মওদুদী মতবাদঃ ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মারাত্মক ষড়যন্ত্র!


ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মারাত্মক ষড়যন্ত্র :
সিপাহী বিপ্লবের শোচনীয় ব্যর্থতার পর উপহাদেশের পরাজিত ও পর্যুদস্ত মুসলিম জনগণকে ঈমান-আক্বীদার অমূল্য সম্পদ থেকে বহির্গত রিয়া ক্রমান্বয়ে খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত করার সূদুর-প্রসারী ষড়যন্ত্রের প্রধান অংশ হিসাবে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদীরা পাঞ্জাবের গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নামক একজন লেখককে নবী সাজিয়ে ময়দানে ছেড়ে দেয়। কিন্তু উলামায়ে কিরামের সময়োচিত প্রতিরোধের সম্মুখে বহু অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেও খ্রিস্টান ইংরেজদের ভাগ্যে আকাঙ্খিত ফললাভ করা সম্ভব হয় নাই।

 
উনবিংশ শতকের তৃতীয় দশকে এশিয়া ও আফ্রিকার সর্বত্র স্বাধীনতাকামী জনগণের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ইংরেজরা যখন অনুভব করল যে, এই দেশের আধিপত্য ত্যাগ করে তাদের পশ্চাদপসরণ সুনিশ্চিত, তখন নবজাগ্রত মুসলিম এশিয়া ও আফ্রিকার জনগণকে ঈমান ও ইসলামের ছহী পথ প্রদর্শন এবং প্রকৃত প্রাণশক্তি হতে বঞ্চিত করে দেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে পাঞ্জাবেরই আর একজন শক্তিশালী লেখক সাংবাদিক আবুল আলা মওদুদীর মাধ্যমে নতুন আর একটি সূক্ষ্ম গোমরাহীর বীজ বপন করে যায়।

 

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বিপর্যস্ত ইংরেজ শক্তি সাম্রাজ্য ত্যাগ করে যাওয়ার মূহুর্তে মুসলিম এশিয়া ও আফ্রিকার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের খবরদারী করার দায়িত্ব আমেরিকার হাতে ন্যাস্ত করে যায়।
আবুল আলা মওদুদী দ্বারা সৃষ্ট উপরোক্ত ষড়যন্ত্রটির পৃষ্ঠপোষকতা করার দায়িত্বও স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার হাতে সোপর্দ হয়।
ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদীদের সৃষ্ট সেই বিষ-বৃক্ষের ফল এমনই মোক্ষম কাজ করেছিল যে, বর্তমানে উপমহাদেশের সর্বত্র সাম্রাজ্যবাদী এবং পূজিবাদী স্বার্থের অতন্ত্র প্রহরী হিসাবে মওদুদী ফের্কা অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে কাজ করে চলেছে। এরা ইসলামের নামে মুসলিম জনগণের দ্বীন-ঈমান এবং আমল আখলাকের মধ্যে এমন সব গোমরাহীর বীজ ঢুকিয়ে দিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়াতে মুসলিম জনগণের পক্ষে প্রকৃত ঈমানদার হিসাবে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পরেছে।

 
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তৎকালীন সরকার “জমাতে ইসলামী” নামধারী মওদুদী জমাত নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় এবং উক্ত জমাতের সন্ত্রাসমূলক ঘৃণ্য কার্যাবলীর দরুণ এদেশী জনগণের মনে তাদের প্রতি যে তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয় এই কারণে তারা আর এই দেশে তাদের গোমরাহ আকিদা প্রচারে সাহসী হবেনা বলে ধারণা হয়েছিল। কিন্তু এই গোমরাহ দলটি স্বনামে আত্মপ্রকাশ করতে সাহসী না হলেও তারা তাদের সাম্রাজ্যবাদী মুরুব্বীদের অর্থ ও সমর্থনের বলে বলিয়ান হয়ে মুখোশের আড়ালে মুখ ঢেকে বিভিন্ন সংগঠনের নামে পূর্বের চাইতেও জোরেশোরে গোমরাহ আকিদার প্রচার আরম্ভ করে।

 

রাজনৈতিক অংগনে আই, ডি, এল (রহীম গ্রুপ) নামে, ছাত্রফ্রন্টে ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র মিশন ও তালাবায়ে আরাবিয়া নামে, শ্রমিক ফ্রন্টে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নামে এবং এছাড়া মসজিদ মিশন, তফসীর কমিটি, সীরাত কমিটি, আদর্শ পাঠাঘার ইত্যাদি বিভিন্ন সামাজিক ও সমাজ কল্যাণ প্রতিষ্ঠানের নামের ছদ্ম আবরণে এরা ব্যাপকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিরীহ মুসলিম জনগণ এদের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অভিহিত না হওয়ার কারণে তাদের ইসলামী মুখরোচক শ্লোগানে আকৃষ্ট হয়ে তাদের শিকারে পরিণত হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে আমরা তাদের বাতিল আকিদা সম্পর্কে নিরীহ মুসলিম জনগণকে সাবধান করে দেয়া দ্বীনি কর্তব্য মনে করছি।
নিম্নে মওদুদী মতবাদের বাতিল আক্বিদার কয়েকটি মারাত্মক বিষয়ের উদ্ধৃতি পেশ করা হলো।

হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি :
দ্বীন ও ঈমানের মূল-ভিত্তি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার খলিফা হিসাবে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণকে প্রেরণ করেছেন। হযরত আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালামগণ উনারা সকল প্রকার পাপমুক্ত। উনাদের পাপ মুক্ত হওয়াকে ইসলামী পরিভাষায় ‘ইসমত’ এবং উনাদেরকে ‘মাছুম’ বলা হয়। সর্বকালের মুসলমানদের আকীদা হলো উনাদের ‘ইসমত অর্থাৎ নিষ্পাপ হওয়া নুবুওওয়াতের অবিচ্ছেদ্য শর্ত শরহে ফেকহে আকবর পৃষ্ঠা : ২৮ সীরাতুন নবী ১ম খ- পৃষ্ঠা : ৫৮৬)।

 

‘ইসমত’ ব্যতীত নুবুওওয়াতের কল্পনাও করা যায় না। কেননা, ‘ইসমত’কে অস্বীকার করার অর্থ উনারা প্রবৃত্তির কামনা ও খাহেশের ঊর্ধ্বে নহেন। আর প্রকৃতি, কামনা ও খাহেশের ঊর্ধ্বে না হলে উনাদের সকল হুকুম, আদেশ-উপদেশে সন্দেহ সৃষ্টির অবকাশ থেকে যায়। হযরত আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি সামান্যতম সন্দেহের সৃষ্টি হলে মানুষ বেঈমান হয়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ট মওদুদী দ্বীনের এই মূলভিত্তির উপর আঘাত করে তার রচিত ‘তফহীমাত’ ২য় খন্ড ৪৩ পৃষ্ঠায় লিখেছে, “আসল কথা হইল, নিষ্পাপ হওয়া নবুয়তের অবিচ্ছেদ্য শর্ত নহে। বরং ইহা একটি পর্দা স্বরূপ। আল্লাহ তায়ালা নবী ও গোনাহের মাঝখানে নিষ্পাপের আবরণ রাখিয়াছেন। যখন আল্লাহ ইচ্ছা করেন এই আবরণ উঠাইয়া নেন, তখন নবীগণ সাধারণ মানুষের ন্যায় ভুলত্রুটি গোনাহখাতা করিয়া থাকেন।” নাউযুবিল্লাহ!

 
উক্ত বইয়ের প্রথম খন্ডের ১৬৩ পৃষ্ঠায় মওদুদী লিখেছে, “আওরতো আওর বছা আওকাত পয়গম্বরওঁ তককো ইস নফছে শরীরিক রাহজানীকে খতরে পেশ আঁহে হেঁ।” সাধারণ মানুষতো বটেই এমনকি অনেক সময় পয়গম্বরগণকে পর্যন্ত নফছে শরীর (কুপ্রবৃত্তি) এর শিকারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়াছে। নাউযুবিল্লাহ!!

 
পয়গম্বরদের মধ্যে নফছেশরীর অর্থাৎ কু-প্রবৃত্তি থাকার অপবাদ দেয়া, এই নফছে শরীরের প্ররোচনায় পতিত হওয়ার এবং তদুপরি ‘বছাওকাত” শব্দ দ্বারা বহুবার উনাদেরকে এই কু-প্রবৃত্তির শিকারে পরিণত হওয়ার কথা বলার জঘন্য ধৃষ্টতা প্রদর্শনের দ্বারা মওদুদী হযরত আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের ‘ইসমত’কে সরাসরি শুধু অস্বীকারই করে নাই বরং উনাদের প্রতি জঘন্য ও মারাত্মক কটাক্ষও করেছে।
হযরত আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের ‘ইসমত’ তথা নিষ্পাপ হওয়াকে অস্বীকার করা নুবুওওয়াতকে অস্বীকার করারই নামান্তর মাত্র। চৌদ্দশত বৎসর যাবত মুসলমানরা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে হযরত আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি যে সঠিক আকীদা ও বিশ্বাস পোষণ করে আসছেন, মওদুদী কলমের এক খোঁচায় তা ধুলিস্মাৎ করে দিতে উদ্যত হয়েছে। এই হেতু সে হযরত নবী-রসূল উনাদের দোষ-ত্রুটি ও গোনাহে লিপ্ত হওয়া প্রমাণ করার অপচেষ্টা করেছে। যেমন তার রচিত তফহীমুল কোরআন প্রথম খন্ড ৫৫৮ পৃষ্ঠায় সে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সাময়িকভাবে শিরেক করা (তফহীমাত ১ম খন্ড ১৬৩ পৃষ্ঠা) হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম উনার কু-প্রবৃত্তির প্ররোচনায় বশীভূত হওয়া এবং (তফহীমুল কোরআন ২য় খন্ড …… পৃষ্ঠা), হযরত ইউনুছ আলাইহিস সালাম উনার নবুওওয়াতের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করার অপবাদ দেওয়ার দুঃসাহক করিয়াছে। এমনকি সে নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপরও অতি সূক্ষ্মভাবে কটাক্ষপাত করেছে। নাউযুবিল্লাহ!!!

 

“জমাতে ইসলাম কি আখলাকী বুনিয়াদে পুস্তকের ১৮ পৃষ্ঠায় মওদুদী লিখেছে, “আরব ভূমিতে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে অসাধারণ সফলতা অর্জন করেছিলেন এবং অত্যাল্পকালের মধ্যে সিন্ধু নদ হতে আটলান্টিক মহাসাগরের তীর পর্যন্ত যার প্রভাব জগতের এক বিশাল অংশ অনুভব করতে সক্ষম হয়েছিল তার একমাত্র কারণ ছিল এই যে, (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈশিস্ট্য নয় বরং) আরবে তিনি এমন এক জনশক্তি লাভ করেছিলেন যার মধ্যে ছিল বলিষ্ঠ চরিত্রবল। খোদা না করুন যদি তিনি নির্বোধ, দুর্বলচেতা, হীনমনা ও নির্ভরের অযোগ্য একদল লোক পাইতেন তবে কি কখনও অনুরূপ সাফল্য লাভ সম্ভব হইত?” নাউযুবিল্লাহ!!!!

 
উপরোক্ত উক্তি দ্বারা মওদুদী ইসলামের মহান বিজয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবদানকে অস্বীকার করে যে জঘন্য মনোবৃত্তির পরিচয় দিয়েছে তা বোধ হয় কোন বিধর্মীর পক্ষেও সম্ভবপর হবে না। মওদুদী ও তার অনুসারীদের গোমরাহীর প্রমাণ হিসাবে উপরোক্ত মন্তব্যটিই যথেষ্ট। যার অন্তরে সামান্যতম ঈমান ও নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বত বর্তমান থাকে সে কখনও এর পরে মওদূদী মতাবলম্বীদের কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে না। (চলবে)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. মওদূদী পুরাই একটা কাফের। আমাদের নবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বলে!

  2. শিয়াদের আরেকটা ভার্সন হলো মদুদীবাদ জামাত-শিবির

  3. drohanoldrohanol says:

    মওদুর্দীর মৃত্যু সেখানেই হয়েছে যাদের দালালি সে আজীবন করেছে।বিশ্ব সন্ত্রাসী আমেরিকায় বসেই সে জাহান্নাম গমণ করে।

  4. মওদুদীর নাপাক জাত হইল এই জামাত-শিবির । এই জন্যি এদের সব কাজ হারামে ভরপুর ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে