ভারতের মাদ্রাসাগুলোতে মার্কিন শিক্ষক !


সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবরটি পরিবেশিত হয়েছে। মার্কিন শিক্ষক বলতে আসলে মার্কিন খ্রিস্টান শিক্ষক। আজব ব্যাপার, মাদ্রাসায় খ্রিস্টান শিক্ষক! এটা অবশ্য নতুন নয়। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন যাবৎ খ্রিস্টান প্রিন্সিপাল ছিলো। আর বর্তমানেও বাংলাদেশের মাদরাসাগুলোতে হিন্দু শিক্ষকের অভাব নেই।

খবরটির ভাষ্যতে ফিরে আসি। এতে বলা হয়েছে,ভারতের একজন সাংবাদিক সেদেশের মুসলমানদের মাদ্রাসা বা ধর্মীয় স্কুলগুলোতে মার্কিনী শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এ থেকে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতে নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছে, এসব শিক্ষক নাকি ভারতীয় মুসলমানদের চিন্তা চেতনায় যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ভুল ধারণার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করবে! এদিকে আবার মার্কিন সরকার্ও দাবি করেছে শিক্ষক নিয়োগের এ প্রস্তাব ভারতের ধর্মীয়(!) ব্যক্তিত্বরা স্বাগত্ও জানিয়েছে।

অবশ্য ভারতের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অল ইন্ডিয়া মুসলিম মিল্লি কাউন্সিলের ১৮ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জন কেন্দ্রিয় স্কুল কমিটি গঠনের সরকারী প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। কারণ তারা মনে করছে সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের মার্কিন প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্র তৈরি হবে। তাছাড়া কেন্দ্রিয় স্কুল কমিটির খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ি এই কমিটিতে যে ১৫ জন সদস্য থাকবে তাদেরকে কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছেমত নিয়োগ দেবে। আধুনিকীকরণের নামে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে কোন পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকবে এই কমিটির হাতে। তাই ভারতের আলেম ওলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বগণ মনে করেন আধুনিকিকরণের নামে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার এ উদ্যোগ মাদ্রাসা বা ধর্মীয় স্কুলগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অর্থাৎ ভারতের আলেম ওলামাগণ কেন্দ্রীয় স্কুল কমিটি গঠনে সরকারের উদ্দেশ্যের বিষয়ে সন্দিহান এবং এর পরিণতির বিষয়ে তারা খুবই উদ্বিগ্ন। তারা আরো বলেছেন, ভারতের ধর্মীয় স্কুলগুলোতে মার্কিন শিক্ষক নিয়োগের যে প্রস্তাব ওয়াশিংটন দিয়েছে তা বাস্তবায়নের পথ সুগম করাই মূলত: কেন্দ্রীয় স্কুল কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য।

বিষয়টিকে আপনারা কি মনে করেন? আপনাদের  মন্তব্য কাম্য।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+