ভারতবর্ষে বিধবাবিবাহের প্রচলন করেছেন মুসলমানগণ; ব্রিটিশ দালাল ঈশ্বরচন্দ্র নয়


আমরা জানি যে, হিন্দুদের মধ্যে বিধবাদের বিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ। ব্রিটিশআমলের শুরুর দিকে এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দু সমাজের অনুকরণে ভারতবর্ষের মুসলিম সমাজেও বিধবাদের বিয়ে না দেয়ার অপরীতি প্রচলিত হয়েছিল। তখন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজে বিধবাবিবাহ করে এই হিন্দুয়ানী রীতিকে মুসলিম সমাজ থেকে উৎখাত করেছিলেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমাদের দেশের গতানুগতিক পাঠ্যপুস্তকে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কোনো উল্লেখ নেই। আমাদের দেশের পাঠ্যপুস্তকে ‘বিধবাবিবাহ’ প্রচলনের কৃতিত্ব দেয়া হয়ে থাকে কথিত ‘বিদ্যাসাগর’ ঈশ্বরচন্দ্রকে।
অথচ বাস্তবতা হলো, বর্তমানেও হিন্দুসমাজে বিধবাবিবাহের কোনো প্রচলন নেই। সেক্ষেত্রে কোন যুক্তিতে এই ঈশ্বরচন্দ্রকে বিধবাবিবাহের প্রচলনকারী হিসেবে দাবি করা যেতে পারে? তাছাড়া এই ঈশ্বরচন্দ্র ছিল ব্রিটিশদের দালালগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বিপরীতে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি তিনি ছিলেন উনার যামানার মুজাদ্দিদ। যামানার মুজাদ্দিদ হিসেবে তিনি ভারতবর্ষের মুসলিম সমাজ থেকে বিধবাদের বিয়ে না দেয়ার অপসংস্কৃতি দূর করতে তৎপর হয়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তরফ থেকেই সমগ্র ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী জিহাদ সংঘটিত হয়েছিল। যে কারণে গোটা ভারতবর্ষেই সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাজদীদী প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল এবং গোটা ভারতবর্ষের মুসলিম সমাজ থেকেই বিধবাদের বিয়ে না দেয়ার কু-রীতি দূরীভূত হয়েছিল।
অর্থাৎ ঐতিহাসিক রচনাকারী ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নকারীরা কতোটাই না অথর্ব! তারা তাদের নিজেদের পূর্বপুরুষদের সফলতার ইতিহাসকে ভুলে যায় এবং শুধু তাই নয়, সেই সফলতার কৃতিত্ব মুসলমানদের দেশের পাঠ্যপুস্তকে প্রদান করা হয় ব্রিটিশ দালালদের প্রতি। নাউযুবিল্লাহ! সুতরাং এদেশের পাঠ্যপুস্তক থেকে অবিলম্বে এই ব্রিটিশদের দালাল ঈশ্বরচন্দ্রের নাম তুলে দেয়া হোক এবং মুজাদ্দিদে যামান সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আলোচনা মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে