ভারতে প্রবল বর্ষণে কেদারনাথ মন্দিরের উপর পাহাড় ধস ॥ ৫০ পূজারীর লাশ উদ্ধার; ৫০০ নিখোঁজ, আটকা ৭০ হাজার


ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় কেদারনাথ মন্দির ও তার আশপাশের উপত্যকা এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫০ জন নিহত ও প্রায় ৫০০ পূজারী নিখোঁজ রয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলার জয়োতিরলিঙ্গা এলাকায় কেদারনাথ মন্দির অবস্থিত এবং প্রতি বছর কথিত ‘চার্ত ধাম যাত্রা’র সময় লাখ লাখ হিন্দু পূজারী এ মন্দিরে যায়।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে- মন্দির এলাকায় অন্তত ৫০টি লাশ দেখা গেছে এবং আরো বহু হিন্দু পূজারী ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।
ওই মন্দির এলাকায় অন্তত পাঁচশ লোক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে, যাদের মধ্যে ৪৫ জন পুলিশ সদস্যও আছে।
উল্লেখ্য, কেদারনাথ মন্দির হচ্ছে হিন্দুদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। এটি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গাড়েয়াল হিমালয় পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত কেদারনাথ শহরে মন্দাকিনী নদীর তীরে স্থাপিত একটি শিবমন্দির। কেদারনাথ মন্দিরে যাওয়ার জন্য কোনো সড়কপথ নেই। গৌরীকু- থেকে ১৪ কিলোমিটার পথ পাহাড়ি চড়াই পথে ট্রেকিং করে মন্দিরে যেতে হয়।

আটকা পড়েছে ৭০,০০০ হাজার পূজারী:
পাহাড় ও সেতু ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কেদারনাথ, বদ্রিনাথ, গঙ্গোত্রি, গোমুখণ্ড এই চার পূজার স্থানে যাওয়ার পথে উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছে ৭০ হাজারেরও বেশি হিন্দু পূজারী। ১৫ স্থানে ভূমিধসের কারণে হার্সিল- গঙ্গোত্রী সড়কেই আটকা পড়ে আছে ৬ হাজারের বেশি পূজারী।

ভারতজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি:
উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে নজিরবিহীন বন্যা এবং প্রবল বৃষ্টিতে বহু লোক নিহত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে একটি বাড়ি ভেঙে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসের ফলে দেরাদুনের চারপাশে বিভিন্ন মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। পিথোরাগড়ে ৬০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সব নদীর পানিই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে৷ হরিদ্বারে গঙ্গা বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে৷ রামবারা জেলায় বৃষ্টি ও ধসে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে৷
রাজ্যের রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি, উত্তরকাশী এবং টিহরিতে সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাঠ। উত্তরাখণ্ডে প্রায় ১৭৫টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
খবরে দেখা যায়, উন্মত্ত নদী প্রবল তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেতু, তীরের ঘরবাড়ি। শিবের একটি বিশাল মূর্তি আধাডোবা অবস্থায় দেখা যায় ঋষিকেশ শহরে।
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। রুদ্রপ্রয়াগে ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানকার অনেক মন্দির, হোটেল, রেস্ট হাউস এবং বাণিজ্যিক ও বসতবাড়ি ভেঙে পড়েছে। অবিরাম বর্ষণ ও ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়ায় উদ্ধারের কাজে জটিলতা বাড়ছে।
এদিকে হিমাচল প্রদেশেও বর্ষণজনিত বিপর্যয়ে একই পরিবারের পাঁচজনসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একটানা বৃষ্টিতে হিমাচল প্রদেশের বেশ কিছু জায়গায় ধস নামার খবর পাওয়া গিয়েছে। ধস নেমেছে প্রত্যন্ত কিন্নর জেলা টাপোরিতে। ধসের ফলে কিন্নরে প্রায় ১,৫০০ পর্যটক আটক রয়েছে৷ উত্তর প্রদেশেও ভারি বর্ষণ ও বন্যায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে৷
হরিয়ানা রাজ্যেও বন্যা পরিস্থিতি বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে। যমুনা নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে যমুনানগর, কার্নাল, পানিপথ ও সোনপথ জেলা। হাতিকু- ব্যারাজ থেকে গত ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযিমী (সোমবার) সকালে আট লাখ কিউসেক পানি ছাড়ায় পরিস্থিতি আরো গুরুতর হয়েছে।
অতিবৃষ্টি ও হিমাচল প্রদেশ থেকে নেমে আসা পানিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পাঞ্জাবের একাধিক জেলাতেও। পাঞ্জাবের অম্বালা, মোহালি, ফতেগড় শাহী, ফরিদকোটের মতো জেলাগুলি পানিতে ডুবে গেছে।
উত্তরাখণ্ড থেকে নিচে নামা নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরেও। বারানসী, বরেলি, কানপুর, এটাহ, হাপুর, আগ্রা, ফৈজাবাদ, গোরক্ষপুর, বিজনোর, ও মির্জাপুরে কড়া বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের প্রায় সপ্তাহ দুয়েক আগেই বর্ষা এসেছে রাজধানী দিল্লিতেও। অতিবৃষ্টিতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা পানিমগ্ন। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে যমুনা নদী। অতিবৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে গত সপ্তাহ থেকে মুম্বাইতেও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে বন্ধ হয়ে গেছে মুম্বাইয়ের সাবআর্বান ও ওয়েস্টার্ন রেল সার্ভিস।
ভারতে সাধারণত জুনের শেষভাগ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। তবে এ বছর বেশ আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+