সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

বেমেছাল বেনযীর অভূতপূর্ব তাজদীদ মুবারক


সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে ব্যবহৃত কতিপয় শব্দ মুবারক সম্পর্কে যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আহলে বাইতে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল বেনযীর অভূতপূর্ব তাজদীদ মুবারক
নূরুল গইব মুবারক
গইব (غيب)আরবী শব্দ। শাব্দিক অর্থ অদৃশ্য হওয়া, দৃষ্টির অন্তরালে যাওয়া। যে নূর মুবারক সাধারণত মাখলুকাতের দৃষ্টির বাহিরে অবস্থান মুবারক করেন বা যে নূর মুবারক স্বাভাবিকভাবে মানুষ দেখতে পায়না, উনাকে নূরুল গ¦ইব মুবারক হিসেবে অভিহিত করা হয়। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যা মল বা বড় ইস্তিঞ্জা নামে অভিহিত হয়, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে তা ‘নূরুল গ¦ইব মুবারক’ নামে সম্বোধন করতে হবে। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَن عَائِشَة عليها السلام قَالَت دخل رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لقَضَاء حَاجته فَدخلت فَلم أر شَيْئا وَوجدت ريح الْمسك فَقلت يَا رَسُول الله إِنِّي لم أر شَيْئا قَالَ إِن الأَرْض أمرت ان تكفته منا معاشر الانبياء
অর্থ: হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাজত মুবারক সম্পন্ন করার জন্য (বাইতুল খ¦লা শরীফে) তাশরীফ মুবারক রাখলেন। হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, (তিনি সেখান হতে বাহিরে তাশরীফ মুবারক রাখার পর) আমি সেখানে প্রবেশ করলাম। আমি সেখানে কিছুই দেখতে পেলামনা। বরং সেখানে আমি অত্যধিক সুঘ্রাণ মুবারক পেলাম। তখন আমি আরজি মুবারক করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (বাইতুল খ¦লা শরীফ হতে বাহিরে তাশরীফ মুবারক রাখার পর আমি সেখানে প্রবেশ করে) কোন কিছুই দেখতে পেলামনা। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের জিসিম মুবারক হতে যা কিছু বাহিরে মুবারক তাশরিফ রাখেন উনাদের বিষয়গুলো গায়েব বা গিলে ফেলতে মাটিকে আদেশ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (তাবারনী শরীফ)
অর্থাৎ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাইতুল খ¦লা শরীফে যে নূর মুবারক প্রকাশ করতেন, সে নূর মুবারক মাখলুকাতের দৃষ্টির বাহিরে অবস্থান মুবারক করতেন, মাখলুকাত হতে গ¦ইব থাকতেন। অতএব, সাধারণত মানুষ যাকে মল হিসেবে সম্বোধন করে থাকে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে তা ‘নূরুল গইব’ মুবারক নামে সম্বোধন করতে হবে। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারক উনার সমস্ত কিছুই পবিত্র হতে পবিত্রতম। উনার মুবারক শানে কোন ধরণের নাপাকীর কল্পনা করাও ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ। ‘ইস্তিঞ্জা’ শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে মল-মূত্র ত্যাগ করা। আরেকটি অর্থ হচ্ছে নাজাত তলব করা। এ দুটি অর্থই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ব্যবহার করা উনার শান মুবারক উনার খিলাফ। কেননা সাধারণভাবে মল-মূত্র হচ্ছে নাপাক। অথচ উনার সবকিছুই পাক ও পবিত্র। আবার তিনি কেন নাজাত তলব করবেন বরং সমস্ত কিছুই উনার উসীলায় নাজাত তলব করবে এবং নাজাত পাবে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, যেসকল শব্দ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক উনার খিলাফ অর্থ বহন করে, তা ব্যবহার না করে শান মুবারকসম্মত শব্দ ব্যবহার করতে হবে। আর এ জন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انظُرْنَا وَاسْمَعُوا ۗ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ
অর্থ- হে ঈমানদারগণ! (ভাল-মন্দ উভয়ই অর্থ প্রদানকারী শব্দ) ‘রয়িনা’ শব্দ তোমরা বলবেনা। বরং তোমরা বলো ‘উনযুরনা’। কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৪)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুউচ্চ শান মুবারক উনার খিলাফ কোন শব্দই ব্যবহার করা যাবেনা। উনার শান মুবারকের প্রতি খেয়াল রেখে সর্বাধিক উত্তম শব্দ ব্যবহার করতে হবে। কেননা, এ বিষয়টি অত্যধিক স্পর্শকাতর। আক্বীদার সামান্যতম চু-চেরা জাহান্নাম ওয়াজিব করে।
মূলকথা হলো, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারক হতে যা কিছুই বাহিরে মুবারক তাশরিফ রাখেন উনার প্রতিটি বিষয়ই কায়িনাতকে পবিত্রকারী, জান্নাত ওয়াজিবকারী, চির সুস্থতা প্রদানকারী, চিরস্থায়ী সুস্বাস্থ্য ও সুঘ্রাণ মুবারক প্রদানকারী। সুবহানাল্লাহ।
উপরোক্ত আলোচনায় বর্ণিত তাজদীদী শব্দ মুবারকসমূহ নিম্নে এক নজরে দেখানো হলো-

মুবারক শানে যা বলতে হবে
যা বলা যাবে না
নূরুল ফাতাহ মুবারক
চুল মুবারক
নূরুর রহমত মুবারক
চেহারা মুবারক
নূরুল মুহব্বত
অশ্রু মুবারক
নূরুল বারাকাত মুবারক
থুথু মুবারক
নূরুন নিয়ামত মুবারক
দাড়ি মুবারক
নূরুত ত্বীব মুবারক
ঘাম মুবারক
নূরুন নাজাত মুবারক
রক্ত মুবারক
নূরুশ শিফা মুবারক
ছোট ইস্তিঞ্জা মুবারক
নূরুল গইব মুবারক
বড় ইস্তিঞ্জা মুবারক
অতএব, এ বিষয়ে হুসনে যন বা সুধারণা পোষণ করা ঈমানদার উনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মহান আল্লাহ পাক তিনি যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আহলে বাইতে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার এ বেমেছাল বেনযীর অভূতপূর্ব তাজদীদ মুবারক সম্পর্কে জেনে তা আমলে বাস্তবায়ন করার তাওফীক্ব সকলকে নসীব করুন। আমিন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে