ভারতের সম্রাট চেরামান পেরুমল যে কারণে ইসলাম গ্রহন করেছিলেন !


ভারতের কেরালা প্রদেশের তৎকালীন ২৬ বছরের সম্রাট চেরামান পেরুমল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলােইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আকাশে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হবার মুজিযা শরীফটি স্বচক্ষে দেখেছিলেন।

মালাবারে আগত আরব বনিকদের থেকে তিনি নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খবর পান এবং মক্কা শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানেই তিনি স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে ইসলাম গ্রহন করেন।

হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ আরও কয়েকজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপস্থিতিতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম রাখেন ‘তাজউদ্দিন’।

রাজা চেরামান পেরুমল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য উপঢৌকন হিসেবে দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত আচার নিয়ে গিয়েছিলেন। ভারতীয় এক বাদশাহ কর্তৃক আদার সংমিশ্রণে তৈরি সেই আচার সংক্রান্ত একটি হাদীস শরীফ আছে যা হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা কর্তৃক বর্ণিত।

উল্লেখ্য যে, তিনি সেখানে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাচঁ বৎসর অবস্থান করে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশে ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।কিন্তু পথিমধ্যে দক্ষিনপূর্ব আরবের এক বন্দরে (বর্তমান ওমানের সালালা শহর) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। আজও উনার মাজার শরীফ সেখানে রয়েছে ।

চেরামানের নামক ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি জামে মসজিদও রয়েছে।দাবি করা হয় ,চেরামন মসজিদ-ই ভারতের প্রথম মসজিদ।

হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুজিযা শরীফকে কল্প-কাহিনী বলে উড়িয়ে দেয় একটি সম্প্রদায়।একমাত্র আল্লাহপাক ব্যতিত অন্য কারো মুজিযা শরীফ দেখানোর ক্ষমতা নেই , এই বিশ্বাসে অটল এরা। অথচ এদ্বারা আল্লাহপাক উনার ক্ষমতাকেই অস্বীকার করা হচ্ছে, উনার বড়ত্ব ,মহত্বকে ছোট করা হচ্ছে , সে খেয়াল কোথায়?

‘চাঁদে বুড়ি সূতা কাটা’ নিয়ে অনেকের যারপর নাই কৌতূহল আছে। জ্যোস্না রাতে সে বুড়িকে যেন আরো স্পষ্ট খালি চোখেই দেখা যায়। মূলত ঘটনাটি সম্পূর্ণ অলীক, কল্প-কাহিনী।মূল ঘটনা হচ্ছে, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আঙ্গুল মুবারক উনার ইশারায় চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার পর চাদেঁ ফটলের দাগ সৃষ্টি হয় আর ঐ ফাটলের কারণেই মূলত: জ্যোস্না রাতে চাঁদের দিকে তাকালে মনে হয় যেন চাঁদে একটা বুড়ি বসে আছে। বাচ্চাদেরকে অলীক অবাস্তব ঘটনা না শুনিয়ে ইসলামীক বাস্তব ঘটনা সমূহ শুনানো উচিত । যাতে বড় হয়ে বাচ্চারা নাস্তিক , এগনোস্টিক, সংস্কারবাদী, নন-প্র্যাক্টিসিং না হয়।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে