ব্যক্তির জন্যই রাষ্ট্র; কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য ব্যক্তি নয়। আর দ্বীনদার বা ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির জন্য দ্বীন বা ধর্মটাই সবচেয়ে বড়।


পবিত্র ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শান্তি। পবিত্র ‘ইসলাম’ই পেরেছে এবং পারে যমীনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। পবিত্র ইসলাম উনার বাইরে কোথাও শান্তি পাওয়া যায়নি এবং যাবেও না। কাজেই শরয়ী পর্দা পালনই শান্তি স্থাপন করতে পারবে। শরয়ী পর্দার অভাবেই আজ সবদিকেই শুধু অশান্তি আর অস্থিরতা। বিশেষ করে মহিলাঘটিত ফিতনায় জর্জরিত সমাজ। মহিলারা আজ সর্বত্র লাঞ্ছিত, অপমানিত ও অবহেলিত হচ্ছে এবং মান, সম্মান, ইজ্জত হারাচ্ছে। এর সবগুলোর পিছনে কারণ একটাই; তা হলো- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়া; অর্থাৎ অহরহ ছবি তোলা, শরয়ী পর্দার বিধান মেনে না চলা।
আজকে কয়েকটি প্রশ্ন খুব জোরদার হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, রাষ্ট্রযন্ত্র তথা সরকার এদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালন করতে দিবে? না কি দিবে না? পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ পালন করতে দিবে? নাকি দিবে না? পবিত্র হাদীছ শরীফ পালন করতে দিবে? নাকি দিবে না? জান্নাতে যেতে দিবে? নাকি পর্দার আদেশ লঙ্ঘন করে বেপর্দা হয়ে আর ছবি তোলার নিষেধ অমান্য করে জাহান্নামী হতে বাধ্য করবে?
কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে মহিলারা! তোমরা পর্দার সাথে নিজ ঘরে অবস্থান করো। অর্থাৎ বেপর্দা হইও না।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহিলারা পর্দায় থাকবে। কারণ তারা যখন বের হয়, তখন শয়তান উঁকি-ঝুকি দিতে থাকে কিভাবে তাদের দ্বারা পাপ কাজ সংঘটিত করা যায়।” নাউযুবিল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রাীণর ছবি সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক ছবি তুলনেওয়ালা ও ছবি তোলানেওয়ালা জাহান্নামী।”
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা তোলায়, আঁকে বা আঁকায়।” নাউযুবিল্লাহ!
আর সংবিধানের ৪১(১) ধারায় বর্ণিত রয়েছে, “প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে।”
অতএব, পবিত্র দ্বীন ইসলাম অনুযায়ী অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক ‘মহিলাদের পর্দা পালন করার’ এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিষেধ মুবারক ‘হারাম ছবি তোলা থেকে বিরত রাখার’ দায়িত্ব ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশের সরকারকে তথা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। নচেৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

Views All Time
2
Views Today
8
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে