বেমেছাল শান-মান ও মর্যাদা মুবারকে সাইয়্যিদাতাল উমাম আলাইহিমাস সালাম উনারা অভিষিক্ত


মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা উনার রহমতে খাছ দ্বারা পরিবেষ্টন করে নেন।’ অর্থাৎ মুরাদ বা বা মাহবুব তথা একান্ত আপন করে নেন। উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার হাক্বীক্বী মিছদাক হচ্ছেন নূরে মদীনা, গুলো মুবীনা, হাবীবাতুল্লাহ, রাইহানাতু মুর্শিদিনা, আহলু বাইতে রসূলিল্লাহ, ত্বাহিরা, তইয়িবা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উনাদের ফাযায়িল, ফযীলত, বুযুর্গী, সম্মান মুবারক বর্ণনা করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইজ্জত, সম্মান, বুযুর্গী মুবারক এত বেশি রয়েছে যেটা সাধারণভাবে কোন মানুষের পক্ষে, কোনো জিন-ইনসানের পক্ষে, কায়িনাতের পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব নয়; উনাদের হাক্বীক্বী ছানা-ছিফত মুবারক বিন্দু থেকে বিন্দুতম পর্যন্ত করা সম্ভব নয়। তবে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আর যিনি হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যাঁকে বা যাঁদেরকে তাওফীক দিবেন উনাদের পক্ষেই সেটা সম্ভব। হাক্বীক্বত অন্যথ্যায় এটা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।
বলাবাহুল্য, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, রাইহানাতা মুর্শিদিনা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন আহলু বাইতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শুরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-২৩)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী শরীফ” ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে- আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না, তবে তোমরা আমার নিকট আত্মীয়, আহলে বাইত ও বংশধর উনাদের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোনো নবী নেই।
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি। তিনি (বিদায়) হজ্জে আরাফাত উনার দিন উনার কাসওয়া নামক উষ্ট্রির উপর সওয়ার অবস্থায় খুতবা দান করেছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুতবায় বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তা শক্তভাবে ধরে রাখো; তবে কখনও গুমরাহ হবে না। তাহলো মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কিতাব ও আমার ইতরাত বা হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- একজন শায়েখ, পীর বা মুর্শিদ উনার ক্বওমের মাঝে ওই রকম তা’যীম, তাকরীম, সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন, যেমনভাবে একজন নবী উনার উম্মতের মাঝে তা’যীম, তাকরীম ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন। সুবহানাল্লাহ!
সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন একজন হাক্বীক্বী নায়িবে নবী, হাক্বীক্বী পীর, হাক্বীক্বী মুর্শিদ, হাক্বীক্বী শায়খ। উনার সন্তুষ্টি রিযামন্দি মুবারক ছাড়া বর্তমান যামানায় কেউই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি রিযামন্দি হাছিল করতে পারবে না। উনি হচ্ছেন ক্বায়িম-মক্বামে হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম মক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদু শাবাবি আহলে জান্নাহ হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ক্বায়িম-মক্বাম হচ্ছেন হযরত শাহনাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, হযরত হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা দুনিয়াতে আমার দুটি ফুলস্বরূপ।
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হাক্বীক্বী মিছদাক হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন- মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দুনিয়াতে দুটি ফুলস্বরূপ। সুবহানাল্লাহ!
হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে বলেছেন, যারা উনাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে আমি তাদের শত্রু। পক্ষান্তরে যে উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবো। (তিরমিযি শরীফ)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হাক্বীক্বী মিছদাক হচ্ছেন কুতুবুল আলম হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম, হযরর শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মূলত উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার, উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম করার মাধ্যমে মুজাদ্দিদে আ’যম, হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার রিযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা সম্ভব।
তাই কুল-কায়িনাতের জিন-ইনসানসহ সব মাখলুক্বাতের উচিত- নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, হাবীবাতুল্লাহ, রাইহানাতা মুর্শিদিনা, আহলু বাইতে রসূলিল্লাহ, তা¡হিরা, তইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করার মাধ্যমে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সন্তুষ্টি, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা। আর উনার রেযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করতে পারলেই মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে