সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

বেপর্দা-বেহায়াপনার পরিণাম


এসএসসিতে বাংলা সহপাঠ হিসেবে পড়তে হয়েছিল পরকীয়া নিয়ে “হাজার বছর ধরে” উপন্যাসটি। তারপর এইচএসসিতে পড়তে হল “পদ্মা নদীর মাঝি” উপন্যাস। আমার এক বন্ধু বলেছিল, এসএসসিতে বয়সে ছোট ছিলা বলে শুধু পরকীয়া কিভাবে করতে হয় তার একটা টাচ দিয়েছিল। আর এখন বড় হয়েছো এ জন্য পরকীয়া কিভাবে সফল করতে হয় তা শিখিয়ে দিল!
স্কুল কলেজে পরকীয়া শেখা সেই ছাত্র-ছাত্রীরা এখন সংসার জীবনে প্রবেশ করেছে। পাঠ্যপুস্তকে শেখা বিদ্যা বাস্তবে প্রয়োগ করার অনেক সুযোগও আছে তাদের সামনে। ফেসবুক, কলিগ, পুরানো বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশী সবখানেই প্রচুর পরকীয়ার পার্টনার পাওয়া যায়। একবেলা আহালের সাথে মনোমালিন্য হয়েছে, ব্যাস! তার সাথে সমঝোতার কোন চেষ্টা না করে টাইম পাস করার জন্য আরেকজনকে খুঁজে বের করে ফেলল! নাউযুবিল্লাহ!
এই মানুষগুলোকে যদি ছাত্রজীবনে পরকীয়া না শিখিয়ে পরকীয়ার শাস্তি শিখানো হত, তাহলে কি তারা এতোটা বেপরোয়া হতে পারত? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভাল, যে তার জন্য হালাল নয়।” (তাবারানী শরীফ)
অবিবাহিত ব্যক্তির যিনার শাস্তি হল প্রকাশ্যে একশত দোররা (চাবুক মারা); কিন্তু বিবাহিত ব্যক্তির যিনা এত কঠিন যে তার শাস্তি মৃত্যুদ-। সেই মৃত্যুদণ্ড ও আবার দিতে হবে খুব কঠিন উপায়ে; মাটিতে পুঁতে রেখে তার উপর পাথর ছুঁড়তে হবে যতক্ষন না সে মারা যায়। নাউযুবিল্লাহ! হাদীছ শরীফে এসেছে, বনি আসলাম গোত্রের এক লোক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে এসে জানালেন যে তিনি যিনা করেছেন এবং নিজের বিরূদ্ধে চার বার সাক্ষ্য দিলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে “রজম” বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুর নির্দেশ দিলেন, কারণ তিনি বিবাহিত ছিলেন। (বুখারী শরীফ)
দুনিয়ার শাস্তিই যদি এত ভয়ংকর হয় তাহলে কাল কিয়ামতে তার শাস্তি কেমন হবে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি মুবারক স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিৎকার করছিল। আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিল, আমি জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা? তিনি বললেন, তারা হল ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ।” নাউযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
এই ব্যভিচার বা যিনার অর্থ অনেক ব্যাপক। হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পনা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
নারী-পুরুষ উভয়কেই মহান রব তায়ালা উনার নিকট ফিরে যেতে হবে, কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে হবে, এবং তার বদলা গ্রহণ করতে হবে। কাজেই সময় থাকতে যিনা থেকে তওবা করতে হবে, বিরত থাকতে হবে। মনে রাখা উচিত, স্বামী বা স্ত্রীকে ফাঁকি দেয়া যায়, কিন্তু মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তো সব জানেন, তিনি সব দেখেন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে