ভূগোল বিজ্ঞানে মুসলিম ভূগোলবিদদের অবদান (১ম অংশ)!


মুসলিম ভূগোলবিদগন পৃথিবীর মাটি, সাগর, বাতাস, আবহাওয়া, মাপজোক, জরিপ কোন কিছুই বাদ দেননি। মুসলমানরাই ভূগোলের গোলক (গ্লোব) ও মানচিত্র তৈরী করেছেন। বর্তমান ভূগোলের যত উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে তার পুরো কৃতিত্বই মুসলমান ভূগোলবিদদের। সাগর, অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ, স্থলভূমি ও আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি ইত্যাদি সম্বন্ধে মুসলমানদের উন্নত মানের যন্ত্র ও নির্ভুল তাত্ত্বিক তথ্য ছিল। আহমদ ইবনে মজিদ, আরব নাবিক সোলায়মান প্রমুখের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতায় লিখিত মূল্যবান পুস্তক থেকেই ইউরোপ ভৌগোলিক জ্ঞান লাভ করে।

মুসলিম ভূগোলবিদদের বিশেষ বিশেষ অবদান:
ইবনে খুলদুন (হিজরী ৭৩২-৮০৮, ঈসায়ী ১৩৩২-১৪০৬) লোহিত সাগর দৈর্ঘ্য ১৪০০ মাইল হিসেবে বর্ণনা করেন।
আল ইদ্রিসী সর্বপ্রথম বৃত্তাকার আকৃতির মানচিত্র অংকন করেন।
আল ইদ্রিসী (হিজরী ৪৯২-৫৬১, ঈসায়ী ১০৯৯-১১৬৬) সর্বপ্রথম গ্লোব নির্মাণ করেন।
আল ইদ্রিসী সর্বপ্রথম মানচিত্রে গ্রীড সিষ্টেম প্রবর্তন করেন
ইবনে মজিদ (হিজরী ৮২৪-৯০৫, ঈসায়ী ১৪২১-১৪৯৯) সর্বপ্রথম কম্পাস আবিষ্কার করেন।
আল খোরাজমী (হিজরী ১৬৪-২৩৫, ঈসায়ী ৭৮০-৮৫০) সর্বপ্রথম পৃথিবীকে সাতটি মহাদেশে বিভক্ত করেন।

ভূগোল সম্পর্কিত আবিষ্কার:
আরবরা মধ্যযুগে ৩২ পয়েন্ট বিশিষ্ট কম্পাস আবিষ্কার করেন।
৬৮০ হিজরী (১২৮১ ঈসায়ী) সালে ইয়েমেনের সুলতান আল আশরাফী কম্পাসে “ক্বিবলা নিদের্শক” ব্যবহার করে মক্কা শরীফ এর দিক বের করেন। এই কম্পাস “উৎু ঈড়সঢ়ধংং” বা “গধৎরহবৎ’ং ঈড়সঢ়ধংং” নামে পরিচিত।
-৩য় হিজরী (৯ম ঈসায়ী) শতকে আব্বাসীয় খলিফা আল মামুনের সময় মুসলিম ভূগোলবিদ ও জোত্যিবিদরা এই গ্লোব প্রথম তৈরী করেন।
-৭ম হিজরী (১৩দশ হিজরী) শতাব্দীতে ইসলামিক লাইবেরিয়াতে ক্যারাভেল আবিষ্কৃত হয়।
-১১ হিজরী (সপ্তদশ ঈসায়ী) শতকে মক্কা শরীফ কেন্দ্রীক মানচিত্র অংকন করা হয় যার মাধ্যমে মুসলমানরা ক্বিবলার দিক নির্ণয় করত।
-১১ হিজরী শতকে মুহম্মদ হুসাইন ক্বিবলা নির্দেশক আবিষ্কার করেন যাতে সূর্যঘড়ি ও কম্পাস সংযুক্ত ছিল।
-আরব নাবিকরা ৩য় হিজরী শতকে একটি সেক্সট্যান্ট আবিষ্কার করেন যা “কামাল” নামে পরিচিত ছিল। এটি দ্বারা তারার অবস্থান নির্ণয় করা হত।

৩২ পয়েন্ট বিশিষ্ট কম্পাস ক্যারাভেলের ছবি

ভূগোলবিদদের অবদান:
আল খোয়ারেজমী (হিজরী ১৬৪-২৩৫, ঈসায়ী ৭৮০-৮৫০): তিনি প্রায় বিশ বছর বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছেন। স্পেন, সিজিস্তান ও ইন্ডিয়া ব্যতীত সকল মুসলিম দেশে ভ্রমন করেছেন। খলিফা আল মামুনের প্রচেষ্টায় ৬৯ জন ভুগোলবিদ সহ কঠোর পরিশ্রম করে একটি “সুরাত-আল-আরদ” বা দুনিয়ার বাস্তব রূপ দাঁড় করেন। পরবর্তীতে এটি পৃথিবীর মানচিত্র অংকনে মডেল হিসেবে গৃহীত হয়। তাতে তিনি বসতি পূর্ণ বিশ্বকে আবহাওয়ার তারতম্য অনুসারে সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করেন। বর্তমানে যে সাতটি মহাদেশে পৃথিবী বিভক্ত তা উনার নির্ভুল প্রচেষ্টার ফসল। তার রচিত কিতাব “কিতাব সুরাত আল আরদ” এ শহর, পাহাড়, সাগর, দ্বীপপুঞ্জ, নদী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের বর্ণনা করেছেন। তিনি “আল সুরাত আল মামুনিয়া” নামের বিশ্ব মানচিত্র অংকন করেন যা ৩৮টি ভাগে বিভক্ত ছিল। তিনি ২১৮ হিজরী (৮৩৩ ঈসায়ী) সালে “কিতাব সুরাত আল আরদ” (ঞযব রসধমব ড়ভ ঃযব ঊধৎঃয) রচনা করেন যাতে ২৪০২ শহর ও অন্যান্য ভৌগলিক স্থানের বর্ণনা রয়েছে। “কিতাব সুরাত আল আরদ” এর একটি কপি বর্তমানে জার্মানীর স্টারসবার্গ ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত আছে। বইটির ল্যাটিন অনুবাদের কপি স্পেনের বাইব্লোটিকা নাকিওনাল ডি ইস্পেনাতে সংরক্ষিত আছে।

আল খোয়ারেজমী অংকিত পৃথিবীর মানচিত্র:
তিনি টলেমির ভূমধ্যসাগরের দ্রাঘিমাংশকে সংশোধন করেন এবং এর প্রায় নির্ভূল দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করেন। তিনি আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের মানচিত্র অংকন করেন। তিনি ভূমধ্যসাগরের পূর্বতীর, আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ১০-১৩ ডিগ্রী পূর্বে এবং বাগদাদ থেকে ৭০ ডিগ্রী পশ্চিমে প্রাচীন বিশ্বের মূল মধ্যরেখা নির্ধারণ করেন। অধিকাংশ মুসলিম ভুগোলবিদরা তার এই মূল মধ্যরেখা ব্যবহার করতেন। তিনি পৃথিবীর পরিধিও নির্ণয় করেন। শুধু তাই নয়, তিনি ভূ-পৃষ্ঠ পরিমিতির উপর গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি আকাশ ও ভুমন্ডলের মানচিত্র প্রনয়ণ করেন। উনার বিখ্যাত গ্রন্থ “আসান আল তাকাসীম ফি মারিফাত আল আকলীম” এ একটি বিরাট মানচিত্র সংযোজন করেছিলেন এবং তার মধ্যে বিখ্যাত সড়কগুলো লালবর্ণে, মরুভূমি হলুদ বর্ণে, পানির এলাকা সবুজবর্ণে, নদী গুলো নীলবর্ণে ও পার্বত্য দেশগুলো ধুসরবর্নে চিহ্নিত করেন।
ইবনে খুররাদাজবেহ (হিজরী ২০৪-২৯৯, ঈসায়ী ৮২০-৯১২):
২৫৬ হিজরী (ঈসায়ী ৮৭০) সালে “কিতাব আল মাসালিক ওয়া মামালিক”(ঞযব ইড়ড়শ ড়ভ জড়ধফং ধহফ করহমফড়সং) রচনা করেন যাতে আব্বাসীয় খিলাফতের সময় কালের বিভিন্ন প্রদেশ ও অধিবাসীদের বর্ণনা রয়েছে।
আল দ্বীনওয়ারী (হিজরী ২১৩-২৮৩, ঈসায়ী ৮২৮-৮৯৬):
তিনি ভূগোলের উপর কিতাব আল বুলদান রচনা করেন।
আল বলখী (হিজরী ২৩৫-৩২২, ঈসায়ী ৮৫০-৯৩৪) :
তার রচিত “সাওয়ার আল আক্বালিম” কিতাবে ভৌগলিক মানচিত্র রয়েছে। তিনি মানচিত্র অংকন শিক্ষার জন্য বাগদাদে “বলখী স্কুল” প্রতিষ্ঠা করেন।

আল বলখী অংকিত পৃথিবীর মানচিত্র যার দক্ষিন দিক উপরে অবস্থিত

আল বলখী অংকিত পৃথিবীর মানচিত্র

আল মাসউদী (হিজরী ২৮৩-৩৪৪, ঈসায়ী ৮৯৬-৯৫৬):
তিনি হিজরী ৩০২ (ঈসায়ী ৯১৪) সালে পার্সিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে ইসতাখারে ১ বছর অবস্থান নেন। তারপর সেখান থেকে ভারতের মুলতান ও মানসুরা হয়ে আবার পার্সিয়া ফেরত আসেন এবং পুনরায় ভারতে যান। ভারত ও সিলোন ভ্রমনের পর ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইন্দোনেশিয়া ও চীন ভ্রমণ করেন। ফিরতী পথে মাদাগাসকার, যিনযিবার, ওমান ও বসরায় যাত্রাবিরতী দেন এবং ভ্রমণ কাহিনী “মুরুজাল-ঢাহাব” রচনা করেন। তিনি কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিন উপকুল হয়ে মধ্য এশিয়া এবং তুর্কিস্থান ভ্রমন করেন। তারপর তিনি কায়রোতে অবস্থান নিয়ে “মিরাত-উজ-যামান” নামক ৩০ খন্ডের বই রচনা করেন যাতে ভূগোল, ইতিহাস ও জনজীবন বর্ণিত আছে। তিনি তার কাজের মধ্যে বেরিং সাগরের কথা উল্লেখ করেন যা আরবদের নিকট “ধিৎধহম” সাগরে নামে পরিচিত ছিল। তিনি বলেন যে, একই আবহাওয়ার সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ শহর আকস্মিকভাবে একই অক্ষাংশে অবস্থিত থাকবে।

ইবনে হাওকাল অংকিত পৃথিবীর মানচিত্র

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মানচিত্র

ইবনে হাওকাল অংকিত মানচিত্র যার দক্ষিণ ভাগ উপরে অবস্থিত

নীলনদ, মিশর, চীন, রাশিয়া, ইরাক, আন্দুলুসিয়ার মানচিত্র

ইবনে হাওকাল (ইন্তেকাল হিজরী ৩৭৭, ঈসায়ী ৯৮৮):
তিনি ৩৩১ হিজরী (ঈসায়ী ৯৪২) সালে বাগদাদ ত্যাগ করে বিভিন্ন মুসলিম দেশ পরিভ্রমন করে “কিতাব আল মাসালিক ওয়াল মামালিক” রচনা করেন। তিনি ৩৬৬ হিজরী (৯৭৭ ঈসায়ী) সালে “সুরাত-আল-আরদ” (ঃযব ভধপব ঙভ বধৎঃয) নামক কিতাব রচনা করেন যাতে স্পেন, ইটালি ও সিসিলীর মুসলিমদের বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩০ বছর এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা ভ্রমন করেছেন।
আল মুকাদ্দিসী (হিজরী ৩৩৪-৩৮১, ঈসায়ী ৯৪৫-৯৯১):
তিনি স্পেন ও চীন ব্যতীত সকল ইসলামিক বিশ্ব পরিভ্রমন করেন। তিনি “আহসান-আল-তাক্বাসিম ফি মারিফাত আল আক্বাইম” নামক ভূগোল বিষয় কিতাব রচনা করেন
আল বিরুনী (হিজরী ৩৬২-৪৩৯, ঈসায়ী ৯৭৩-১০৪৮):
আল বিরুনী সর্বপ্রথম অক্ষরেখা নির্ণয় করেন।

আল বিরুনীর হিজরী ৪২০ সালে অংকিত ৯.৫ সেমি ব্যসের মানচিত্র যার দক্ষিন উপরে অবস্থিত

৭৩২ হিজরী (১৩৩২ ঈসায়ী) সালে ঐতিহাসিক আবুল খিদার তার কিতাবে উল্লেখ করেন যে, আল বিরুনী সর্বপ্রথম বেরিং প্রণালী আবিষ্কার করেন। তিনি ৪র্থ হিজরী শতকে ভারত ভ্রমন করেছিলেন। তিনি সেখানে অনেক বছর অবস্থান করেন এবং সাংস্কৃতি ভাষা শিখেন। তার ভারত নিয়ে রচিত “করঃধন-ধষ-ঐরঢ়ষপষ” এর জন্য তাকে ভু-গণিত বিদ্যার জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি সূর্যের উচ্চতার মাধ্যমে খোয়াজাম এলাকা অক্ষাংশ নির্ণয় করেন। তিনি দক্ষিন ও উত্তর দিক নির্ণয়ের ৭টি উপায় বের করেন। তিনি গাণিতিক কৌশল প্রয়োগ করে ঋতু শুরুর প্রকৃত সময় নির্ণয় করেন। তিনি অ্যাস্ট্রোলোব ও সমুদ্রের পাড়ের পাহাড়ের মাধ্যমে পৃথিবী পরিধি নির্ণয় করেন। তার জটিল ভু-গানিতিক সমীকরণ ব্যবহার করে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেন ৬৩৩৯.৯ কিমি আর আধুনিক পরিধি হচ্ছে ৬৩৫৬.৭ কিমি। এই পদ্ধতি বর্তমানে আল বিরুনী ল’ নামে পরিচিত।

আল বাকরী (হিজরী ৪০৪-৪৮৭, ঈসায়ী ১০১৪-১০৯৪):
তিনি ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও আরব উপদ্বীপ সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তার রচিত “মুজাম মা ইস্তাজাম” নামক কিতাবে আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন স্থানের নামের তালিকা রয়েছে।তার অন্য কিতাব “কিতাব আল মাসালিক ওয়াল মামালিক” ৪৬০ হিজরী (১০৬৮ ঈসায়ী) সালে প্রকাশিত হয়।

ইবনে জুবায়ের (হিজরী ৫৩৯-৬১৩, ঈসায়ী ১১৪৫-১২১৭):
তিনি স্পেনিশ মুসলিম নাবিক। তিনি ৫৮৮ হিজরী (ঈসায়ী ১১৯২) সালে মক্কা শরীফ ও ইরাক ভ্রমন করেন। তিনি একটি ভ্রমন কাহিনী লিখেন যার নাম “রিহলাত-উল-কিনানী।

আল কাযউইনী (হিজরী ৫৯৯-৬৮১, ঈসায়ী ১২০৩-১২৮৩):
তিনি “আযাইবুল মাখলুক্বাত ওয়াল ঘারাইব-উল-মাওজুদাত” নামক কিতাব রচনা করেন যাতে ংুংঃবসধঃরপ পড়ংসড়মৎধঢ়যরপধষ কাজ রয়েছে। তিনি “আতিযাব-উল-বিলাদ-ওয়া-দখবার-উলবাদ” (অ ঃরুধা-ঁষ-ইরষধফ- ধি-ফশযনধৎ-ঁষওনধফ) কিতাবে পৃথিবীকে সাতটি পষরসধঃরপ অঞ্চলে ভাগ করেন। তার এই বইতে পষরসধঃরপ অঞ্চল, দৈহিক গঠন, জীবন ব্যবস্থা এবং ইতিহাস বর্ণিত আছে। তিনি “আথার আল বিলাদ ওয়া আকবার আল ইবাদ” নামে একটি ভূগোল বিষয়ক ডিকশনারী লিখেন।

আল কাযউইনী অংকিত পৃথিবীর মানচিত্র

আল কাযউইনী অংকিত পৃথিবীর মানচিত্র যার দক্ষিণ ভাগ উপরে অবস্থিত

ইবনে বতুতা (হিজরী ৭০৩-৭৭০, ঈসায়ী ১৩০৪-১৩৬৯):
তিনি ৮ম হিজরী (১৪দশ ঈসায়ী) শতকে ২০ বছর বয়সে ভ্রমনে বের হয়ে ৫১ বছর বয়সে মোট ৩১ বছর ভ্রমন করেন। তিনি ৭৫০০০ মাইল ভ্রমন করে যা পৃথিবীকে ৩ বার ভ্রমনের সমান দুরুত্ব। তিনি টেংলারস থেকে ভ্রমন শুরু করে মিশর, আবিসিনিয়া, উত্তর ও পূর্ব আফ্রিকা ভ্রমন করেন। তিনি সাহারা মরুভূমি অতিক্রম করে ঞরসনঁশঃড়ড় পৌছেন। তিনি ইউরোপের স্পেন, রোম রাজ্য, দক্ষিন রাশিয়া, গবফরঃবৎৎধহবধহ এবং মৃত সাগর ভ্রমন করেন। তিনি জীবনে চার বার হজ্ব করেছেন। তিনি পার্শিয়া, তুর্কিস্থান, আফগানিস্থান, ভারত, মালদ্বীপ, সিলোন, পূর্ব ভারত, ইন্দো-চীন এবং চীন ভ্রমন করেন। তিনি সাইবেরিয়ার shortness of summer nights shortness of summer nights দেখতে যান এবং অন্ধকারচ্ছন্ন এলাকার বর্ণনা করেন। তাঁর ৭৫০০০ মাইল পৃথিবী পরিভ্রমনে যে সব স্থানে গিয়েছিলেন তার তালিকা-
(১) মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনেশিয়া
(২) লিবিয়া (ত্রিপলী)
(৩) মামলুক রাজ্য: মিশর, আলজান্দ্রিয়া, জেরুজালেম, বেথেলহাম, হেবরন, দামেস্ক, লাটাকিয়া, সিরিয়া
(৪) আরবীয় উপদ্বীপ: মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ, জেদ্দা, বাবিগ, ওমান, দোহার, বাহরাইন, আল হাসা, হরমুজ, ইয়েমেন, কাতিফ।
(৫) স্পেন: গ্রানাডা ও ভেলেনচিয়া
(৬) বাইজেন্টাইন রাজ্য ও পূর্ব ইউরোপ: কনওয়া (তুরস্কের শহর), এন্টালা (তুরস্কের শহর), বুলগেরিয়া, আযব (রাশিয়ান শহর), কাযান (রাশিয়ান শহর), ভল্গা নদী, কনস্টেন্টিনেপল।
(৭)মধ্য এশিয়া: খোয়ারজম ও খোরাসান (বর্তমান উজবেকিস্থান, তাজাকিস্থান, বেলুচিস্থান রাজ্য এবং আফগানিস্থান), বুখারা সামারখন্দ, পস্তুন।
(৮) দক্ষিন এশিয়া: পঞ্জাব, সিন্ধু, মুলতান, দিল্লী, উত্তর প্রদেশ, হান্সী, কনকান বন্দর, মালাবার, বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ, ও পশ্চিম বঙ্গ), বহ্মপুত্র নদ, মেঘনা নদী, সিলেট।
(৯) চীন, বার্মা (বর্তমান মায়েনমার), মালদ্বীপ, শ্রীলংকা (তৎকালীন শ্রীদ্বীপ), সুমাত্রা (ইন্দোনেশিয়া), মালয় উপদ্বীপ, ফিলিপাইন, সোমালিয়া, সোহালী বন্দর, মালী (পশ্চিম আফ্রিকা), মৌরিতানিয়া।

ইবনে খালদুন (হিজরী ৭৩২-৮০৮, ঈসায়ী ১৩৩২-১৪০৬):
তিনি লোহিত সাগর দৈর্ঘ্য ১৪০০ মাইল হিসেবে বর্ণনা করেন। বর্তমান মানচিত্রে তা ১৩১০ মাইল হিসেবে উল্লেখ আছে। (সিভিলাইজেশন অব এরাবিয়াঃ মসিয়েঁ লেপে। সুত্র, আরব নৌবহর, পৃষ্ঠা-৩৫-৩৬)
পিরি রেইস (ইন্তেকাল হিজরী ৯৬০, ঈসায়ী ১৫৫৩):
তিনি তার রচিত “কিতাব-ই-বাহরিয়্যা” নামক কিতাবে ভূমধ্যসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও শহরের নির্ভূল বর্ণনা করেছেন। তার প্রথম মানচিত্র ৯১৮ হিজরী (১৫১২ ঈসায়ী) সালে তৈরী করা যা ১৩৪৭ হিজরী (১৯২৮ ঈসায়ী) সালে ইস্তাম্বুলে আবিষ্কৃত হয়। হিজরী ৯৩৪ (ঈসায়ী ১৫২৮) সালে তিনি দ্বিতীয় মানচিত্র অংকন করেন যাতে গ্রীন ল্যান্ড ও পশিম আমেরিকার কিছু অঞ্চল রয়েছে।

৯১৯ হিজরীর মুহররম মাস (১৫১৩ ঈসায়ী) সালে পীরী রেইজের গেজেলের চামড়ায় অংকিত প্রথম মানচিত্রের বাম অংশ যাতে আমেরিকা মহাদেশের মানচিত্র রয়েছে। বর্তমানে মানচিত্রটি ইস্তাম্বুলের টপকাপি যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

পীরী রেইজ অংকিত ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণ আফ্রিকার মানচিত্র

১৫২৮ সালে অংকিত মানচিত্র যাতে গ্রীনল্যান্ড, দক্ষিণ আমেরিকার ফ্লোরিডা, কিউবা ও কেন্দ্রীয় আমেরিকার অংশ রয়েছে

পীরী রেইজ ও আধুনিক মানচিত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার মানচিত্রের তুলনা

ুকিতাবী বাহরী” এ অংকিত কিরিতি (গ্রীসের একটি প্রদেশ) এর মানচিত্র

পীরী রেইজ অংকিত ভেনিসের মানচিত্র

সিসিলি (ভূমধ্য সাগরের সবচেয়ে বড় দ্বীপ) –এর মানচিত্র

স্পেনের গ্রানাডা ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলের মানচিত্র

আলজির্য়াস ও তার সমুদ্র বন্দরের মানচিত্র

(২য় অংশে সমাপ্য)

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে