ভারতে প্রকাশ্যে নামায পড়তে বাধার প্রতিবাদে স্মারকলিপি


ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে মুসলিমদেরকে প্রকাশ্যে নামায পড়তে বাধা দেয়া এবং সেই ঘটনায় হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তারের দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্টজনরা। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে দেয়া এক স্মারকলিপিতে নামাজে বাধা প্রদানকারী অপরাধীদের বিচার দাবির পাশাপাশি ওই ঘটনায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদলিপিটি পাঠিয়েছেন আল মুতমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান, কাজী মুহম্মদ মুহিবুর রব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মুহম্মদ মফিজুল ইসলাম, সাবেক সরকারী কর্মকর্তা মুহম্মদ আব্দুল লতীফ আকন্দ, এডভোকেট মুহম্মদ শাহজাহান মিয়া, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন, আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালিম, হা-মীম গ্রুপের প্রাক্তন জি.এম. আবুল বাশার মুহম্মদ আজিম, যমুনা গ্রুপের কন্ট্রোলার (একাউন্টস ও ফিন্যান্স) মুহম্মদ শফিকুল ইসলাম ও প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিঃ এর পরিচালক মুহম্মদ শওকত হুসাইন।
গত বৃহস্পতিবার (১০ মে) সকাল ১০টায় স্মারকলিপিটি ভারতীয় দূতাবাসে প্রদান করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা বজলুর রশিদ।
নামাজে বাধা প্রদান প্রসঙ্গে স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে কিছু উগ্রপন্থি হিন্দু সংগঠন মুসলিমদেরকে প্রকাশ্য স্থানে পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে। “সংযুক্ত হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি” নামে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন প্রকাশ্য স্থানে মুসলমানগণদের নামাজ আদায়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়াসহ আরও কিছু মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, গত জুমুয়াবার (৪ এপ্রিল) গুরুগ্রামে কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মুসলমানগণদের পবিত্র জুমুয়ার নামাজে বাধা প্রদান করেছে। নামাজে বাধা প্রদানকারীরা পবিত্র জুমুয়ার জামাতের পাশে শ্লোগান দিচ্ছিল “জয় শ্রীরাম”, বাংলাদেশে ফেরত যাও”। এমন প্রেক্ষাপটে হরিয়ানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তার গত রবিবারে (৬ এপ্রিল) উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেছে, মুসলিমদের প্রকাশ্য স্থানে নামাজ পড়াটা বেড়ে গেছে। প্রকাশ্য স্থানে না পড়ে মসজিদ বা ঈদগাহের ঋেণরেই নামাজ পড়া উচিত।”
ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের এমন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, মুসলমানবিরোধী সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের রাজ্যগুলোতে, বিশেষত বিজেপি জোট শাসিত রাজ্যগুলোতে, ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মুসলমানগণদের মৌলিক নাগরিক অধিকারগুলো নিয়মিতই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের দ্বারা লংঘিত হচ্ছে সেসব সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শাসক দলের মদতপুষ্ট। গুরুগ্রামের ঘটনাটি হিন্দু উগ্রবাদীদের কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক প্রতিক্রিয়া নয়। বরং এগুলো ভারতে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া মুসলমানবিরোধী কর্মকা-ের অংশ। ভারতে মুসলমানরা তাদের ব্যক্তিগত খাদ্য ও উপাসনার মতো বিষয়গুলোতেও নির্বিচারে নির্যাতিত হচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে বিশিষ্ট নাগরিকগণ বলেন, হিন্দু উগ্রবাদীদের দেয়া “বাংলাদেশে ফেরত যাও”-এর মতো আক্রমণাত্মক শ্লোগানের ব্যাপারে বাংলাদেশের মুসলমানগণরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তদুপরি, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তারের দায়িত্বহীন মন্তব্যেও বাংলাদেশের মুসলমানরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। এটা স্পষ্টভাবে বোঝা উচিত যে, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মুসলমানগণের মতো ভারতের মুসলমানদেরও প্রকাশ্যে তাদের দ্বীনি ইবাদতগুলো করার অধিকার রয়েছে।
সবশেষে এসব ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে