মনগড়া নয়, সম্মানিত শরীয়ত মুতাবিক চলতে হবে যে কারনে অ-মঙ্গল যাত্রা ১লা বৈশাখ উদযাপন করা মুসলমানদের জন্য জায়েজ নয়!


বর্তমানে ফসলী নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে যে নাজায়েজ হুল্লোড়ের প্রচলন রাষ্ট্রিয়ভাবে করা হচ্ছে সেটা বহুবিধ কারনে সম¥ানিত দ্বীন ইসলাম উনার মাঝে জায়েজ নেই। আর যেটার অনুমোদন সম্মানিত শরীয়তে নেই সেটা উদযাপন করা, পালন করা কোন মুসলমানের জন্য কি করে জায়েজ হতে পারে। এটা সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সবাইকে বুঝার চেষ্টা করতে হবে। যেসব কারনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন নাজায়েজ তা আবারো একটু চিন্তা ফিকির করে দেখি-
১. নওরোজ বা নববর্ষ উদযাপন করার কোন প্রমান দলীল ইসলামী শরীয়ত বা ইসলামী ইতিহাসে নেই। বরং ইসলামী আইনবিদগন সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে ফতোয়া দিয়েছেন, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কেউ যদি কাউকে একটা ডিমও হাদীয়া করে তবে তার জিন্দেগীর সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে। সে কাট্টা মুরতাদে পরিনত হবে। নাউযুবিল্লাহ!
২. নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে নারী পুরুষ একত্রিত করা হয়। মূর্তিপূজারী মুশরিক বিধর্মী বিজাতী নারী পুরুষ সহযোগে নববর্ষ উৎসব পালন করতে রাস্তায় নামানো হয়। অথচ, ইসলামী শরীয়তে পর্দা করা পুরুষ মহিলা সবার জন্য ফরজে আইন। নববর্ষ উৎসবের মাধ্যমে ইসলামী শরীয়তের ফরজ আইনকে লংঘন করা হয় একদম প্রকাশ্যেই। তাহলে এটা পালন করা কিভাবে জায়েজ হতে পারে?
৩. নওরোজ বা নববর্ষ পালন করতে জন্তু জানোয়ারের ছবি মুর্তি মুখোশ অংকন করা হয়। অথচ, ইসলামী শরীয়তে যেকোন প্রানীর ছবি মুর্তি তৈরী করা, বহন করা, প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা কাট্টা হারাম নাজায়েজ নিষিদ্ধ। এমন নাজায়েজ নিষিদ্ধ হারাম কাজ যে উৎসব পালনের কারনে করতে হয় সেটা কি করে ইসলামী শরীয়তে জায়েজ হতে পারে?
৪. নওরোজ বা নববর্ষ পালন করতে গিয়ে পুরুষ নারীর পোষাক, নারী পুরুষের পোষাক আবার অনেকেই হিন্দুদের ধুতি পরিধান করে যা ইসলামী শরীয়তে জায়েজ নেই। এমন পোষাক পরিধান করলে লানত বর্ষিত হবার কথা সহীহ হাদীছ শরীফ মাঝে বর্নিত রয়েছে। তাহলে লানতী অভিশপ্ত সম্মিলন পহেলা বৈশাখ উদযাপন কি করে মুসলমানের জন্য জায়েজ হতে পারে!
৫. নওরোজ বা নববর্ষের আনুষ্ঠানিকতাই শুরু হয় গান বাজনার মাধ্যমে! অথচ, গান বাজনা করা, গান বাজনা শুনা, গান বাজনার সভার আয়োজন করা, গান বাজনার জন্য পয়সা খরচ করা প্রত্যেকটাই নাজায়েজ হারাম। এমন হারাম কাজের মাধ্যমে যে পহেলা বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় সেটা কি করে ইসলামী শরীয়তে জায়েজ হতে পারে?
৬. নওরোজ বা নববর্ষ উৎসবে কথিত দেবতাদের করুনা প্রত্যাশায় অমঙ্গলযাত্রা করা হয়। ঢোল বাদ্যের তালে তালে নেচে নেচে, হাত তালি মেরে মেরে, পটকা ফুটিয়ে, বিভিন্ন জন্তু জানোয়ারের মুখোশ পরিধান করে মিছিল করা হয়। যা কোনভাবেই বা কোন শর্তেই সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে জায়েজ নেই। তাহলে এমন নাজায়েজ কাজে সামিল হওয়া মুসলমানদের জন্য কি করে হালাল হতে পারে?
৭. নওরোজ বা নববর্ষ উৎসবের নামে নারী পুরুষ অশ্লীলতায় মেতে উঠে। প্রকাশ্যেই বেহায়া বে-শরমমূলক কাজ নারী পুরুষ অবাধে করে যায়। অতএব, যে উৎসবের মাধ্যমে অশ্লীলতা বেহায়াপনাকে উস্কে দেয়া হয়, অনুমোদন দেয়া সেই উৎসব ঈমানদার মুসলমানের জন্য কি করে পালিত হতে পারে, কি করেইবা জায়েজ হতে পারে?
আশা করি উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার মাধ্যমে, সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযুক্তকারী, রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম মান্যকারী সরকার এবং সকল অশুভ অসভ্যের প্রচারকারী প্রসারকারীদেরকে বিষয়টা বুঝাতে পেরেছি যে কি কারনে নওরোজ বা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা, এতে সামিল হওয়া, এ উপলক্ষে শুগেছা করা, এ উপলক্ষে হাদীয়া তোহফা বা বোনাস দেয়া দ্বীনদার, ঈমানদার মুসলমানদের জন্য জায়েজ নয়, হালাল নয়। অতএব, কেউ যেনো পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য কোনভাবেই কোন মুসলমানকে বাধ্য করতে না পারে সে বিষয়ে সকলকেই সতর্ক সাবধান হতে হবে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে