বেনযীর ছদক্বায়ে জারিয়াহর অতুলনীয়া মালিকা


প্রত্যেক সন্তানের গড়ে উঠা, বেড়ে উঠায় মায়ের অবদান সর্বাধিক। মায়ের তত্ত্বাবধানে শিশু বিশুদ্ধ ভাষা শিখে, গ্রহণ করে আদর্শ মুয়ামিলাতের দীক্ষা। মাতৃ মমতা সন্তানের হাতেখড়ির যোগান দেয়। সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষায় মাতৃ তদারকি আশ্চর্য সাফল্য এনে দেয়। আদর্শ মানব হিসেবে সন্তানের আত্মপ্রকাশ মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমেরই ফলাফল। তাছাড়া সন্তান সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার নেপথ্যে থাকে মায়ের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা।
প্রসঙ্গত, হামিলাতুল মুস্তফা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার অবদান সম্পর্কে আলোচনা-পর্যালোচনা- যা আমাদেরকে কেবল ভাবায় না, বরং হক্ব আদায়ে কৃত গাফলতির অনুশোচনার আগুন বারবার আমাদেরকে দগ্ধ করে।
ওলীয়ে মাদারযাদ, মুস্তাজাবুদ দাওয়াত সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম। উনার তাজদীদ মুবারক উনার ক্ষেত্র সীমাহীন। তাফসীর হাদীছ শরীফ, ফিক্বাহ, ফতওয়া, তাছাউফ, আক্বাইদ, মুয়ামিলাত, মুয়াশিরাত, হুসনে যন, তাহযীব-তামাদ্দুনসহ মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক বিষয়াদি উনার তাজদীদের মুবারক ক্ষেত্র। সঙ্গতকারণেই তাজদীদের প্রতিটি ক্ষেত্রেই হযরত দাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার রয়েছে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অবদান। যা বলাই বাহুল্য।
মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্রে সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কোটি কোটি টাকা মূল্যের কিতাবাদি পুঞ্জীভূত করেছেন। এ ক্ষেত্রে বুনিয়াদী অর্থায়ন করেছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। সঙ্গতকারণেই তিনি উপমাহীন ছদকায়ে জারীয়ার মালিকা।
সাইয়্যিদুল আউলিয়া মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হক্কানী-রব্বানী আলিম-উলামা তৈরির নিমিত্তে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। যা মুহাক্কিক ওলীআল্লাহ হিসেবে গড়ে তোলার বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। আর এ প্রতিষ্ঠানের ভূমি ও অবকাঠামো সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার কর্তৃক ওয়াকফ করা। যা উনাকে ইলমের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অধিষ্ঠিত করেছে।
তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ও দৈনিক আল ইহসান শরীফ। বিশ্বের সমস্ত দেশ হতে ও পত্রিকাদ্বয় পঠিত। এ পত্রিকাদ্বয়ের লিখনী মুসলিম মিল্লাতকে জাগিয়ে তুলছে। ফলশ্রুতিতে মুসলিম উম্মাহ দৃঢ়চিত্ত হচ্ছে সিরাতুল মুস্তাকিমে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি হলেন এ পত্রিকাদ্বয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা।
এতদ্বসত্ত্বেও হামিলাতুল মুস্তফা, সাক্বিয়াতুল মুজতবা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি কায়িনাতবাসীকে হাদিয়া করেছেন হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে। যিনি ক্বদরিয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, মুজাদ্দিদ্দীয়া প্রভৃতি তরীক্বার ধারক-বাহক ও সংস্কারক। তিনি ইয়াতীমের অভিভাবক। তিনি গরীবে নেওয়াজ। তিনি বিপদগ্রস্তের আশ্রয়স্থল। তিনি নিঃসম্বলকে সাবলম্বীকারী। কায়িনাতের যাবতীয় আকাঙ্খা পূরণকারী। উনার উপমা কায়িনাতে দ্বিতীয় আর নেই।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মানুষ যখন ইন্তিকাল করেন, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি বিষয় জারি থাকে। জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম। যা ছদকায়ে জারিয়াস্বরূপ। পবিত্র ও সম্মানিত ইলম উনার সিলসিলা। এবং নেক আওলাদ। যিনি দোয়া করে থাকেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত তিনটি বিষয়ই সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে রেখে গেছেন।
বলাবাহুল্য যে, সাইয়্যিদাতুনা দাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম একনাগাড়ে মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, গবেষণা কেন্দ্র, খানকা শরীফসহ বিভিন্ন জনকল্যানমূলক প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রতিষ্ঠাতা ও তত্ত্বাবধায়ক। অপরদিকে উনার মহিমান্বিত আওলাদ ও লখতে জিগার ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত। তিনি ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফের একক নক্ষত্র। উনার সিলসিলা মুবারক ক্বিয়ামত অবধি চলমান। তাছাড়া তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ সর্বাপেক্ষা মুত্তাক্বী। তিনি মুস্তাজাবুদ দাওয়াত। এ কারণেই সাইয়্যিদাতুনা দাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব।
তাই আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত দাদী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি বেনজীর ছদক্বায়ে জারিয়াহর অতুলনীয়া মালিকা। কারণ, তিনি মুসলিম মিল্লাতকে এমন বিষয় হাদিয়া করেছেন, যা পূর্ববর্তী পরবর্তী কারোর পক্ষেই সম্ভব ও সহজ হয়নি ও হবেনা। যা উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে