ভালোবাসা দিবসের নামে আপনার সন্তানেরা আসলে কি করছে, জানেন কী ?


প্রিয় আধুনিক বাবা-মা,

আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন তবে তো অবশ্যই পরকালেও বিশ্বাস করেন। আপনার সন্তান মদ খাচ্ছে, পাপাচার, যৌনাচার করছে কেয়ামতের দিন আল্লাহকে কি জবাব দিবেন সে প্রশ্ন রেখে গেলাম !!

একটু পেছনে ফিরে যাই। এই ভ্যালেন্টান্স ডে এর আড়ালে চাপা পড়ে এক দুঃসহ স্মৃতি।

সারা বিশ্বেই ফ্রেন্ডশিপ ডে’র আড়ালে চাপা পড়ে যায় হিরোশিমা দিবস আর আমাদের দেশে ভ্যালেন্টাইনস ডে’র আড়ালে চাপা পড়ে যায় ১৪ই ফ্রেব্র“য়ারির স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস- ১৯৮৩ সালের এই দিনে তৎকালিন সামরিক শাসক হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের অবসান ও গণবিরোধি মজিদ খান শিক্ষাকমিশন বাতিলের দাবিতে তীব্র আন্দোলন রচনা করেছিল তৎকালিন ছাত্রসমাজ। ১৪ই ফেব্র“য়ারি তারিখে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশ্যে সামরিক আইন ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে যাত্রা শুরু করে কার্জন হল ও শিক্ষাভবনের সামনে পৌছানো মাত্রই আর্মি-পুলিশের গুলিতে শহীদ হন জাফর-জয়নাল-দিপালী সাহা। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে সারা দেশেই তীব্র হয়ে উঠে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যার ফলশ্র“তিতে ’৯০ এর গণআন্দোলনের মধ্যদিয়ে সামরিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। আজ সামরিক শাসক ক্ষমতায় নেই কিন্তু কর্পোরেট সংস্কৃতির এমনই মহিমা যে, ১৪ই ফেব্র“য়ারি তারিখে যে তারুণ্য একদিন স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস রচনা করেছিল সেই তারুণ্যেরই একটা অংশ এখন চলমান শোষণ নির্যাতন প্রতিরোধের বদলে কর্পোরেট স্পন্সরড ’ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে বুঁদ হয়ে থাকে!

“পরবর্তীতে পশ্চিমাদের দালাল শফিক রেহেমান ১৯৯৩ এ যায়যায়দিন পত্রিকা থেকে প্রথম ভালবাসা দিবস পালনের আহবান জানিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে।” আর তখন থেকে ভ্যালেন্টাইন’স ডে বাংলাদেশের তরুণ দের কাছে পরিচিত হতে থাকে। ভ্যালেন্টাইন’স ডে পালনের নামে এসব নোংরামির পেছনে শফিক রেহেমান দায়ী। “

আসুন আমরা ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে স্বৈরচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি।

আমাদের দেশের তরুণরা ফাস্ট হবে, স্মার্ট হবে, বিজ্ঞান শিখবে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আমি এসবের পক্ষে। কিন্তু আধুনিক হতে গিয়ে পাপাচার করা, মদ্য পান করে নারী নিয়ে ফুর্তি করা এসব আমার কাছে নোংরামি। এ সব আধুনিকতা আপনার সন্তানকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিবে। তাই-এখনই সচেতন হতে হবে। না হলে আপনার সন্তানরা হয়ে উঠবে এক একজন ঐশী। পরিপূর্ণ ভাবে নেশাগ্রস্ত হয়ে গেলে নেশার টাকা জোগাড় করতে ঐশীর মত আপনার সন্তানও আপনাকে হত্যা করতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত আপনার।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+