ভারতের যবন, ম্লেচ্ছ, অচ্ছুত হিন্দুরা এখনো কন্যা শিশু হত্যা করছে ! চলছে অশ্লীল ‘ধ্রুপদী প্রথা’!


মহাভারতে ধ্রুপদীর ছিল পাঁচ স্বামী। মা কুন্তির আদেশে পাঁচ ভাই, যাদের বলা হয় ‘পঞ্চ পান্ডব’, নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিলো বড় ভাইয়ের স্ত্রী ধ্রুপদীকে। যবন হিন্দুদের কথিত ধর্মগ্রন্থ পুরাণে এ প্রথার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, স্ত্রী ভাগাভাগির এই অশ্লীল প্রথা শুধু পুরাণেই নয়, এখনো প্রচলিত আছে ভারতে যবন, ম্লেচ্ছ, অচ্ছুত হিন্দুদের মাঝে। ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রামগুলোতে গেলে দেখা যায়, অনেক পরিবারেই রয়েছে একজন করে ধ্রুপদী। অর্থাৎ, একই পরিবারের একাধিক ছেলের জন্য স্ত্রী রয়েছে একজন। নাউযুবিল্লাহ!

উত্তর প্রদেশের ওই গ্রামগুলোতে কন্যা শিশু জন্মালে তাকে অভিশাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই মাতৃগর্ভে থাকাকালীন বা জন্মের পরপরই তাদের মেরে ফেলা হয়। তবে এটা ওই সব অঞ্চলের জন্য কোনো অপরাধ নয়, এটা অনেক দিন থেকে চলে আসা একটি হিন্দুয়ানি প্রথা। আর এই প্রথা মানতে গিয়ে ভারতের ওইসব অঞ্চলে এখন আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে নারীর সংখ্যা। তাই, বিবাহযোগ্য ছেলেদের জন্য বউ খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। কিন্তু ওই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষরা এই সমস্যার সমাধানও খুঁজে বের করেছে। এই সমাধানের নামই হলো ‘ধ্রুপদী প্রথা’। অর্থাৎ কোনোভাবে পরিবারের একটি ছেলেকে বিয়ে দিতে পারলেই হলো। এরপর ওই পরিবারের বাকি ছেলেদেরও স্ত্রী হয়ে যায় নতুন বউ। একাধিক স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে তাকে বাধ্য করা হয়।
সম্প্রতি এমনই এক এ যুগের ‘ধ্রুপদী’কে খুঁজে পেয়েছে রয়টার্সের প্রতিনিধি নিতা ভাল্লা। ওই ধ্রুপদীর নাম ‘মুন্নি’। এ ধরনের ধ্রুপদীর সঙ্গে সচরাচর কথা বলা যায় না। কারণ এরা বেশির ভাগই চরমপন্থী হিন্দু পরিবারের বউ।
রয়টার্সের প্রতিনিধি উত্তর প্রদেশের ভগপত জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে দেখা পেয়েছে ‘ধ্রুপদী’ মুন্নির। যে তিন মাস পর বাড়ির বাইরে পা রেখেছিলো, চিকিৎসকের কাছে আসবে বলে। অনেক লুকিয়ে এবং ভয়ে ভয়ে মুন্নি তার কথাগুলো জানায় নিতাকে ।
মুন্নি জানায়, যখন শৈশব শেষে মাত্র কৈশরে পা দিলো ঠিক তখনি তার বিয়ে হয়ে যায়। এরপর থেকে সংসার করতে হয় একই পরিবারের তিন ছেলের সঙ্গে এবং তাকে বাধ্য করা হয় প্রতিটি ছেলের সংসারে অন্তত একটি করে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য।
মুন্নি জানায়, “আমার স্বামী এবং তার মা-বাবা আমাকে তাদের মনের মতো করে অন্য ছেলেদের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। তারা যখন যার ঘরে আমাকে যেত বলে, আমাকে তখন সেখানেই যেতে হয়। যদি আমি কিছুর প্রতিবাদ করি তাহলে অনেক মার খেতে হয়।” এখন মুন্নির বয়স ৪০, তিন স্বামীর ঘরে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছে সে। কিন্তু এখনো ওই একই কারণে প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাকে। শুধু ভগপত জেলাই না, একই অবস্থা হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানেও।

ভগপত জেলার এক অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল জানায়, শুধু যে ভগপত জেলার কিশোরীরাই ‘ধ্রুপদী প্রথা’র শিকার তা না। ঝাড়খন্ড এবং উত্তর প্রদেশের অনেক দরিদ্র গ্রাম থেকে মাত্র ১৫০০০ (সর্বোচ্চ) রূপির বিনিময়ে একাধিক ছেলের জন্য একটি বউ কিনে আনে অনেক পরিবার।
এসব অঞ্চলের রক্ষণশীল সমাজ এই ‘ধ্রুপদী প্রথা’র অনেক ভালো দিকও বের করেছে। তাদের মতে, এর ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে না, আবার সম্পত্তি, জায়গা-জমি ভাগ বাটোওয়ারার ঝামেলাও থাকে না।
আর কন্যা শিশুর সংখ্যা কমে যাওয়াকে সাধুবাদ জানিয়ে ওই রক্ষণশীল সমাজ জানায়, এটা সমাজ এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য ভালো দিক এবং আর্শীবাদ স্বরূপ। তাদের মতে, কন্যাদায়গ্রস্থ হওয়ার চেয়ে কন্যা সন্তান জন্ম না নেয়াটাই শ্রেয় এবং এর ফলে একটি দরিদ্র পরিবারের বোঝা অনেক কমে যায়।

সূত্র: রয়টার্স।

মূল

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+