বয়লিং ফ্রগ সিনড্রোম ও মুসলিমদের প্রতিবাদহীনতা


একটা ব্যাঙকে যদি আপনি একটি পানি ভর্তি পাত্রে রাখেন এবং পাত্রটিকে উত্তপ্ত করতে থাকেন তবে ব্যাঙটি পানির তাপমাত্রার সাথে সাথে নিজের শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে থাকে। ব্যাঙটি লাফ দিয়ে ওই পাত্র থেকে বেরোনোর পরিবর্তে পানির উত্তাপ সহ্য করতে থাকে।

 

কিন্তু একসময় পানির প্রচণ্ড তাপমাত্রা ব্যাঙের শরীর আর মানিয়ে নিতে পারে না। যখন সে আর পানির প্রচণ্ড তাপমাত্রা তার শরীরের তাপমাত্রার সমতায় আসতে পারে না, তখন ব্যাঙটি ফুটন্ত পানির পাত্র থেকে লাফ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

কিন্তু হায়! অনেক দেরী হয়ে গেছে, সে তখন লাফ দিতে পারে না তখন, কারণ সে তার সমস্ত শক্তি তাপমাত্রার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যয় করে ফেলেছে। অত:পর সে পানিতে সিদ্ধ হতে থাকে।

 

ওই ব্যাঙের মৃত্যুর কারণটা হল বিপদজনক পরিস্থিতির শুরুতে সেই পরিস্থিতি অস্বীকার করে, লাফ না দেওয়া। সব কিছু সহ্য করে নেবার বা মানিয়ে নেওয়ার মত বড় ভুল তার মৃত্যুর কারণ। সঠিক সিদ্ধান্ত সঠিক সময়ে না নেয়াই তার মৃত্যুর কারণ।

 

মুসলিমরাও ঠিক একই রোগে ভুগছে। মুসলিমরাও এই বয়লিং ফ্রগ সিনড্রোমে আক্রান্ত। হিন্দুদের চরম মুসলিম বিদ্বেষ দেখেও মুসলিমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। শত হেনস্থা, অপমান, লাঞ্ছনা সহ্য করেও মুসলিমরা মৌখিক প্রতিবাদটুকু করতেও ভয় পায়, পাছে হিন্দু দাদারা রাগ করে, পাছে হিন্দু দাদারা কিছু মনে করে, পাছে হিন্দু দাদারা সাম্প্রদায়িক বলে, পাছে হিন্দু দাদারা পাকিস্তানী দালাল বলে।

 

মুসলিমরা ঠিক ব্যাঙের মতো মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, সবকিছু সহ্য করছে, ভাবছে এভাবেই টিকে যাবো। কিন্তু এভাবে টিকে থাকা যাবে না, সেটা যখন মুসলিমরা বুঝবে তখন সময় শেষ। প্রতিবাদ করার মত কোন শক্তি আর মুসলিমদের থাকবে না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে