ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১


(শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোঁকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রিস্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে শয়তানের চর ইহুদী খ্রিস্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরন এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা যার মূলে থাকে খ্রিস্টীয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর- হেমপার। সে মিসর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য। ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদের উপর তুর্কি ভাষায় রচিত হযরত মুহম্মদ আইয়ূব সাবরী পাশা রহমতুল্লাহী আলাইহি-এর “মিরাত আল হারামাইন” কিতাবের ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাংলায় ধারাবাহিকভাবে ভাষান্তর করা হচ্ছে ইনশাআল্লাহ।)

আরব উপদ্বীপটি যখন ‍উমাইয়া (Ottoman) বংশের শাসনাধীন ছিল, রাষ্ট্র নির্ধারিত এক একজন কর্মকর্তা কর্তৃক প্রতিটি রাষ্ট্র শাসিত হত। পরবর্তীতে, হিজাজ ব্যতীত, প্রতিটি অঞ্চল যখন যে জবরদখল করতে পেরেছিল তারই আয়াত্বাধীনে এসে গিয়েছিল এবং শাসিত হয়েছিল রাজতন্ত্র হিসেবে। ১১৫০ হিজরীতে, ১৭৩৭ ঈসায়ী সনে ওহাবী নজদীর মাধ্যমে ওহাবী মতবাদ প্রচার লাভ করেছিল যা খুব অল্প সময়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন করে দিয়েছিল এবং প্রচারিত হয়েছিল সমস্ত আরবে। পরবর্তীতে, ইস্তাম্বুলের খলীফা, মুহম্মদ আলী পাশার নির্দেশে মিশরের শাসক তার অল্প সজ্জিত মিশরীয় বাহিনী দিয়ে আরবকে মুক্ত করেছিল।

১২০৫ হিজরীতে, (১৭৯১ ঈসায়ী সন) ওহাবী মতবলম্বী আব্দুল আজিজ, মক্কার আমীর, শরীফ গালিব আফেন্দির বিরুদ্ধে প্রথমবারের মত যুদ্ধ ঘোষণা করে। এযাবৎ গোপনে তারা ওহাবী মতবাদ ছাড়িয়ে যাচ্ছিল, তারা হত্যা করেছিল অনেক মুসলমান পুরুষ, নারী ও শিশুদের। দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ এবং জবরদখল করেছিল তাদের সম্পদ-সম্পত্তিসমূহ।

ওহাবী নজদী ছিল বনী তামিম গোত্রের। ১১১১ হিজরী শতকে (১৬৯৯ ঈসায়ী সন) নজদ মরুর হুরাই-মিলা শহরের নিকটস্থ উআইনা গ্রামে তার জন্ম এবং মৃত্যু হয় ১২০৬ হিজরীতে (১৭৯২ ঈসায়ী সন)। প্রথম দিকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সে গিয়েছিল বসরা, বাগদাদ, ইরান, ভারত এবং দামেস্কে। সেখানে সে তার চাতুরতা ও আগ্রাসী স্বভাবের জন্য “শেখ নজদি” খেতাব পেয়েছিল। এই অঞ্চলগুলি থেকে বহু অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা লাভের ফলশ্রুতিতে একজন নেতা হওয়ার পরিকল্পনা আঁটতে শুরু করে সে ১১২৫ হিজরীতে, (১৭১৩ ঈসায়ী সন। বসরাতে তার সাক্ষাৎ হয় একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর হেমপার এর সঙ্গে। যে কিনা বুঝেতে পেরেছিল যে, এই নাদান যুবকের (ওহাবী নজদীর) রয়েছে বিপ্লব ঘটিয়ে নেতা হওয়ার অভিলাষ। দীর্ঘদিনে সে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে। সে তাকে প্রলুব্ধ করেছিল সেসব শয়তানি আর শঠতায় যা সে “ব্রিটিশ মিনিস্ট্রি অব দি কমনওয়েলথ-এর কাছে শিখেছিল। নজদির এসব প্রবঞ্চনার প্রতি এতো অনুপ্রেরণা দেখে সে তাকে একটি নতুন ধর্ম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়। এজন্য এই গুপ্তচর এবং ওহাবী নজদী যা খুঁজছিল তা তারা পেয়ে যায়। তারা ভেবে দেখল, লক্ষ্য অর্জনে নতুন তরীকা বের করতে হলেও করতে হবে এবং লক্ষ্য অর্জনের প্রস্তুতি হিসেবে মনোযগের সঙ্গে শুনতে থাকে, পবিত্র মদীনা শরীফের এবং দামেস্কের হাম্বলী মাযহাবের উলামাগণের বক্তৃতাসমূহ। সে নজদে ফিরে গিয়ে গ্রামবাসীর জন্য ধর্ম বিষয়ে অনেক ছোট ছোট পুস্তিকা রচনা করে। সে লিখলো, যা সে ব্রিটিশ গুপ্তচরের নিকটে শিখেছিল এবং সংমিশ্রণ ঘটাল মু’তাজিলা ও অন্যান্য বিদয়াতিদের অপব্যাখ্যার ভ্রান্ত তথ্যসমূহ। বহু অশিক্ষিত গ্রামবাসী, বিশেষ করে দারইয়ার অধিবাসী এবং তাদের মূর্খ নেতা, ইবনে সউদ তাকে অনুসরণ করলো। আরবরা পুরুষানুক্রতিক বংশ মর্যাদার বিশেষত্বকে খুব মান্য করে এবং যেহেতু ওহাবী নজদী নিজে কোন সুপরিচিত পরিবারের লোক ছিলো না তাই সে স্বীয় ত্বরীকা, যার নাম করণ করেছিল ‘ওহাবী’ মতবাদ। সে প্রচার কার্যে ইবনে সউদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। সে নিজেকে কাজী এবং ইবনে সউদকে হাবিস (শাসক) হিসেবে পরিচিত করেছিল। তারা তাদের শাসনতন্ত্রে পাশ করেছিল যে, উভয়ই কেবল তাদের সন্তানদের দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হবে। ১৩১৬ হিজরীতে (১৮৮৮ ঈসায়ী সন) যখন ‘মিরআত আল-হারামাইন’ লেখা হয় তখন ইবনে সউদ বংশোদ্ভূত আব্দুল্লাহ্ ইবনে ফয়সাল নজদ-এর আমীর এবং ইবনে আব্দুল ওহাব কাজী। (ইনশাআল্লাহ চলবে)

অনুবাদক- আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল হাসান

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে