিদ, মন্দির, শ্মশানসহ অবৈধ ৩০টি ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এ ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির আরিফ মাহমুদকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ১ মাসের মধ্যে রাজধানীর চারপাশের নদী তীর পরিদর্শন করে সচিত্র একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। এর পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।” (সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়, ২৬শে আগস্ট, ২০১৫)
কিন্তু খবরে জানা যায়, সরকার বুড়িগঙ্গা তীরে ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙ্গার যে লিস্ট করেছে তার মধ্যে হিন্দুদের মন্দির নেই, সবগুলো মুসলমানদের। এ সম্পর্কে অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্যারিপোর্ট২৪ জানায়, যে ৩০টি স্থাপনা ভাঙ্গার টার্গেট নেয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ২২টি মসজিদ (১টি ভাঙ্গা শেষ), ৩টি মাদরাসা ও ইয়াতিমখানা, দুটি খানকা শরীফ, তিনটি স্কুল। এগুলো হলো:
১. বায়তুল আমান জামে মসজিদ। বেড়িবাঁধের ভেতর নদীর দিকে একতলা বিল্ডিংয়ের মসজিদটিতে একটি সেমিপাকা টিনশেড ছাড়াও সেমিপাকা বাথরুম রয়েছে।
২. বাদামতলীর নবাববাড়ি ঘাটের চারতলা বায়তুল সালাম জামে মসজিদ।
৩. শ্যামবাজারে নদীর তীরে পুরাতন ৩ তলা শ্যামবাজার জামে মসজিদ।
৪. সূত্রাপুরে নদীর তীরে দোতলা ভবনের মসজিদে ‘নূর মোহাম্মাদীয়া’।
৫. কেরানীগঞ্জে তিনতলা পাকা বিল্ডিংয়ের জিনজিরা ফেরিঘাট জামে মসজিদ।
৬. কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া লঞ্চঘাটে একতলা ‘খোলামোড়া ঘাট জামে মসজিদ’।
৭. কেরানীগঞ্জের ‘ফয়েজনগর শাহী জামে মসজিদ’।
৮. কেরানীগঞ্জের ‘ান্ডাইল জামে মসজিদ’।
৯. কেরানীগঞ্জের ‘জিনজিরার টিকাজোর জামে মসজিদ’।
১০. লালবাগের ‘মুসলিমবাদ টাওয়ার জামে মসজিদ’।
১১. লালবাগের রসুলবাগে ‘বাইতুর রহমান জামে মসজিদ’।
১২. লালবাগ ‘কয়লাঘাটের তারা মসজিদ’।
১৩. লালবাগ কামরাঙ্গীরচর সরকার বাড়ির ‘আল-আকসা জামে মসজিদ’।
১৪. হাজারীবাগের ‘খাজা বাবা ফরিদপুরী জামে মসজিদ’।
১৫. হাজারীবাগের ‘চরকামরাঙ্গীর জান্নাতুল মাওয়া জামে মসজিদ ’।
১৬. কামরাঙ্গীরচরের পাকাপুল আশ্রাফাবাদের ‘বাইতুন নুর জামে মসজিদ’।
১৭. বাইতুল হোসনা জামে সমজিদ
১৮. দারুস সালামের ‘গাবতলী বালুঘাট জামে মসজিদ’।
১৯. উত্তরা পশ্চিম পাড়া আব্দুল্লাহপুরের ‘বায়তুন নূর জামে মসজিদ’।
২০. বাকল্যান্ড বাঁধ রোডে সদরঘাটের ‘বায়তুন নাজাত জামে মসজিদ’।
২১. সূত্রাপুরে বুড়িগঙ্গার তীরের ‘উল্টিনগঞ্জ জামে মসজিদ’।
২২. কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় টিনের ছাপড়া দেয়া ‘আপানগর ডকঘাট মসজিদ’। যদিও গত ১২ আগস্ট-২০১৫ মসজিদটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
তিনটি মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা:
১. কামরাঙ্গীরচরের নিজামবাগের জামিয়া তালাবিয়া আশ্রাফুল উলুম মাদরাসা।
২. কামরাঙ্গীরচরের নূর ইয়াতীমখানা
৩. সদরঘাট ছিন্নমূল ইয়াতীমখানা ।

দুটি খানকা শরীফ:
১. হাজারীবাগ ইসলামবাগের চন্দ্রপাড়া খানকা।
২. হাজারীবাগের এন ডি রোডের আব্দুর রহিম চিশতী দরবার।
তিনটি স্কুল:
১. দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চরমিরেরবাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়।
২. লালবাগের চররঘুনাথপুরে রয়েছে জিনজিরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
৩. হাজারীবাগের আর এন রোডে লালবাগ স্কুল এ্যান্ড কলেজ।

হিন্দুদের একটি কথিত স্নানঘাট:
১. বিনাস্মৃতি স্নান ঘাট।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, স্নানঘাট উচ্ছেদের কী আছে! শুধু ধোঁকা দেয়া জন্য নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নৌপথ ও নদীবন্দর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএ নিজেই রাজধানী বুড়িগঙ্গা নদীর জায়গাজমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছিল। সেসব মার্কেট নির্বিঘেœ চলেছে প্রায় ১৫ বছর ধরে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিআইডব্লিউটিএ আহসান মঞ্জিলের সামনের অল্প কিছু জায়গা ছাড়া বাদামতলী থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে মার্কেট নির্মাণ করে। এ মার্কেটগুলো থেকে প্রতি মাসে মোটা ভাড়া পায় বিআইডব্লিউটিও। সত্যিই বলতে ‘নদীর নাব্যতা নষ্ট’ বলতে যেটা বোঝায়, সেটার জন্য নদীর মধ্যে গড়ে উঠা এ মার্কেটগুলোই প্রধান দায়ী। শুধু তাই নয়, এ মার্কেটগুলো (যেগুলো মূলত কাঁচাবাজার ও আড়ৎ) প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণে আবর্জনা (পেঁয়াজ-রসুন-আলুর খোসা, পচা তরিতরকারী) নদীতে ফেলছে, যার মাধ্যমে নদী ব্যাপক দূষিত হচ্ছে। অথচ এর দায়ভার চাপানো হচ্ছে পবিত্র মসজিদ উনার কাঁধে, দাবি করা হচ্ছে মসজিদসমূহই নদী দূষণের জন্য দায়ী। নাউযুবিল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে নদীর নাব্যতা হাস কিংবা পরিবেশ দূষণ কোনোটির জন্যই এ মসজিদ-মাদরাসাসমূহ দায়ী নয়, বরং মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর পবিত্র মসজিদসমূহ উনাদের রহমতের কারণেই বুড়িগঙ্গা নদীর এ ঘাটগুলো স্থায়ী হয়েছে, নদীভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়নি।
অবস্থাদৃষ্টে এটা স্পষ্ট, সরকারি কর্মকর্তাদের এতদিনের অপকর্ম লোকচক্ষুর আড়ালে নিতেই হাত বাড়ানো হয়েছে পবিত্র মসজিদসমূহের দিকে। হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা বাদ দিয়ে ভাঙ্গার পরিকল্পনা করা করছে পবিত্র মসজিদ- মাদরাসাসমূহ। নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র শরীয়ত উনার হুকুম হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর মসজিদ কখনোই ভাঙ্গা যাবে না, ক্বিয়ামত অবদি বহাল রাখতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ ৯৮% মুসলমান উনাদের দেশ, কাফিরের দেশ নয়। তাই এ দেশের মানুষরা মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর পবিত্র মসজিদ বিরোধী কার্যক্রম কোনো ক্রমেই মেনে নেবে না। এ ব্যাপারে সরকারি কর্মকর্তাদের উচিত বিশেষভাবে সতর্ক থাকা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে