ভিনদেশী উপজাতি সন্ত্রাসীরা নয়, সৃষ্টির শুরু থেকে মুসলমানগণ উনারাই বাংলাদেশসহ সারা কায়িনাতের আদিবাসী -৯


এদেশে খ্রিস্টানদের বয়স চারশত বছরের মতো। পর্তুগিজ নৌদস্যু ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ সালে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছে। পরে ইটালিয়ান, স্পেনিশ, ফরাসি, ওলন্দাজ খ্রিস্টানরাও ভাগ্যান্বেষণে এদেশে আসে। ১৬০০ সালের ২৪ আগস্ট আসে ব্রিটিশ খ্রিস্টান উইলিয়াম হকিন্স। সম্রাট জাহাঙ্গিরের দরবারে ব্যবসার অনুমতি চাইলে সম্রাট মঞ্জুর করে। সর্বশেষ ১৭৫৭ সালে পলাশি ট্রাজেডির মাধ্যমে খ্রিস্টান নৌদস্যুরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করে। পর্যায়ক্রমে দখলে নেয় সমগ্র ভারতবর্ষ। ইংরেজ-হিন্দু সখ্যতা এবং তাদের যৌথ মুসলিম বিরোধিতার কারণেই এই বিশাল পরিবর্তন সম্ভব হয়েছিল।
বাংলাদেশ ভূমিতে সর্বশেষ আগমন ঘটে পার্বত্য উপজাতিদের। অথচ কী আশ্চর্য! তাদেরকেই নাকি আদিবাসী ঘোষণা করতে হবে। অঞ্চলটি একটি মিশ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত বিভিন্ন জাতি, উপজাতি, নানা ভাষাভাষী এবং নানা ধর্মাবলম্বীসহ বহু সংস্কৃতিবিশিষ্ট জনসংখ্যার একটি এলাকা। নৃতাত্ত্বিক এবং জাতিতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে একথা এখন সুস্পষ্ট যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী উপজাতি জনগোষ্ঠী এখানকার কোনো আদিবাসী বা ভূমিপুত্রের দাবিদার হতে পারে না। উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমারা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং মারমারা দ্বিতীয় অবস্থানে। চাকমারা ১৫০ থেকে ৩০০ বছর পূর্বে মুঘল আমলের শেষ থেকে ব্রিটিশ শাসনামলের প্রথম দিকে মিয়ানমার থেকে পার্বত্য এলাকায় প্রবেশ করে। বোমরা চীন পর্বত থেকে এখানে আগমন করে। খ্যাং, পাংখো এবং কুকিরা ২০০ থেকে ৫০০ বছর আগে এখানে স্থানান্তরিত হয়ে আগমন করে।
ভারতীয় গবেষক বিজি বারগিজ তার ‘নর্থ ইস্ট রিসারজেন্ট’ শীর্ষক গ্রন্থে লিখেছে, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী উপজাতীয়রা হচ্ছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারীদের মতো তিব্বতি/বার্মা/মন খেমার বংশোদ্ভূত। এসব উপজাতি ষোড়শ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে এ এলাকায় অভিবাসন করে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসায় তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ভাষা আলাদা’।
ধর্ম ও আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে জনসংখ্যাকে পাঁচটি শ্রেণীভুক্ত করা যেতে পারে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং উপজাতি। উপজাতিদের মধ্যে আবার নানা ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণ। বর্ণিত পাঁচ সম্প্রদায়ের মধ্যে শেষোক্ত চার সম্প্রদায় বাংলাদেশে বসতি গড়ে অনেক পরে। এদেশ প্রথম আবাদ করেন মুসলিমগণ উনারাই। বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সাথে মুসলমানগণ উনাদের নাড়ির সম্পর্ক। এজন্যই বারো শতকে সেন শাসক ও ব্রাহ্মণরা মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে নির্মূল করার জন্য হুকুম জারি করেছিল। ভাষাবিজ্ঞানী ড. দীনেশ চন্দ্র সেন তার ‘বৃহৎ বঙ্গ’ গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোকপাত করেছে। বাংলা ভাষায় তাদের ধর্মচর্চাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিল। অষ্টাদশ পুরানাম রামশ্য চরিতানেচ ভাষায়ং মানবাশ্রু তা রৌরবং নরকং ব্রজেত। অর্থাৎ মানবরচিত বাংলা ভাষায় যে অষ্টাদশ পুরাণ এবং রামচর্চা করবে তার ঠাঁই হবে রৌরব নরকে।

 

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+