‘ব্রিটিশবিরোধী’ কথিত বিপ্লবীরা কমিউনিস্ট হয়ে ব্রিটিশদের পক্ষেই সাফাই গেয়েছিল, যারা মূলত হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দু


১৯০৬ সালে যখন বঙ্গভঙ্গ হয়, তখন রবীন্দ্র ঠগ ও তার সমগোত্রীয় উগ্র হিন্দুরা মুসলমানদের দাবিয়ে রাখার লক্ষ্যে এই বঙ্গভঙ্গ রদ করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যেহেতু ব্রিটিশরা এই বঙ্গভঙ্গ প্রণয়ন করেছিল, সেহেতু বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনকে গতানুগতিক বইগুলোতে ‘ব্রিটিশ বিরোধী’ আখ্যা দেয়া হয়ে থাকে।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, হিন্দুদের বঙ্গভঙ্গ রদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম বিরোধিতা। এ লক্ষ্যে উগ্র হিন্দুদের দুটো গুপ্ত সংগঠন ছিল ‘অনুশীলন’ আর ‘যুগান্তর’ নামে। প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন এরা এই সংগঠনগুলোর সাথে জড়িত ছিল।
ঐসব উগ্র হিন্দুরা মুসলমানদের বিরোধিতা করতে শুরু করে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন। তারা সারাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর পাশাপাশি বোমা ফাটাতে এবং ব্যাঙ্ক লুট করতে শুরু করে। তখন ব্রিটিশরা বাধ্য হয় এসব হিন্দুদেরকে জেলে ঢোকাতে। জেলের মধ্যে সূর্যসেনের সহযোগী চট্টগ্রামের উগ্র হিন্দুদের প্রায় সবাই কমিউনিস্ট হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে সূর্যসেনের এক সহযোগী বিনোদবিহারী চৌধুরী ‘বিডিনিউজ.২৪’ এ দেয়া তার একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছে-
“জার্মানি যখন রাশিয়া আক্রমণ করলো, তখন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ নিলো। অনন্ত সিং, গণেশ ঘোষসহ অনেক বিপ্লবী জেল থেকেই ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে বিবৃতি দিল। চট্টগ্রাম থেকে আমরা প্রায় দেড় হাজার লোক জেলে ছিলাম। ১৯৪৫ সালের শেষে আমরা যখন জেল থেকে বের হচ্ছি, তখন আমরা দশ-পনের জন ছাড়া বাকি সবাই কমিউনিস্ট হয়ে গেছে। যতীন্দ্রমোহন রক্ষিত, আমি, মহেন্দ্র চৌধুরী, পুলিন দে, দীনেশ দাশগুপ্ত, সুখেন্দু’দা হাতেগোনা এই কয়েকজন ছাড়া সবাই কমিউনিস্ট হয়ে গেল।” (ওয়েবসূত্র: http://arts.bdnews24.com/?p=2611)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জার্মানি যখন রাশিয়া আক্রমণ করে, তখন রাশিয়া মিত্রবাহিনীতে ব্রিটেন ও আমেরিকার সাথে যোগ দেয়। ফলে ঐসব ‘ব্রিটিশ বিরোধী’ হিন্দু বিপ্লবীরা রাতারাতি ভোল পাল্টে তাদের প্রভুরাষ্ট্র রাশিয়ার পক্ষাবলম্বন করতে ব্রিটিশদের পক্ষে বক্তব্য দেয়া শুরু করে। সূর্যসেনের সহযোগী গণেশ ঘোষ, অনন্ত সিং এরা জেলে থেকেই ব্রিটিশদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিল, যা তাদেরই সহযোগী বিনোদবিহারী চৌধুরী তার বক্তব্যে স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে যে কমিউনিস্ট পার্টির শাসন চলছিল, সেই কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেছিল এই অনন্ত সিং আর গণেশ ঘোষরা। তবে কমিউনিজমের লেবাস ধারণের পরও ঐসব উগ্র হিন্দুরা পূর্বের মতোই তীব্র মুসলিম বিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক থেকে যায়। এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিক সুস্নাত দাশ মন্তব্য করেছে-
“মুসলিম অতিথি অভ্যাগতদের জন্য পৃথক আসন ও বাসনের ব্যবস্থা লজ্জার হলেও সত্যি অনেক হিন্দু বামপন্থী গৃহে এখনো চালু। অবশ্য ক্রমশ এজাতীয় মনোবৃত্তি কমছে। তবে এই লেখকের অভিজ্ঞতা হলো- এখনো পশ্চিমবঙ্গে মফস্বল শহরগুলিতে এমনকি নগর কলকাতার অনেক অঞ্চলে, পুরানো পাড়ায় মুসলমান ভাড়াটের জন্য বহু হিন্দু বাড়ির দরজা থাকে বন্ধ। গৃহকর্তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন তো নয়ই (!) Ñ হয়তো অফিসে-কারখানায় বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নের সাথে যুক্ত।” (সূত্র: ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়, গোলাম আহমদ মোর্তজা, পৃষ্ঠা ৫৫)
কথায় আছে, “কয়লা যায় না ধুলে, স্বভাব যায় না মলে” (মরলে)। যেহেতু মুসলমানদের বিরোধিতা করে এবং ব্রিটিশদের দালালি করেই হিন্দুদের উত্থান, সেহেতু এটি স্বাভাবিক যে, হিন্দুরা কখনোই প্রকৃত অর্থে ব্রিটিশ বিরোধী হতে পারবে না। বরং হিন্দুরা কমিউনিস্ট হোক আর বিজেপিপন্থী হোক, তারা সবসময়ই মুসলিমবিদ্বেষী ছিল, আছে এবং থাকবে।
সবচেয়ে সাম্প্রদায়িক আর উগ্র হিন্দুদের দ্বারাই বাংলায় কমিউনিস্ট রাজনীতির সূচনার পরও এই কমিউনিজমকে যেভাবে মিডিয়াতে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’র লেবাস পরানো হচ্ছে, তা দেখলে হতভম্ব হয়ে যেতে হয়। এর মূল কারণ, এদেশের মূলধারার মিডিয়ার সাথে যারা জড়িত তারা প্রায় সকলেই কমিউনিস্ট মতাদর্শের অনুসারী। যার হাতে মিডিয়া সে দিনকে রাতে, রাতকে দিনে পরিণত করতে পারে।
এজন্যই দৈনিক আল ইহসান শরীফ ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনাদের ব্যাপক প্রচারপ্রসার করতে হবে। যার মিডিয়া নেই সে তো বোবা, আর বোবার কোনো গুরুত্ব এই পৃথিবীতে নেই।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে